২০ ফেব্রুয়ারী ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বিশ্বের নানা গণতান্ত্রিক দেশ বলেছে এই নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ ॥ রিজভী

বিশ্বের নানা গণতান্ত্রিক দেশ বলেছে এই নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ ॥ রিজভী

অনলাইন ডেস্ক ॥ টিআইবির প্রতিবেদন নিয়ে তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ এবং নির্বাচন কমিশনের বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় আজ বৃহস্পতিবার ঢাকার নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক ব্রিফিংয়ে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, “টিআইবির রিপোর্টে সরকার ও নির্বাচন কমিশনের আঁতে ঘা লেগেছে। সরকারের সর্বব্যাপী নিয়ন্ত্রণের ঘন অন্ধকার ভেদ করে টিআইবির রিপোর্টে ভোট ডাকাতির মহাসত্য প্রকাশ হওয়ায় সরকারের মন্ত্রীরা ও নির্বাচন কমিশন মুখ লুকাতে পারছে না।”

গত মঙ্গলবার টিআইবির ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, ৩০ ডিসেম্বর ভোটের দিন ৫০টি আসনের পরিস্থিতি নিয়ে সমীক্ষা চালিয়ে ৪৭ আসনেই কোনো না কোনো নির্বাচনী অনিয়মের প্রমাণ পেয়েছে তারা। টিআইবির ভাষায়, প্রার্থীরা সমান সুযোগ না পাওয়াসহ বিভিন্ন ‘ত্রুটির’ কারণে একাদশ সংসদ নির্বাচন ‘প্রশ্নবিদ্ধ ও বিতর্কিত’ হয়েছে।

এর প্রতিক্রিয়া তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “নির্বাচন নিয়ে যে বক্তব্য-গবেষণার কথা বলে টিআইবি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে, তাতে আর বিএনপির বক্তব্যের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। প্রকৃতপক্ষে বিএনপি-জামায়াতের পক্ষে টিআইবি একটি প্রতিবেদন দিয়েছে মাত্র। অন্য কোনো কিছু নয়।”

টিআইবির বেশিরভাগ প্রতিবেদন ‘উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, ত্রুটিপূর্ণ, একপেশে, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে মন্তব্য করেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের এই নেতা। নির্বাচন কমিশন সচিব হেলালুদ্দীন আহমদও টিআইবির ওই প্রতিবেদনকে ‘উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলেছেন। আর সিইসি কে এম নূরুল হুদা বলেছেন, টিআইবির বক্তব্য ‘অসৌজন্যমূলক’।

গত ৩০ ডিসেম্বর ওই নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় পেয়ে টানা তৃতীয়বারের মত সরকার গঠন করেছে আওয়ামী লীগ। আর মাত্র ৮টি আসন পাওয়া বিএনপি ও তাদের জোটসঙ্গীরা পুনর্নির্বাচনের দাবি জানিয়ে আসছে।

রিজভী বলেন, “বিশ্বের নানা গণতান্ত্রিক দেশ বলেছে- এই নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ। তারা এই ভুয়া ভোটের নির্বাচনকে স্বীকৃতি দেয়নি এবং তদন্ত দাবি করেছে। বিশ্ববাসী এই নির্বাচনকে ইতিহাসের নিকৃষ্ট নির্বাচন হিসেবে অভিহিত করেছে।”

সরকার ও নির্বাচন কমিশনের সমালোচনা করে এই বিএনপি নেতা বলেন, “ক্ষমতা চিরদিনের জন্য কোলবালিশের মতো আঁকড়ে ধরে রেখে নিরঙ্কুশ কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার জন্যই ভোটারদেরকে ভোট দেওয়া থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। গণমাধ্যমকে সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রণ ও নজরদারির মধ্যে রেখে, বিরোধী দলকে কারাগারে ঢুকিয়ে ভোটারদেরকে আতঙ্কের মধ্যে রেখে নির্বাচন কমিশনে মোসাহেবদের বসিয়ে নির্বাচনী ব্যবস্থা ধবংস করে পার পাওয়া যাবে না। জনগণ প্রয়োজন হলে জীবন দিয়ে গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার ফিরিয়ে আনবে।”

নয়া পল্টনে এই সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য তৈমুর আলম খন্দকার, অধ্যাপিকা সাহিদা রফিক, প্রচার সম্পাদক শহিদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, কেন্দ্রীয় নেতা আবদুস সালাম, শামীমুর রহমান শামীম, নেওয়াজ হালিমা আরলি, বিলকিস ইসলাম শিরিন উপস্থিত ছিলেন।

নির্বাচিত সংবাদ