২৪ মার্চ ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

চাপ নিয়ে অভ্যস্ত ফ্রাইলিঙ্ক, হেরে হতাশ রিয়াদ

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগ (বিপিএল) টি২০ ইতিহাসে প্রথম কোন ম্যাচ টাই হয়েছে শনিবার। চিটাগং ভাইকিংস ও খুলনা টাইটান্সের মধ্যকার ম্যাচটির ফয়সালা তাই সুপার ওভারে গড়িয়েছে। শেষ পর্যন্ত ফলাফল নির্ধারণী সেই ১ ওভারের খেলায় খুলনাকে ১ রানে হারিয়েছে চিটাগং। এত নাটকীয়তার মূল নায়ক ছিলেন চিটাগংয়ের দক্ষিণ আফ্রিকান অলরাউন্ডার রবার্ট ফ্রাইলিঙ্ক। ক্যারিয়ারের প্রথম সুপার ওভারে ব্যাটিং-বোলিং করলেও জানিয়েছেন কঠিন চাপ নেয়ার ক্ষেত্রে অভ্যস্ত তিনি। অপরদিকে, হাতের মুঠোয় আসা জয় শেষ ওভারে পিছলে যাওয়ায় খুলনা টানা চার ম্যাচ হেরেছে এবং অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ তাই দারুণ হতাশা ব্যক্ত করেছেন। নির্দিষ্ট কাউকে দোষারোপ না করে দলগতভাবে বাজে পারফর্মেন্সকেই দায়ী করেছেন তিনি।

এমন নাটকীয়তা এর আগে বিপিএলের পাঁচ আসরে কিংবা চলমান ষষ্ঠ আসরে কোন ম্যাচেই দেখা যায়নি। খুলনার করা ৬ উইকেটে ১৫১ রানের জবাবে ১৯ ওভারে ৬ উইকেটে ১৩৩ রান তুলে ফেলেছিল চিটাগং। জয়ের জন্য তাদের প্রয়োজন ছিল শেষ ওভারে ১৯ রান। ওই সময় অনিয়মিত মিডিয়াম পেসার আরিফুল হককে বোলিংয়ে আনেন খুলনার অধিনায়ক রিয়াদ। টানা তিন ম্যাচ হেরে যাওয়ার পর জয়টাকে চোখের সামনে দেখতে পাচ্ছিলেন, ভেবেছিলেন কঠিন এই কাজটা চিটাগংয়ের দুই ব্যাটসম্যান নাঈম হাসান ও ফ্রাইলিঙ্ক হয়তো করতে সক্ষম হবেন না। ম্যাচের পরিস্থিতিটাও তেমন ইঙ্গিতই দিচ্ছিল। আরিফুল ওই ওভারটা শুরুও করেছিলেন ডট দিয়ে। কিন্তু দ্বিতীয় বলে ছক্কা হজম করেন নাঈমের কাছে। তৃতীয় বলেই দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে নাঈমকে আউট করেন তিনি। তবে চতুর্থ ও পঞ্চম বলে টানা দুই ছক্কা হাঁকিয়ে ম্যাচ টাই করে ফেলেন ফ্রাইলিঙ্ক। শেষ বলে জিততে প্রয়োজনীয় ১ রান করার জন্য বলে ব্যাট ছোঁয়াতে পারেননি তিনি, তবু রান নিতে গিয়ে হয়েছেন রানআউট। টাই হয়ে যাওয়ার পর সুপার ওভারে ১ উইকেটে ১১ রান করে চিটাগং। ফ্রাইলিঙ্ক নেমে একটি চার হাঁকিয়েছিলেন। তিনিই আবার বোলিংয়ে খুলনাকে আটকেছেন ১০ রানের মধ্যে। ফলে শ্বাসরুদ্ধকর লড়াইয়ে ১ রানের জয় তুলে নেয় চিটাগং। টানা চার ম্যাচ হেরে রিয়াদ বলেন, ‘আমি আজকের (শনিবার) ম্যাচেই বলছিলাম, একটা জয় আমাদের দলকে অনুপ্রাণিত করবে। আমরা যেভাবে খেলছি, তার চেয়ে আরও অনেক ভাল দল আমরা। কিন্তু আমরা তেমন আশানুরূপ পারফর্মেন্স করতে পারছি না, ব্যাটিং-বোলিং, ফিল্ডিং কোন বিভাগে। হতাশাজনক, খুবই হতাশাজনক..।’

আরিফুলকে বোলিংয়ে আনাটাই কি ভুল ছিল রিয়াদের? এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘ওই সময় অফস্পিনটা হয়তবা একটু কঠিন হতো। শেষ ওভারে ১৯ রান, আমি ভাবলাম আরিফ ভাল অপশন। ও হয়ত ওয়াইড ইয়র্কার করবে! কিন্তু হয়নি দুর্ভাগ্যবশত। দুইটা সময় আমাদের ম্যাচ জেতার সুযোগ ছিল। টানা তিনটি ম্যাচ হেরে যাওয়ার পর আজকে ভাল একটি সুযোগ ছিল। কিন্তু আমরা দুইবারই সুযোগটা হারালাম। সুপার ওভারে ১১ রান বড় কোন লক্ষ্য না। এটা তাড়া করার মতো। আমরা করতে পারেনি। এখন টুর্নামেন্টটি আমাদের কঠিন হয়ে গেছে। ৮টা ম্যাচের মধ্যে আমাদের ৫ থেকে ৬টা ম্যাচ জিততেই হবে। এটা অনেক কঠিন।’

অপরদিকে রিয়াদের মুঠো থেকে ম্যাচ কেড়ে নেয়া ফ্রাইলিঙ্ক বলেন, ‘ব্যাটে ভালভাবে এসেছে বল এবং সবকিছু ঠিকমতোই এগিয়েছে। কিন্তু এরপরও আমি বলব যে, আমি কী করেছি কিংবা আমিই করেছি, দল তিন ম্যাচে দুটি জিতেছে এটাতে অবদান রাখতে পেরে খুশি। এমনটা করার জন্য হয়ত আমার আরও সাতদিন লাগবে। এই মুহূর্তে সবকিছু ঠিকমতোই হচ্ছে এবং এই ভাগ্যটা আমার পক্ষে ছিল। পরের খেলায় হয়ত এটা আরেকজন করবে।’ শেষ ওভারে ১৯ রানের চাপ এবং সুপার ওভারে ব্যাটিং-বোলিংয়ের চাপ নিয়ে এ প্রোটিয়া অলরাউন্ডার বলেন, ‘খুব কঠিন ছিল, কারণ এটি আমার ক্যারিয়ারের প্রথম সুপার ওভার। ১১ রান আটকে দেয়ার মতো এবং নিজের ওপর আস্থা ছিল। সাত নম্বরে ব্যাটিং করা এবং পরে বোলিংয়ে আসার পরিস্থিতি আমি অনেকবারই সামলেছি।’