২৩ ফেব্রুয়ারী ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ছুটির দিনে লাখো মানুষের ঢল বাণিজ্য মেলায়

ছুটির দিনে লাখো মানুষের ঢল বাণিজ্য মেলায়

ওয়াজেদ হীরা ॥ মানুষ আর মানুষ। ছোট্ট শিশু থেকে শুরু করে বৃদ্ধ সব বয়সী মানুষের ঢল নামলো ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায়। মেলার দশতম দিনে দ্বিতীয় শুক্রবার সব শ্রেণী পেশার মানুষের স্রোত মিলল মেলাস্থলে। লাখো মানুষের ঢলে মুখরিত মেলাপ্রাঙ্গণ। আর সকাল থেকে রাত পর্যন্ত বেচাকেনাও জমজমাট। প্রত্যাশিত দর্শনার্থীদেও ভিড়ে বিক্রেতাদের মুখে ফুটেছে হাসি।

আলো জলমলে শীতের সকাল থেকেই মানুষের পদচারণায় শুরু হয়। বিকেলের পর থেকে ভিড় শুধু বাড়তেই থাকে মেলাস্থলে। মেলা শুরুর পর দ্বিতীয় শুক্রবারে দর্শনার্থীদের চাপ বাড়বে এটা প্রত্যাশিত ছিল। যথারীতি স্টলে স্টলেও বেচাকেনা জমজমাট দেখা গেছে। বিক্রেতারা জানিয়েছেন, মানুষের ভিড় হলে বিক্রিও বাড়ে এতে বেশ খুশি তারা।

মেলা শুরুর পর দ্বিতীয় শুক্রবারই সবচেয়ে বেশি ভিড় দেখা গেলো। সংশ্লিষ্টরা বলছেন এক লাখের বেশি মানুষ এদিন প্রবেশ করেছে মেলাস্থলে। এর আগের শুক্রবারে মানুষের সমাগম থকালেও ভিড়টা বেশি ছিল না। সকাল থেকেই পরিবার বা বন্ধুরা দলবেধে মেলায় আসতে দেখা যায়। দুপুরের পর থেকেই মানুষের ভিড়ে আশপাশের সড়কে বেশ যানজট তৈরি হয়। এসম ট্রাফিক বিভাগের কর্মকর্তাদেও মানষের ভিড় আর যানজট সামলাতে বেশ বেগ পেতে হয়েছে। ফার্মগেট থেকে বিজয়স্বরণী হয়ে মিরপুর যাওয়া আসা উভয়ক্ষেত্রেই প্রচুর যানজট দেখা গেছে। এছাড়াও যারা আসাদ গেট হয়ে কল্যাণপুরের দিকে যাতায়াত করেছেন তাদেরও যানজটে পড়তে হয়েছে। শুধু নগরের বাসিন্দারাই নয় আশপাশের উপজেলা থেকেও এসেছেন দর্শনার্থীরা। গাজীপুর থেকে বাণিজ্য মেলায় এসেছেন সাজ্জাতুল আমল। তিনি বলেন, অন্যদিন ছুটি নেই আর ঢাকার এই মেলায় অনেক কিছু পাওয়া যায়। গাজীপুরেও মেলা হয় তবে এতো বড় হয় না। মেলার দশতম দিসে দ্বিতীয় শুক্রবার কেমন টিকেট বিক্রি হলে সে বিষয়ে গেট ইজারাদার মীর ব্রাদার্সের স্বত্বাধিকারী মো. শহিদুল ইসলাম জনকণ্ঠকে বলেন, সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত এক লাখ ১০ হাজার টিকেট বিক্রি হয়েছে। আশা করছি আরো ২০-৩০ হাজার টিকেট বিক্রি হবে। প্রথম শুক্রবারের চেয়ে দ্বিতীয় শুক্রবার মানুষের ঢল দেখে খুশি তিনি।

