২৩ ফেব্রুয়ারী ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

গণতন্ত্রের সূচকে এগিয়ে

ক্রমবর্ধমান উন্নয়নের ধারায় বাংলাদেশের সমৃদ্ধি আজ নজর কাড়া। শুধু তাই নয়, অগ্রগতির বিভিন্ন সূচকে বাংলাদেশ বিশ্বের রোল মডেলও। যে কোন উন্নয়নশীল দেশে গণতন্ত্রের সুসংহত ধারা দৃশ্যমান না হলে প্রবৃদ্ধির হারও সেভাবে সামনে আসে না। গণতন্ত্র কোন নাগরিকের মৌলিক এবং অপরিহার্য অধিকার। এরই মাপকাঠিতে একজন ব্যক্তি সুনাগরিকের মর্যাদায় অভিষিক্ত হয়। তারই ধারাবাহিকতায় দেশও নিরবচ্ছিন্ন ধারায় সামনে এগোতে থাকে। এর ব্যত্যয় হলে ব্যক্তি এবং সমাজ দুটোরই অধোগতি হয়। জন্মগতভাবে সব মানুষই স্বাধীন। আর প্রতিষ্ঠিত রাষ্ট্র কিংবা পুরো সামাজিক অবয়ব সেই স্বাধীন সত্তাকে অধিকারের মাত্রায় আরও শক্ত আর মজবুত করে।

বাংলাদেশ আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র কিনা সে নিয়ে বহু বিতর্ক, প্রশ্ন এবং আলোচনা কিংবা পর্যালোচনার শেষ নেই। সম্প্রতি হয়ে গেল একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটাধিকারের মধ্য দিয়ে অর্জিত হয় প্রতিনিধিদের কাক্সিক্ষত বিজয়। গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং চর্চার আলোকে জাতীয় সংসদ নির্বাচন এক বিশিষ্ট মাইল ফলক। বিজয়ীরা জনগণের রায়ে নির্বাচিত হয়ে সংসদে প্রতিনিধিত্ব করেন। আর যারা জয়ের আসনে বসতে পারেন না তারা নির্বাচন, গণতন্ত্র আর ব্যক্তিক অধিকার নিয়ে হরেক রকম আপত্তি আর প্রশ্ন তুলে নিয়মতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে বিতর্কের আবর্তে ফেলে। গণতন্ত্র থেকে আরম্ভ করে বাংলাদেশের অনেক অর্জন আজ বিশ্বসভায় স্বীকৃত এবং স্পষ্টত দৃশ্যমান। বিভিন্ন বিশ্ব প্রতিবেদনে বাংলাদেশের অগ্রগতির অবস্থান অত্যন্ত সন্তোষজনক। গণতন্ত্র নিয়েও বিশ্ব জরিপে যে অবস্থান উন্মোচিত হয় সেখানেও দেশটির অর্জন কোন ভাবেই খাটো নয়। ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের গণতন্ত্র সূচক পাঁচটি ধাপে ২০১৮ সালে ১৬৫টি দেশ এবং ২টি অঞ্চলের মধ্যে বাংলাদেশ নিজেকে ৮৮তম অবস্থান দাঁড় করিয়েছে। এর আগে বাংলাদেশের স্থান ছিল ৯২তম। চারটি ধাপ আগানো বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ায় তৃতীয়।

গণতন্ত্রের ৫টি সূচকে দক্ষিণ এশিয়ায় ভারত একেবারে শীর্ষে ৭.২৩ স্কোর পেয়ে আর বিশ্বে ৪১তম। দ্বিতীয় স্থানে শ্রীলঙ্কা ৬.১৯ স্কোর নিয়ে দক্ষিণ এশিয়ায়, আর বিশ্বে তার অবস্থান ৭১তম। বাংলাদেশ আগে ৫.৪৩ পেয়ে ৯২তম স্থানে থাকলেও সর্বশেষ (২০১৮ সাল) জরিপে ৫.৫৭ স্কোর নিয়ে ৮৮তম জায়গায় চলে আসে। বিশ্ব প্রতিবেদনে বাংলাদেশের এমন সাফল্য গর্বের বৈকি।

গণতন্ত্রের সূচক পাঁচটি মানদ-কে বিবেচনায় রেখে সংশ্লিষ্ট সংস্থা এই জরিপ চালায়। গণতন্ত্রের নির্ণায়ক এই মানদ- (১) নির্বাচনী ব্যবস্থা ও বহু দলীয় অবস্থান, (২) সরকারের সক্রিয়তা, (৩) রাজনৈতিক অংশগ্রহণ, (৪) রাজনৈতিক সংস্কৃৃতি এবং (৫) নাগরিক অধিকার। এরই আলোকে সর্বোচ্চ ১০ স্কোরে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর অবস্থান তুলনা করা হয়। স্কোর যার ৮-এর বেশি তাকে ‘পূর্ণ গণতন্ত্রের’ দেশের আওতাভুক্ত করা হয়েছে। আর ৬ থেকে ৮-এর মধ্যে হলে সেখানে ত্রুটিপূর্ণ গণতন্ত্রের ধারা বিবেচিত হয়। ৪ থেকে ৬-এর মধ্যে থাকা দেশগুলোতে মিশ্র গণতন্ত্র আছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। ৯.৮৭ স্কোর নিয়ে পর পর দু’বার প্রথম স্থানে নরওয়ে। স্কোরের বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী দক্ষিণ এশিয়ায় ভারত এবং শ্রীলঙ্কা ত্রুটিপূর্ণ গণতেন্ত্রর দেশ হিসেবে চিহ্নিত। আর মিশ্র গণতন্ত্রের পর্যায়ে উঠে আসা বাংলাদেশ।

সুসংহত গণতন্ত্রের সুস্থ ধারা বিকাশমান আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপটের এক আবশ্যকীয় পর্যায়। এই নিয়মতান্ত্রিক গণতন্ত্রের চর্চা দীর্ঘ দিনের সুস্থ পর্যায়ক্রমিক ধারার অনিবার্য পরিণতি। এমন অবধারিত গণতান্ত্রিক চর্চা এবং সংস্কৃতিকে নিরবচ্ছিন্নভাবে আয়ত্তে আনতে সর্বসাধারণের সচেতনতা যেমন জরুরী, পাশাপাশি রাজনৈতিক পরিবেশও স্বচ্ছ, পরিচ্ছন্ন, জনকল্যাণমুখী হওয়া বাঞ্ছনীয়। উন্নয়নের বিভিন্ন খাতে বাংলাদেশের যে অগ্রসরমান প্রবৃদ্ধি প্রতিনিয়তই দৃশ্যমান হচ্ছে, ঠিক একই ধারায় গণতন্ত্রের কাক্সিক্ষত সূচকেও বাংলাদেশের অবস্থান আরও কয়েক ধাপ এগিয়ে যেতে সময় নেবে না।