১৯ জানুয়ারী ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

নারায়ণগঞ্জে পুলিশ ও গ্রামবাসীর মধ্যে সংঘর্ষে আহত ১৫

স্টাফ রিপোর্টার, নারায়ণগঞ্জ ॥ নারায়ণগঞ্জের বন্দরে আসামি ধরতে গেলে পুলিশের সঙ্গে আসামিপক্ষের লোকজন ও গ্রামবাসীর সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় পুলিশের সঙ্গে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া সংঘর্ষে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। এতে পুলিশসহ আহত হয়েছে ১৫ জন। এ সময় পুলিশের দুটি গাড়ি ভাংচুর করা হয়। আহতদের উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। শনিবার রাত সাড়ে ৯টায় উপজেলার চাঁনপুর এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। এদের মধ্যে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় বাবুল নামের একজনকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

এলাকাবাসী ও পুলিশ জানায়, শনিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে পুলিশের একটি দল উপজেলার মদনপুরের চাঁনপুর এলাকায় আসামি ধরতে যায়। এ সময় স্থানীয় ইউপি সদস্য খলিলুর রহমান সমর্থক মামলার আসামি দিপু ও সুজনকে আটক করে পুলিশ। এ সময় খবর পেয়ে দিপু ও সুজনের সহযোগী ও এলাকার লোকজন টেঁটা, বল্লম ও বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে এবং আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে পুলিশের ওপর হামলা চালায়। এ সময় পুলিশের সঙ্গে সন্ত্রাসীদের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। এক পর্যায়ে তারা আটক আসামি দিপু ও সুজনকে হামলা চালিয়ে ছিনিয়ে নেয়। ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া সংঘর্ষে পুলিশের এসআই মোহাম্মদ আলী, কনস্টেবল দেবাশীষ, কনস্টেল মনোয়ার, মোহনসহ ১৫ জন আহত হয়। পুলিশের ছোড়া গুলিতে বাবুল (২২) নামের এক যুবককে গুরুতর অবস্থায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। পরে অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে আহতদের উদ্ধার করে এবং রিফাত ও নুরনবী নামের দুই জনকে গ্রেফতার করে। সংঘর্ষে পুরো এলাকায় রণক্ষেত্র সৃষ্টি হয়। এ সময় স্থানীয়রা পুলিশের ২টি গাড়ি ভাংচুর করে। ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া সংঘর্ষে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক প্রায় আধাঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ১৫ রাউন্ড শর্টগানের ফাঁকা গুলি ছুড়েছে। ঢাকা মেডিক্যাল পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক বাচ্চু মিয়া জানান, বাবুল নামের একজন গুলিবিদ্ধ অবস্থায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। পুলিশ জানায়, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে গত ১৮ নবেম্বর স্থানীয় ইউপি সদস্য খলিলুর রহমানের সঙ্গে আমির হোসেনের বিরোধকে কেন্দ্র করে দু’পক্ষের পাল্টাপাল্টি মামলা হয়। ওই মামলা পুলিশ দুই আসামিকে গ্রেফতার করতে গেলে আসামিপক্ষের লোকজন ও এলাকাবাসী পুলিশের ওপর হামলা চালালে এই ঘটনা ঘটে।

বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজাহরুল ইসলাম বলেন, হামলায় পুলিশের বেশ কয়েজন সদস্য আহত হয়েছে। এ সময় পুলিশের দুটি গাড়ি ভাংচুর করেছে। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ৮ রাউন্ড শর্টগানের গুলি ছুড়েছে। পুলিশ এই ঘটনায় দুজনকে জনকে আটক করা হয়েছে।