শুক্রবার মেলাস্থল ও আশপাশে ঘুরে দেখা গেছে, বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রের সামনের রাস্তা থেকে বাণিজ্য মেলার মূল ফটকের দূরুত্ব হাঁটার রাস্তা মাত্র পাঁচ মিনিটের হলেও ভিড়ের কারণে তা সময় লাগছে ১৫-২০ মিনিট। একই অবস্থা সোহরাওয়ার্দি হাসপাতাল বা গণভবনের পাশের রাস্তারও। মেলার বিভিন্ন স্টলে এদিন মানুষের উপচে পরা ভিড় দেখা গেছে। সব ধরনের স্টলেই দর্শনার্থীদের পদচারণা ছিল। এরমধ্যে হোম অ্যাপ্লায়েন্স কিনতে দেশীয় ব্র্যান্ডের প্যাভিলিয়নসহ স্টলগুলোতেও মানুষের প্রচুর চাপ দেখা যায়।

গৃহস্থালী পণ্য বিশেষ করে প্লাস্টিক পণ্য কিনতে বেশ ভিড় দেখা গেছে প্লাস্টিকের প্যাভিলিয়নগুলোতে। নারী পুরুষ সবাই মিলে পরিবারের প্রয়োজনীয় বিভিন্ন প্লাস্টিকের পণ্য কিনতে দেখা গেছে। কোনো কোনো প্যাভিলিয়নে পণ্য বিভিন্ন বান্ডেল করে বিক্রি করা হচ্ছে যেখানে গ্রাহকদের সাশ্রয় হচ্ছে ২০ থেকে কয়েক শত টাকা।

মেলাস্থলে শিশু পার্কে বাচ্চারা মেতে উঠেন বিনোদনে। বিভিন্ন রাইডে উঠার দৃশ্য দেখা যায়। আর অভিভাবকরা পাশেই দাড়িয়ে সন্তানের বিনোদন উপভোগ করেন।

এদিকে, মেলার প্রথম দিকে ক্রোকারিজ পণ্য তেমন বিক্রি না হলেও গত দুই দিন ধরে বেড়েছে বিক্রি। বিক্রেতারা বলছেন, বিশেষ অফার আর ডিসকাউন্ট দেওয়ায় ক্রেতারা তাদের পছন্দের পণ্য কিনতে ভিড় করছেন। মেলায় পণ্যভেদে ১৫ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড়ে পণ্য বিক্রি করছে বাজেট বাজার, মিয়াকো কমেট, টপটেন ফর এম্পোরিয়াম, কিয়াম, আরএফএল, মিয়াকো, মিয়া ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল, কানিজ এন্টারপ্রাইজ।

এবছর মেলায় প্যাভিলিয়ন, মিনি-প্যাভিলিয়ন, রেস্তোরাঁ ও স্টলের মোট সংখ্যা ৬০৫টি। এর মধ্যে রয়েছে প্যাভিলিয়ন ১১০টি, মিনি-প্যাভিলিয়ন ৮৩টি ও রেস্তোরাঁসহ অন্যান্য স্টল ৪১২টি। এবার বাংলাদেশ ছাড়াও ২৫টি দেশের ৫২টি প্রতিষ্ঠান মেলায় অংশ নিচ্ছে। দেশগুলো হলো থাইল্যান্ড, ইরান, তুরস্ক, শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপ, নেপাল, চীন, মালয়েশিয়া, ভিয়েতনাম, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ভারত, পাকিস্তান, হংকং, সিঙ্গাপুর, মরিশাস, দক্ষিণ কোরিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, জার্মানি, সুইজারল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া ও জাপান। প্রতিদিন সকাল ১০টায় শুরু হয়ে মেলা চলবে রাত ১০টা পর্যন্ত। প্রাপ্ত বয়স্কদের জন্য ৩০ টাকা ও অপ্রাপ্ত বয়স্কদের জন্য ২০ টাকা টিকিটের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। মেলা শেষ হবে আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি।