২০ ফেব্রুয়ারী ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

এতক্ষণে কহিলা বিষাদে

  • জাফর ওয়াজেদ

বিএনপি-জামায়াত জোটকে ক্ষমতায় এনে দেবেন, এমন স্বপ্নই দেখিয়েছিলেন ডক্টর কামাল হোসেন গং। তাদের সঙ্গে গোপনে তাল মিলিয়েছিলেন কতিপয় বিদেশী কূটনীতিক। কিন্তু সেই স্বপ্ন ভঙ্গের ইতিহাস এখনও সতেজ এবং টাটকা। জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক কামাল হোসেন নির্বাচনকালীন প্রবাসের সেই ‘গরু হারালে এমনই হয় গো মা’ পর্যায়ে নেমে গিয়েছিলেন। কিন্তু গরু আর ফিরে না পাওয়ায় মস্তিষ্কের কোটরে তার ‘জ্যাম’ লেগে গেছে। জামায়াত-বিএনপিসহ ঐক্যফ্রন্টের সরকার গঠনে এতই নিমগ্ন হয়ে পড়েছিলেন যে, যাকে খুশি তাকে হুমকি-ধমকি দিতে কসুর করেননি। তার এসব স্বভাববহির্ভূত উন্মাদনার তোড়ে ভোটাররা বুঝে গেছে তিনি সুতোর ওপারে দাঁড়িয়ে, যেখান থেকে যা খুশি তাই বলার রয়েছে অধিকার। বলেছেনও তাই। বাংলাদেশে এমনিতেই শীতকালে পাগলের সংখ্যা বাড়ে। আর শীতের নির্বাচনে গায়ে গরম পোশাক চড়িয়ে বক্তৃতা- বিবৃতিতে তিনি বেশ সুখে ঝিমিয়ে, হঠাৎ জেগে ওঠে ক্ষমতার মসনদে বসে আছেন ভেবে ভাষ্য যা দিতেন, তাতে সাধারণ মানুষের মনেও সঞ্চারিত হয়েছে এক ধরনের ভীতি। ক্ষমতায় গিয়েই খালেদার মুক্তি, দ-িত ও পলাতক তারেককে দেশে ফিরিয়ে এনে ক্ষমতায় বসানোর যে স্বপ্ন তিনি দেখিয়েছিলেন দেশবাসীকে বিএনপি-জামায়াতকে ক্রোড়ে বসিয়ে, তাতে জনগণ শঙ্কিত হয়েছিল যে-এই ফাঁকে কারাগারে হাজতী বা দন্ডপ্রাপ্ত জঙ্গী, সন্ত্রাসী, ধর্ষক, বোমাবাজরাও জেল থেকে বেরিয়ে আসবেন ‘আমরা শক্তি, আমরা বল’ গান গাইতে গাইতে। তার চেয়েও শঙ্কা বেশি জেগেছিল যখন তিনি শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগসহ মহাজোটকে কঠোর শাস্তি দেবেন বলে বার বার ঘোষণা দিয়ে বলেছিলেন, এমন শাস্তি দেব, যা তাদের কল্পনার বাইরে। শূলে চড়াতেন কিনা জানি না, কিংবা গ্যাস চেম্বারে মেরে ফেলার মতো কঠোর শাস্তি তিনি দিতে পারেন যদি বিচারকের আসনে বসতেন। আইনজীবী হিসেবে তিনি তার জীবনে সহস্রাধিক মামলা পরিচালনা করেছেন, সওয়াল-জওয়াব চালিয়েছেন। কিন্তু বিচারক হিসেবে রায় দেয়ার এখতিয়ার তার ছিল না। তিনি সে পথ মাড়াননি। বরং রাজনীতির মঞ্চে বিএনপি-জামায়াতকে প্রাণের সখা বানিয়ে দ-মু-ের কর্তা সেজে কতশত হম্বিতম্বিই না করেছেন। লন্ডন থেকে যখন প্রার্থী মনোনয়ন দেয়া হলো ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে তখন সেখানে ফ্রন্টের আহবায়ক কামাল হোসেনকে দেখা যায়নি। লন্ডন থেকে প্রার্থী বাছাই করার নামে মনোনয়ন বাণিজ্য চালানো হয়েছে। তিন শ’ আসনে আট শ’ প্রার্থী মনোনয়নদানের মাধ্যমে দলে এক ধরনের অস্বাভাবিক অবস্থা তৈরি করে ‘লেজে গোবরে’ দশা করেছিল। এলাকাবাসী বুঝতেই পারেনি, কোন্জন দলীয় প্রার্থী। দলের ব্যবসায়ীরা গত দশ বছর শান্তিতে ব্যবসা-বাণিজ্য চালিয়েছে। ব্যাংক থেকে ঋণ পেয়েছে। কিন্তু সেই ঋণ শোধ করতে আগ্রহী ছিল না জিয়া, এরশাদ, খালেদা যুগের অভ্যাসের কারণে। ‘মানি ইজ নো প্রবলেম’ দলের অনুসারীদের আর্থিক সঙ্কট ঘুচিয়ে দিয়ে গেছেন তাদের পূর্বসূরি সামরিক জান্তারা। তাই শেখ হাসিনা সরকারের আমলেও তারা ব্যাংক থেকে কোটি কোটি টাকা ঋণ নিয়েছেন, কিন্তু শোধ করার ধারায় যাননি। ফলে দলে ঋণ খেলাপী, বিল খেলাপীর সংখ্যা কম ছিল না। জানার পরও তাদের মনোনয়ন দেয়া উদ্দেশ্য প্রণোদিত বৈকি। আবার বোমা মেরে মানুষ হত্যাসহ নানা অপকর্মের দায়ে মামলার শিকার হয়েছে যারা তারা গ্রেফতার এড়াতে পলাতক রয়েছেন। জামায়াতকে ধানের শীষ ইজারা দিয়ে তাদের প্রার্থী করা হয়েছে। নির্বাচনকালে হাঁকডাক পারলেও নির্বাচনী কেন্দ্রে পোলিং এজেন্ট সরবরাহ করতে পারেননি। এমনকি সকালে ভোট কেন্দ্রে গিয়ে ভোট প্রদান ও কেন্দ্র পাহারাদারের কথা বার বার দলীয় কর্মী ও অনুগতদের প্রতি আহ্বান জানালেও তারা কেউ তার ডাকে সাড়া দেয়নি। বিএনপি-জামায়াত পুনর্বাসনের যে প্রকল্প নিয়েছিলেন কামাল হোসেন তাতে অর্ধেক সফল হয়েছেন তিনি। নিজে যেমন দুটি আসন পেয়েছেন তেমনি বিএনপিকে ৭টি আসন তুলে দিতে পেরেছেন। এটা কি কম সাফল্য? যেখানে ‘জনগণ’ তার কথাবার্তায় অসন্তুষ্ট, অসহিষ্ণু হয়ে উঠেছিলেন, তাতে তো ভোট তাদের পক্ষে পড়ার কথা নয়। ভোটাররা সকালেই ভোট দিতে কেন্দ্রে গেছেন। লাইন ধরে ভোট দিয়েছেন। স্বয়ং কামাল হোসেন যে কেন্দ্রে ভোট দিতে গেছেন সেই ভিকারুননিসা নূন স্কুল ও কলেজে শান্তিপূর্ণ পরিবেশেই দিয়েছেন। কোথাও কোন অনিয়ম, হাঙ্গামা বা ভোটারবিহীন অবস্থা তিনি দেখেননি। হাসি হাসি মুখে তিনি ভোট কেন্দ্র থেকে বেরিয়ে টিভি ক্যামেরার সামনে বিজয়ীর ভঙ্গিতে বক্তব্য দিয়েছেন। বুঝেছিলেন, তার ডাকে ‘জনগণ’ ব্যাপক সাড়া দিয়ে সকালেই ভোট কেন্দ্রে হাজির হয়েছে। তখনও তিনি টের পাননি ‘জনগণ’ বিএনপি-জামায়াত সমর্থিত ঐক্যফ্রন্টের আচার-আচরণ, হুমকিধমকি, প্রার্থী মনোনয়ন নিয়ে কেলেঙ্কারি, ফোনালাপে