২১ জানুয়ারী ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

অতিথিদের দেখতে অতিথিরা

  • শরিফুল ইসলাম

ঐতিহ্য, সংস্কৃতি আর প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়। ষড়ঋতুর প্রতিটি ঋতুকেই অতি সযত্নে ধারণ করে এখানকার প্রকৃতি। প্রতি বছরের মতো এবারও তাই শীতের আগমনী বার সঙ্গে সঙ্গে এখানে আগমন ঘটেছে হাজার হাজার অতিথি পাখির। তাদের কিচির মিচির শব্দ আর ওড়াওড়িতে মুখরিত এখন পুরো ক্যাম্পাস। অতিথিদের ঘুম ভাঙ্গানি কলরবে প্রতিদিন সকালের কম্বল জড়ানো ঘুম ভাঙছে ক্যাম্পাসের শিক্ষার্থীদের। ছোট বড় মিলিয়ে জাবির ডজনখানেক লেকে ফুটে উঠেছে প্রচুর লাল পদ্মফুল। লেকের স্বচ্ছ পানিতে সারাদিন জলকেলিতে মেতে থাকছে অতিথি পাখিরা। ইট কাঠের নগরীর পাশে এসব মনোমুগ্ধকর দৃশ্য ঘুরে দেখতে চাইলে আপনাকে আসতে হবে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের পাশেই অবস্থিত জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে।

ক্যাম্পাসের পাখি পর্যবেক্ষক ও গবেষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, শীতপ্রধান দেশের পাখিরা তীব্র শীত থেকে বাঁচতে প্রতিবছর পাড়ি জমায় বিভিন্ন নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলে। এ সময় হাজার হাজার পাখি দক্ষিণ এশিয়ার নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চল বাংলাদেশে আসে। আশ্রয় নেয় হাওড় এলাকার জলাশয়গুলোতে। প্রতি বছর শীতকালে অর্থাৎ নবেম্বর-জানুয়ারিতে পাখিরা আসে, আবার মার্চের শেষ দিকে ফিরে যায় আপন ঠিকানায়। জাবি ক্যাম্পাসে আসা অতিথিদের মধ্যে বেশিরভাগই হাঁসজাতীয় ও জলচর। এর মধ্যে সরালি, গার্গেনি, ফ্লাইফেচার, পচার্ড, ছোট জিরিয়া, মুরগ্যাধি, কোম্বডাক ও পাতারি অন্যতম। এছাড়া আছে মানিকজোড়, কলাই, ছোট নগ, জলপিপি, নাগতা, খঞ্জনা, চিতাটুপি, লাল গুরগুটি, লেঞ্জা, বালি, নক্তা, ভূঁতি হাঁস প্রভৃতি।

জাবির এই অতিথিদের দেখতে ক্যাম্পাসে প্রতিদিনই ঘুরতে আসছে পাখি ও প্রকৃতিপ্রেমী শৌখিন ও পেশাদার আলোকচিত্রী, দর্শনার্থী এবং দেশী-বিদেশী পর্যটকরা। এ যেন অতিথিদের দেখতে অতিথিরা! বন্ধু-বান্ধুবী কেউবা আবার ছেলেমেয়ে, পরিবার-পরিজন নিয়ে ঘুরতে আসছে এখানে। তাদের আনন্দময় পদচারণায় ক্যাম্পাস জুড়ে বিরাজ করছে উৎসবমুখর পরিবেশ। আর এই দর্শনার্থী অতিথিদের আপ্যায়ন করতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন ক্যাম্পাসের পিঠা চত্বর এলাকার পিঠা বিক্রেতারা। ভোর থেকে শুরু করে রাত পর্যন্ত চলছে তাদের অবিরাম পিঠা বানানোর কাজ। চিতই, ভাপা, পাটিসাপটা, মোরগ পিঠা, মাংস পিঠা, ফুল পিঠা, ঝাল পিঠা, মিষ্টি পিঠা এসব হরেক নাম আর বাহারী স্বাদের পিঠা খেয়ে মুগ্ধ হচ্ছেন ঘুরতে আসা অতিথিরা। বাবা-মায়ের সঙ্গে ঘুরতে আসা জিরাবো সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণীর ছাত্রী রিমির কাছে জানতে চাইলে সে পাখির ডানার মতো দু’হাত মেলে দিয়ে বললো, ‘আমি এত্তগুলো পাখি দেখেছি আর অনেক মজার মজার পিঠা খেয়েছি।’ রিমির বাবা স্কুল শিক্ষক সানোয়ার হোসেন বললেন, ‘প্রতি শীতেই আমরা এখানে ঘুরতে আসি। শীতকালে জাহাঙ্গীরনগরে ঘুরতে না আসলে কোথায় যেন শীতকালের একটা অপূর্ণতা থেকে যায়।’ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা বিভাগের ১ম বর্ষের ছাত্রী নন্দিতা সরকার বেশ উচ্ছ্বসিত হয়ে বলেন, ‘প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী হিসেবে এবারই প্রথম জাহাঙ্গীরনগরে একসঙ্গে এত অতিথি পাখি দেখার সৌভাগ্য হয়েছে। আনন্দটা ভাষায় প্রকাশ করার মতো না।’

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের শিক্ষক ও পাখি গবেষক মো. কামরুল হাসান জানান, এরই ধারাবাহিকতায় এবার পাখি সংরক্ষণে সচেতনতা বাড়ানোর লক্ষ্যে জানুয়ারি মাসের শেষ সপ্তাহে আয়োজন করা হবে পাখি মেলার।

নির্বাচিত সংবাদ