২১ এপ্রিল ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ঢাকার দিনরাত

  • মারুফ রায়হান

ঢাকা কি কেবল দুঃসংবাদের শহর? নিশ্চয়ই তা নয়। তবু সপ্তাহের বিশেষ কোন সুসংবাদ জানাতে প্রায়শ আমরা ব্যর্থ হই। এই ঢাকা হচ্ছে কোটি শ্রমজীবী মানুষের জীবন-জীবিকার। শ্রমিক শব্দটি প্রয়োগ করছি বৃহত্তর অর্থে। পোশাক শিল্পের শ্রমিক, যিনি মজুরি বৈষম্য অবসান এবং ন্যায্য মজুরির জন্য প্রতিবাদ করছেন তিনি যেমন শ্রমিক, তেমনি আমরা যারা সংবাদপত্রের পাতায় লিখছি দুকলম, তারাও শ্রমিক, শব্দশ্রমিক। শ্রম দান করেন যিনি তাকে নিশ্চয়ই শ্রমিক বলা যেতে পারে। তাই প্রতিদিন প্রতিটি শ্রমিকের কাজ করে যাওয়া এবং পরেরদিন আবার কাজে নিয়োজিত হওয়া- এর মাঝখানে যৎসামান্য তার নিজের সময়Ñ সেটুকু স্বপ্ন আর আশা নিয়েই তার নিঃশ্বাস গ্রহণ। বিষয়টি সুন্দর, সন্দেহ নেই। কিন্তু এই সুন্দরতার বিপরীতে ঢাকায় তৈরি হয়ে চলেছে বিরামহীন দুঃসংবাদ।

খুব কম ব্যক্তিই আছেন যারা দীর্ঘদিনের ঢাকাবাসে একবারের জন্য হলেও নিজে ছিনতাইকারীর পাল্লায় পড়েননি, কিংবা ছিনতাই হতে দেখেননি। এই গত মাসেও যেটিকে আমরা বলছিলাম অভিনব পদ্ধতিতে ছিনতাই, সেটিও এক মাসের ব্যবধানে ‘ডালভাত’ হয়ে গেছে। নতুন নতুন অভিনবত্ব দিয়ে ছিনতাইকারীরা ঢাকাবাসীকে ‘বিস্ময়াভিভূত’ করে রাখছে। এই তো সেদিন একদল ছিনতাইকারী রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে মাইক্রোবাস বা প্রাইভেটকার নিয়ে ছিনতাই করত। অফিস ছুটির পর বাড়ি ফেরার জন্য অপেক্ষমাণ ব্যক্তিকে টার্গেট করে তারা গাড়িতে তুলে নিত, আর গণপরিবহনের স্বল্পতা ও নৈরাজ্যের এই শহরে মানুষ উপয়ান্তর না দেখে বিশ্বাসবশতই উঠে পড়ত সেসব গাড়িতে। যাতে ঝামেলাহীনভাবে নিজ গন্তব্যে পৌঁছুতে পারে। আগে থেকেই ছিনতাইকারীদের সহযোগীরা গাড়িতে থাকত। পরে নির্জন কোন স্থানে নিয়ে যাত্রীকে চোখ-মুখ বেঁধে মারধর করে সঙ্গে থাকা মোবাইল ফোন, মানিব্যাগ, এটিএম কার্ড ও নগদ টাকা-পয়সা কেড়ে নেয়ার অপকর্ম সারত। এছাড়া যাত্রীকে জিম্মি করে তার স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিকাশ বা রকেটের মাধ্যমে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিত। এ রকম একটি চক্রকে পাকড়াও করে পুলিশ। এ সপ্তাহে আরেক ধরনের চালাকির তথ্য পাওয়া গেল। রিক্সাযাত্রী নারীকে থামিয়ে ছিনতাইকারীরা সমাজসেবকের ভান করে গৃহকর্মীদের (বুয়া) জন্য বরাদ্দ কিছু অর্থ গ্রহণের অনুরোধ করেছিল আরোহিনীকে। একটি দাতব্য প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে এলাকায় এ ধরনের কার্যক্রম চলছে বলে জানায় তারা। কিছুক্ষণ পর আরও দুই যুবক ঘটনাস্থলে এসে রিক্সাযাত্রী মহিলাকে বলে যে স্বর্ণের গহনা আপনার ব্যাগে রাখুন, তা না হলে মনে হবে আপনি ধনী। আপনার গৃহকর্মীকে আমাদের টাকা দেয়ার দরকার নেই। ওদের কথামতো গহনা খুলে ব্যাগে রাখার সঙ্গে সঙ্গে একজন ব্যাগ নিয়ে দিলো চম্পট। আরেকজন তাকে ধাক্কা দেয়। তারপর সবাই পগার পার। পরে অবশ্য অভিযান চালিয়ে পুলিশ তাদের গ্রেফতার করে। ছয়জনের এই দলটি ছয় বছর ধরে নতুন নতুন সব কায়দায় ঢাকায় ছিনতাই করে আসছিল। চাকু আর চাপাতিও উদ্ধার করা হয়েছে তাদের কাছ থেকে।