নেতাদের নানাবিধ চক্রান্ত, ষড়যন্ত্র ভাইরাল হয়ে দেশ-বিদেশে নানাবিধ প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। উন্নয়নবিরোধী অবস্থানে দেখে জনগণ তাদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে দেশে বসবাসরত মানুষ যে আরও শান্তি, আরও স্বস্তি এবং নির্বিঘ্নে দু’বেলা দুমুঠো অন্নধারণ করতে পারে, ভোটের লাইনে দাঁড়িয়ে তারা হয়ত তাই ভাবছিল। ভোট কেন্দ্রে হাঙ্গামা, সংঘর্ষ হতে পারে বলে যে শঙ্কা, সংশয় কামাল হোসেন গং জনমনে সঞ্চার করেছিলেন তাতে তাদের অনেক ভোটারই কেন্দ্রে আসেনি। এমনকি এজেন্ট হতেও কেউ রাজি হয়নি। তারা কোন এজেন্টের নামও প্রকাশ করতে পারেনি। নির্বাচনে ঐক্যফ্রন্ট কিছু ইতিবাচক কৌশল নিলেও অনেক সিদ্ধান্ত যে ভুল ছিল তা তাদের ফ্রন্টভুক্ত কর্মীরা উপলব্ধি করেছিল। নির্বাচনে ধর্ম, ভারতীয় জুজুর ভয়, দেশ বিক্রি, সাম্প্রদায়িকতা; যা ছিল খালেদা-তারেকের অতীতে ভোট পাওয়ার মূল মন্ত্র এবং জনগণকে বিভ্রান্ত করার শয়তানি চাল তা এবার প্রয়োগ করা যায়নি। ভারত বিরোধীতাই যাদের রাজনীতির মূলমন্ত্র, সেই মন্ত্র উচ্চারিত না হলে জামায়াতসহ ২০ দলীয় জোট নেতাকর্মীরা উদ্বুদ্ধ হবেন কেমন করে। তাদের প্রাণে নাচন লাগানো ঠাকুরমার ঝুলির মতো ম্যাডামের ঝুলিতে থাকা দেশ বিক্রির গল্প বা মসজিদে উলুধ্বনি নামক পরাবাস্তব বিষয় নির্বাচনী প্রচারে উচ্চারিত না হবার কারণে পাকিস্তানী মানসিকতাজাত বাঙালীর পক্ষে ভোট কেন্দ্রে যাবার মতো উন্মাদনা যে জাগেনি, তা এখন তারা বুঝতে পারছেন। এই যে যুদ্ধাপরাধীর দল জামায়াতে ইসলামী ‘দাঁড়িপাল্লার’ পরিবর্তে ধানের শীষ মার্কা নিতে পেরেছে তা তো কামাল হোসেনেরই অবদান। ডক্টর হোসেনের তো জানা, জামায়াত বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরুদ্ধে সশস্ত্র যুদ্ধ করেছে। গণহত্যা চালিয়েছে। ধর্ষণ, লুটপাট, অগ্নিসংযোগসহ মানবতাবিরোধী এমন কোন অপরাধ নেই তারা তা করেনি। তাই যে সংবিধান ১৯৭২ সালে প্রণীত হয়েছিল সেই কমিটির সদস্য হিসেবে তিনিও তো সংযোজন করেছেন সাম্প্রদায়িক ও ধর্মভিত্তিক রাজনীতি নিষিদ্ধ হিসেবে। সেই তারা পঁচাত্তর পরবর্তী পুনর্বাসিত হলেও এখনও বাংলাদেশ এবং সংবিধান মানে, তা নয়। যদি সংবিধানকে মেনে নিত, তাহলে রাজনৈতিক দল হিসেবে নিবন্ধনহীন হতো না। তাদের গঠনতন্ত্র ও ঘোষণাপত্র সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলেই নির্বাচন কমিশন নিবন্ধন দেয়নি। তারা বিষয়টি নিয়ে আদালতে গেলে আদালত নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের পক্ষে রায় দিয়েছে। যে সংবিধান প্রণয়নে জড়িত থাকা নিয়ে ডক্টর কামাল সব সময় গর্ব প্রকাশ করেন সেই সংবিধান না-মানাদের নির্বাচনে অংশ নেবার পথ তিনিই সুগম করে দিয়েছিলেন। বিএনপিদলীয় সদস্য না হবার পরও ২২ জনকে ধানের শীষ প্রতীক প্রদান নিয়ে তিনি তখন সামান্য আপত্তিও করেননি। বরং জামায়াতীদের মতো তিনি তার দল গণফোরামের প্রার্থীদের জন্য ধানের শীষ মার্কা নিয়েছিলেন। আর কামাল হোসেনের সেই সংবিধানকে যারা কাঁটাছেড়া করে এমআর আখতার মুকুলের চরমপত্রের ভাষায় ‘ছেড়াবেড়া’ করেছেন, তিনি তাদের সঙ্গেই জোট করেছিলেন। ফ্রন্টের সমাবেশে কামাল গং যখন ‘জয়বাংলা’ বলেছেন তখন একই মঞ্চে ‘বিএনপি-জামায়াত’রা বাংলাদেশ জিন্দাবাদ বলে ধ্বনি দিয়েছে। এতে বিভ্রান্তি বেড়েছে তাদের ভোটারের মধ্যে। তবে একটা বিষয়ে তারা একটি দ-ে একাত্ম হয়েছিলেন- তা হচ্ছে, বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার বিনাশ সাধন। গ্রেনেড হামলা চালিয়ে হত্যার প্রচেষ্টায় ব্যর্থ তারেক গংয়ের সঙ্গে কামাল হোসেন গং এই একটি জায়গায় প্রাণ পেয়েছিল। আর সেই প্রাণতরঙ্গ এমনই উচ্ছ্বসিত করেছিল কামাল হোসেনকে যে ‘পালের গোদা’ বানিয়ে হাসিনা নাশে একাট্টা হয়েছিলেন। আওয়ামী লীগ বা শেখ হাসিনা দেশকে অগ্রগতি, সমৃদ্ধি ও উন্নয়নের যে অবস্থানে নিয়ে গিয়েছেন, তা কামাল, তারেক-জামায়াতের চোখের বিষ বলি আর চোখের বালিই বলি; সেসব ধ্বংস না করা পর্যন্ত তাদের যেন ঘুম হারাম। কোনভাবেই শান্তি ও স্বস্তি পাচ্ছেন না। তথ্যপ্রযুক্তির বিস্তারে সমৃদ্ধ দেশের জনগণ ডিজিটালাইজেশনের কল্যাণে বিশ্বকে হাতের মুঠোয় নিয়ে এসেছে বলা যায়, সেই তারা কামাল গংয়ের কোন বক্তব্য, ভাষণে আস্থা পায়নি। ভোটাররা বুঝেছে, এরা প্রতিহিংসাপরায়ণ। তাই পেট্রোলবোমা মেরে জীবন্ত মানুষ হত্যা করতে পেরেছে। যে হত্যার বিরুদ্ধে কামাল হোসেন আজও ‘স্পিকটি নট।’

কামাল হোসেনকে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন আইনজীবী বলা হয় কি কারণে, জানা নেই। বিদেশে কাজ করলেই যে আন্তর্জাতিক হওয়া যায়, জানা ছিল না। বিদেশী তেল কোম্পানিগুলোর ‘লবিস্ট’ হিসেবে তিনি হয়ত দক্ষ, অভিজ্ঞ। কিন্তু স্বদেশে এমন কি মামলা পরিচালনা করেছেন, যা তার খ্যাতি এনে দিয়েছে? আদালত বিষয়ক দুই ঝানু সাংবাদিককে জিজ্ঞেস করেছিলাম, তারা তা স্মরণও করতে পারেননি। তবে যতদূর