মাংসের কারবার

পশুপাখিদের সঙ্গে নির্দয় আচরণ করা হলে তার জন্য আইনানুগভাবে শাস্তি বিধানের ব্যবস্থা আছে। একসঙ্গে আট-দশটি মুরগির পা দড়ি দিয়ে বেঁধে উল্টো করে নিয়ে যাচ্ছেন একজন মুরগি ব্যবসায়ী। ব্যথায় মুরগিগুলো কোঁকাচ্ছে, ছটফট করছে। মানুষের কাছে এ দৃশ্য নতুন নয়। ব্যবসায়ী বা ক্রেতা কেউ মুরগির এই আর্তনাদ আমলে নেন না। তাঁরা জানেনও না এটি দণ্ডনীয় অপরাধ। আর যাঁরা জানেন, তাঁরাও আইনটি প্রয়োগ করেন না।

জীবজন্তুর প্রতি নিষ্ঠুরতা আইন, ১৯২০-এর ৪(খ) ধারায় জীবজন্তুর প্রতি নিষ্ঠুরতাসহ হত্যার জন্য শাস্তির বিধান রয়েছে। এখানে জীবজন্তু বলতে গৃহপালিত বা আটককৃত জন্তুকে বোঝানো হয়েছে। এই আইনে বলা আছে, ‘কোন লোক যদি কোন জন্তুকে এমনভাবে বাঁধিয়া রাখে, যাহাতে জন্তুটি কষ্ট পায় বা জন্তুটি যন্ত্রণা ভোগ করে। এই অপরাধের জন্য এক শ’ টাকা জরিমানা কিংবা অনুর্ধ তিন মাস পর্যন্ত কারাদণ্ড বা উভয়দণ্ডে দণ্ডিত করা হইবে।’ গণমাধ্যমে বিষয়টি আবারও জোরালোভাবে এলো।

যা হোক, খোলাবাজারে মাংস বিক্রি হয়ে থাকে। আবার সুপারশপেও তা বিক্রি হয়। এ বিষয়ে আমার সাবেক সহকর্মী হাসান মামুন সুন্দর লিখেছেন ফেসবুকে। তা তুলে ধরছি- ‘কাটা মাংসের ছবি ফেসবুক বা অন্য কোথাও দেয়ার ইচ্ছা নেই। মাংস কিনে পলিথিন ব্যাগে ভরে সবাইকে দেখিয়ে আনতেও কেমন যেন লাগে। এক্ষেত্রে কালার পলিব্যাগের প্রচলন হওয়া উচিত মনে হয়। গরু বা খাসির মাংস রাস্তার ধারে ঝুলিয়ে বিক্রি করাটাও ক্রমে বন্ধ হওয়া দরকার। মাংস যেমন তেমন; পশুর ঝুলিয়ে রাখা কাটা মাথা থেকে গড়িয়ে পড়া রক্ত, তার খোলা চোখ, লোহার আংটায় ঝুলতে থাকা কলজে-ফুসফুস আর হৃৎপিণ্ড দেখতে কি ভাল লাগে বলুন?

এরই মধ্যে মেগাশপ ‘স্বপ্নে’র বিজয়নগর শাখায় গিয়ে অবশ্য ভাল লাগল দেখে যে, তারা মহিষের মাংস বিক্রি করছেন এবং সেটা আলাদা করে, ভিন্ন দামে। কসাইখানায় ঢুকে মহিষগুলো গরু আর ভেড়াগুলো ছাগল হয়ে যায়- এ অভিযোগ তো অনেক পুরনো। কাপ্তানবাজারে অবশ্য কিছু দোকানে মহিষের মাংস আলাদা করেই বিক্রি হতে দেখেছি। ইতিপূর্বে এটা লেখাও হয়েছে বোধহয়।

যা হোক, সে অভিজ্ঞতার কথা বেশ আগে জানিয়েছিলাম বিজয়নগর স্বপ্নতেই, এর তত্ত্বাবধায়ককে। ওতেই কাজ হয়েছে, এমন দাবি করাটা হালকামি ও বোকামি দুটোই হবে। বরং বলব, আমার মতো আরও ক’জন ক্রেতা হয়ত তাদের বলেছিলেন, গরু-মহিষ দুটোই আলাদা করে বিক্রি করতে তো পারেন! যার যেটা দরকার, নেবেন। এমনও হতে পারে, তারা নিজ থেকেই এমন উদ্যোগ নিয়েছেন মার্কেট রিসার্চ করে। সাধারণ অভিজ্ঞতা থেকেও উদ্যোগটি নিয়ে থাকতে পারেন।

কারণ যা-ই হোক, ঘটনাটা ঘটেছে ভাল। স্বচ্ছভাবে ব্যবসার একটা উদাহরণ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে এক্ষেত্রে। এটুকু অন্তত হয়েছে যে, ওখানে আগে শুধু গরুর মাংস বিক্রি হতো; এখন মহিষেরও হচ্ছে। দামটাও দেখা যাচ্ছে উল্লেখযোগ্যভাবে কম। এ সুবাদে এখানে গরু-মহিষের মাংসের গুণাগুণ নিয়ে তুলনামূলক আলোচনাও ওয়াকিবহালরা চাইলে করতে পারেন।’

বিবাহ কাহিনী

বিয়ের মৌসুম শেষ হয়নি ঢাকায়। বরং জোরেশোরে চলছে। বলা যেতে পারে মহাসমারোহে। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য কয়েকটা দিন সাবধানীরা এড়িয়ে গেছেন এ ধরনের আয়োজন করা থেকে। এখন মহাধুমধামে চলছে বিয়ে উৎসব। প্রথমেই বলে রাখি এখনকার দিনে বিয়ের প্রতিটি মুহূর্তেও ডকুমেন্টেশন যেন চাই বর-কনেদের। বর-বউ সেলফি তোলাই শুধু বাকি বোধহয়। কে জানে এটার চলও শুরু হয়ে গেছে কিনা। আমার নজরে অবশ্য পড়েনি। তবে লাখ টাকা দিয়ে ফটোগ্রাফার ভাড়া করার বিষয়টি এখন বেশ চলছে। ফটোগ্রাফাররা মহাব্যস্ত। বিয়ের আসরে ফটোগ্রাফারই বর-কনেকে নির্দেশনা দেন, কীভাবে হাঁটতে হবে। কোন ভঙ্গিতে দাঁড়াতে হবে। লুক কেমন হবে। তারা এক্সপ্রেশনও চায়। বিশেষ করে কনেদের তোলা ছবি দিয়ে ফেসবুক পেজে আকর্ষণীয় পোস্ট দেয়। এতে আবার আকৃষ্ট হয় অনেক হবু বধূ বা বর। বলতেই হবে বিয়ের ফটোগ্রাফিতে পেশাদারিত্ব এসেছে। আমার এক কবিবন্ধু কামরুল হাসান নির্বাচনের পর ১০ দিনে ৩-৪টি বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছেন। তার একটির কিছুটা বর্ণনা তার ভাষাতেই পড়া যাক। সেখানে এই ছবি তোলার মহোৎসবের বিবরণ আছে। তিনি লিখেছেনÑ ‘কাল সন্ধ্যায় গেলাম আরেক বিয়ের আসরে, এটিও বন্ধুর সন্তানের বিয়ে। পাঁচতারা হোটেল না হলেও তার জৌলুস কম নয়। এমপি হোস্টেল প্রাঙ্গণে বিবাহ আসরটি দেখে বিস্মিত হলাম। একটি সাদামাটা প্রাঙ্গণকে কী করে অমন স্বপ্নপুরী বানানো যায় অভিভূত হয়ে দেখলাম। এই ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানিগুলোর হাতে সত্যি সত্যিই আলাদিনের চেরাগ আছে। তাদের নান্দনিক বোধ অসামান্য, তাদের কল্পনা পাখা মেলা, তারা জানে কী করে স্বপ্নপুরী বানাতে হয়, স্বর্গোদ্যানের রূপ কী! এ এমন এক জগত ভেতরে না গেলে বোঝার উপায় নেই বাস্তবের লোহা, কাঠ, কাগজ আর শোলা দিয়ে কী জাদু বানানো সম্ভব।