মনে পড়ে, আশির দশকে এরশাদবিরোধী রাজনৈতিক মামলাগুলোতে অন্য খ্যাতিমান আইনজীবীদের সঙ্গে একযোগে লড়ে জয়ী হতে পেরেছিলেন। সেই কামাল হোসেন দেশে এতই জনপ্রিয় যে, তার নির্দিষ্ট কোন ভোট কেন্দ্র নেই। তাই তাকে অতীতে অন্য এলাকা থেকে নির্বাচন করে জামানতও হারাতে হয়েছে। কথিত সুশীল এবং একদা বামরা কামাল হোসেনকে প-িত হিসেবে মনে করেন। অবশ্য স্বাধীনতা পরবর্তী বামরা কামাল হোসেনকে ‘সিআইএ’র এজেন্ট বলতে কসুর করেনি। আবার সেই কামালের নেতৃত্বে বামদের একটা বড় অংশ ঐক্যবদ্ধ হয়েছিল। কিন্তু কারও সঙ্গেই কামাল হোসেনের ‘মধুরেণ সমাপয়েত’ হয়নি। বিএনপি-জামায়াতের সঙ্গেও বেশিদিন বসবাস দুরূহ হবে। জামায়াতের কোন সদস্য নির্বাচিত না হওয়ায় মনোবেদনাক্রান্ত কামাল হোসেন এখন বলছেন, ঐক্যফ্রন্টে জামায়াতকে নেয়া ভুল ছিল। বিএনপি এসব কথা সহ্য করতে পারে না। কারণ, ‘জামায়াত হচ্ছে একই মায়ের পেটের আপন ভাইতুল্য’ বিএনপির কাছে। কামাল হোসেনকে বিএনপি আপাত নেতা মেনেছে। তার অর্থ এই নয় যে, জামায়াতকে ত্যাগ করবে। ভোট নিয়ে ‘রাজ চালাকি’ হয়েছে বলে কামাল হোসেনের মন্তব্য প্রহসনের নামান্তর। বরং জামায়াত নিয়ে তিনি যা করেছেন, যা বলছেন তা ‘কামাল-চালাকি’ বৈকি। এদেশের মানুষের ঘৃণার সারিতে জামায়াত নামটি আষ্টেপৃষ্ঠে লেগে আছে। নির্বাচনে তাদের ফ্রন্টে নেয়া জনগণ সহজভাবে নেয়নি। বরং ক্ষুব্ধ হয়েছে। তাই ভোটাররা ঐক্যফ্রন্ট থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। রাজ চালাকির কিস্সা-কাহিনী ছড়িয়ে রাজনীতির মাঠে টিকে থাকতে পারবেন আরও কিছুদিন। তবে তার ভবিষ্যত নির্ভর করছে বর্তমান সরকারের সদয় আচরণের ওপর। কামাল হোসেন আবারও সংলাপ চেয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সঙ্গে সঙ্গে বলেছেন- যাদের সঙ্গে সংলাপে ১৪ দল বসেছিল তাদের সঙ্গে আবার সংলাপ হতে পারে দেশকে এক সঙ্গে এগিয়ে নেয়ার জন্য। কামাল হোসেন গং এ সংলাপে যোগ দিলে স্পষ্ট হবেন ‘রাজ চালাকি’ কোথায়? আর জামায়াতকে নিষিদ্ধ করতে সরকার যে আইন করতে যাচ্ছে, তাতে নিশ্চয় তিনি আইনগত সহায়তা দেবেন। নির্বাচনে ভরাডুবির পর কামাল হোসেন এখনও সক্রিয় রয়েছেন, এটাও কম নয়। তবে বোধোদয় তার হচ্ছে বিলম্বেই। তার এখনকার বক্তব্য শুনে মাইকেলের মেঘনাদবধ কাব্যের সেই আলোচিত লাইন মনে আসছে- ‘এতক্ষণে অরিন্দম কহিলা বিষাদে’! কবির কাছে ক্ষমাপূর্বক বলতে পারি, এতক্ষণে কামাল গং কহিলা বিষাদে!

নির্বাচিত সংবাদ