বিবাহবাসর শুনলে যেমন একটি বিরাট উঁচু ছাদের মিলনায়তনের কথা মনে পড়ে, এমপি হোস্টেল তেমন কিছু নয়। লুইক্যানের জগদ্বিখ্যাত স্থাপত্যটির কোলের কাছে তার ঠাঁই, এটাই তার গৌরব, পরিসর তার বৃহৎ, আভিজাত্যের সঙ্গে মিশে আছে ক্ষমতাকেন্দ্র্রের অহঙ্কার। ওই তার স্বতন্ত্র গাম্ভীর্য।

বাতিমালায় নির্মিত আলোর টানেল দিয়ে প্রবেশ করি এমন একটি বৃহৎ শামিয়ানা টাঙ্গানো প্রাঙ্গণে যেখানে কোন আসবাব বা আলোকমালা নেই, নেই কোন আয়োজন। ভাবলাম ভুল জায়গায় পা রাখলাম কি-না। সেই বড় জায়গাটি পেরিয়ে পেলাম খাবার টেবিল সাজানো একটি বড় হলঘরের মতো জায়গা। মাটি ঢেকে দেয়া হয়েছে গালিচায়, আর আকাশ আবদ্ধ শামিয়ানায়। লালগালিচা পথের দুপাশে গোলাকার টেবিলগুলো সুসজ্জিত। কাপড়ে ঢাকা প্রতি টেবিলের কেন্দ্রে একটি বৃহৎ ফুলদানি, রয়েছে আহারের প্রয়োজনীয় তৈজশ ঘড়ির কাঁটার মতো সে ফুলদানি রাণীকে ঘিরে প্রজার মতো অবনত, আর টেবিল রাজ্যের সীমান্ত ঘিরে দশটি কাপড়ে মোড়ানো চেয়ারের তালুক। লালগালিচা পথ চলে গেছে সিল্ক কাপড়ে ঢাকা এক টানেলের ভেতর, দুপাশের সারবাঁধা সার্চলাইটগুলো সেখানে তৈরি করেছে বিবিধ রঙের, তাতে লালের প্রাধান্যই বেশি, এক কুহক। এলিস ইন দ্য ওয়ান্ডারল্যান্ডের সেই টানেলের মতো, যার অপরপ্রান্তে সেই ওয়ান্ডারল্যান্ড। নিজেকে আমার এলিস বলেই মনে হলো।

আমি যেখানে পৌঁছালাম সেখানে আকাশ অবারিত, কেননা অবারিত আকাশছাড়া ওই সৌন্দর্য ফোটানো মুশকিল। কোন হলঘরের ছাদই অত উঁচু নয়। মূলমঞ্চের সমুখে যে মণ্ডপটি ওরা নির্মাণ করে তার কাঠামোটি লোহার তৈরি ট্রাসের। চার কলামকে সংযুক্ত করেছে চারটি বীম। তৈরি হলো ছাদ আর সেই ছাদ থেকে ওরা ঝুলিয়ে দিয়েছে অজ¯্র ঝালর, লম্বা ফিতের গায়ে রুপালি কাগজে মোড়ানো চাকতি, লম্বা ফিতের শেষে বড় তুলির মতো পশমগুচ্ছ, আরও কত কী। বাতাসে তারা দোলে আর স্বপ্নাবিষ্ট করে তোলে অতিথিদের। ছাদ থেকে নেমে এসেছে অতিকায় ফুলের স্তবক, খাঁচায় পুরে রাখা পাখির মতো ঝাড়বাতি, আর কতপ্রকার আলো। এ এমন এক সৌন্দর্য যা ঘায় ব্যথা করে দেখা যায়। দেখে আমার মনে পড়ল হাসন রাজার সেই গান ‘মাওলা কে বানাইলো রে।’ মঞ্চের ওই অজ¯্র ফুলরাশি দেখে প্রথমে মনে হলো শত বাগানের পুষ্প উজাড় করে আনা হয়েছে এই বিবাহ উৎসবে। পরে বুঝলাম তারা কৃত্রিম। হোক তারা কৃত্রিম, লাবণ্য তাদের কম নয়। আজ এই বিবাহবাসরে যত মানবীপুষ্প মেখে এসেছে কৃত্রিমতার প্রলেপ, তাদের লাবণ্য তো কম নয়। তারা মঞ্চটিকে এক মধুময় ফটো স্টুডিও বানিয়ে ছবি তুলে যাচ্ছে। এখন বিবাহ উৎসব মানেই হলো এক নান্দনিক ফটোস্টুডিও, সেখানে ছবি তোলার এক উৎসব বয়ে যায়।’

সিটিংয়ের ‘চিটিং’ চলছেই

একবার এ কলামে হিসাব করে দেখিয়েছিলাম সিটিং ব্যবস্থা চালুর পর আবদুল্লাহপুর-গুলিস্তান রুটের মিনিবাস কীভাবে ডবল ভাড়া হাতিয়ে নিচ্ছে। উত্তরা থেকে শাহবাগ পর্যন্ত ভাড়া ছিল ১৮ টাকা। এখন এই দূরত্বর জন্য তারা নিচ্ছে ৩৫ টাকা। নিয়ম অনুযায়ী সিটিং গাড়িতে দাঁড়িয়ে যাত্রী নেয়া যাবে না। কিন্তু সেটি একেবারেই মানা হচ্ছে না। তাই গাড়িগুলো রয়েছে সেই আগেরই লোকাল, কিন্তু ভাড়া নিচ্ছে দ্বিগুণ। এটিকেই বোধহয় বলে যাত্রীদের পকেট মারা।

নিরাপদ সড়কের দাবিতে গত বছরের আগস্টে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সময় পরিবহন মালিক সমিতি রাজধানীতে চুক্তিতে বাস চালানো বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। কিন্তু নিজেদের নেয়া সিদ্ধান্ত এখনও কার্যকর করতে পারেননি পরিবহন মালিকরা। রাজধানীর অধিকাংশ বাস এখনও চলছে চুক্তি ভিত্তিতে। চুক্তিতে বাস চালানো বন্ধ করে চালক ও চালকের সহকারীদের মাসিক বা দৈনিক বেতন এবং নিয়োগপত্র দেয়ার অঙ্গীকার করেছিল মালিক সমিতি। কিন্তু আগের মতোই চুক্তিতে বা ট্রিপ (যাত্রার শুরু থেকে গন্তব্যে পৌঁছানো পর্যন্ত) বাস চালাচ্ছেন মালিকরা। ট্রিপ অনুযায়ী চালকেরা মালিকের কাছ থেকে টাকা পান। বেশি ট্রিপ দিতে পারলে টাকা বেশি। ফলে যাত্রী এবং ট্রিপের জন্য চালকেরা রাস্তায় বেপরোয়া থাকেন। যদি মাসিক বেতনে চালক পেতে সমস্যা থাকে তবে দৈনিক মজুরি নির্ধারণ করার বিষয়টিও বিবেচনা করা যেতে পারে। কিন্তু ট্রিপ অনুযায়ী মজুরি দেয়া হলে সড়কে অসুস্থ প্রতিযোগিতা থাকবেই। ঢাকা শহরের পরিবহন নৈরাজ্য অবসানের জন্য বছরের শুরুতেই আমরা কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে রাখলাম। এ বিষয়ে ফলোআপ থাকবে। দায়িত্বপ্রাপ্তদের দায়িত্বে অবহেলার বিষয়টি আর কতবার এভাবে প্রকাশ্যে আনতে হবে?

১৩ জানুয়ারি ২০১৯

marufraihan71@gmail.com