২৩ ফেব্রুয়ারী ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

উপজেলা নির্বাচন

বিদায়ী বছরের শেষ প্রান্তে অনুষ্ঠিত হলো জাতীয় সংসদ নির্বাচন। আগামী মার্চেই আবার উপজেলা পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এ আয়োজনের পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে নির্বাচন কমিশন। এ উদ্দেশ্যে ফেব্রুয়ারির শুরুর দিকেই তফসিল ঘোষণার সম্ভাব্যতা বিবেচনা করে দেখা হচ্ছে। যেহেতু ফেব্রুয়ারিতে এসএসসি ও এপ্রিলে এইচএসসি পরীক্ষা সেহেতু উপজেলা নির্বাচন করার জন্য মার্চকে সঠিক সময় হিসেবে ভাবা হচ্ছে। আইন অনুযায়ী, কোন উপজেলা পরিষদের মেয়াদ পূর্তির আগের ছয় মাসের মধ্যে নির্বাচন করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। স্থানীয় সরকার পর্যায়ের উপজেলা নির্বাচন দলীয় ভিত্তিতে অনুষ্ঠিত হয় না। তাই এই নির্বাচন রাজনৈতিকভাবে খুবই গুরুত্ব বহন করে এবং প্রার্থীদের প্রতি রাজনৈতিক দলগুলোর সমর্থন থাকে। বিএনপি গত জাতীয় সংসদ নির্বাচন বর্জন করলেও উপজেলা নির্বাচনে অংশ নিয়েছিল। তবে এবারই প্রথমবারের মতো দলীয় প্রতীকে উপজেলা নির্বাচন হবে। যে কারণে স্থানীয় নির্বাচন হলেও উপজেলা নির্বাচনেও জাতীয় নির্বাচনের আবহ থাকবে। স্মর্তব্য, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দুই সপ্তাহ পরই, ১৯ জানুয়ারি উপজেলা নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়। ১৯ ফেব্রুয়ারি থেকে মে মাস পর্যন্ত মোট ছয় ধাপে ওই নির্বাচন সম্পন্ন হয়। সে সময় ছয় ধাপে সম্পন্ন হয় ৪৮৭টি উপজেলার নির্বাচন। এটি ছিল দেশের চতুর্থ উপজেলা নির্বাচন।

এবারের নির্বাচন হচ্ছে পাঁচ ধাপে। আট বিভাগে চার ধাপে এবং অবশিষ্টগুলোর মেয়াদ শেষ হলে একসঙ্গে ভোট হবে। সদর উপজেলার সব কেন্দ্রে ভোট হবে ইভিএমে। আনুষ্ঠানিকভাবে দলীয় প্রতীকে নির্বাচন হবে বলে এবার ভোট নিয়ে ক্ষমতাসীন দলে আছে বাড়তি আগ্রহ। বলা যায় দেশজুড়েই নির্বাচনী হাওয়া বইছে। স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী করতে হলে উপজেলা পরিষদে জনপ্রতিনিধি নির্বাচন এবং তাদের সক্রিয়তার কোন বিকল্প নেই। উপজেলা নির্বাচন নিয়ে বৈঠক করেছে বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম স্থায়ী কমিটির সদস্যরা। পরে ঐক্যফ্রন্টের বৈঠক হয়েছে। তাতে সব নির্বাচনে অংশগ্রহণের ব্যাপারে নেতিবাচক সিদ্ধান্ত হয়েছে। কিন্তু পর্যবেক্ষক মহলের ধারণা যে, শেষ পর্যন্ত বিএনপির নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা শপথ নেবেন। উপজেলা নির্বাচনেও বিএনপি অংশগ্রহণ করবে।

বাংলাদেশে গণতন্ত্রের নির্বিঘ্ন যাত্রা যারা দেখতে চায় তাদের সবার আগ্রহ রয়েছে উপজেলা নির্বাচনকে ঘিরে। বলাবাহুল্য, প্রতিদ্বন্দ্বিতা আর অংশগ্রহণই নির্বাচনের সৌন্দর্য। নির্বাচন অনুষ্ঠানের পাশাপাশি যে বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ তা হচ্ছে, উপজেলা পরিষদকে শক্তিশালী করা। আমরা বারবার এই বিষয়টির ওপর গুরুত্ব দিয়ে আসছি। উপজেলা প্রশাসনের কর্তৃত্ব নিয়ে সংসদ সদস্য ও উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানদের কিছুটা দ্বন্দ্বের বিষয়টি অতীতে লক্ষ্য করা গেছে। এই দ্বন্দ্বের কারণে উপজেলা পরিষদের দৈনন্দিন কার্যক্রমসহ স্থানীয় উন্নয়নে নেতিবাচক প্রভাব পড়া এবং পরিষদ অকার্যকর হওয়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেয়া যায় না। তাই গণতন্ত্রকে শক্তিশালী অবয়ব দিতে হলে এবং স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে কার্যকর ও অর্থবহ দেখতে চাইলে ক্ষমতার সমন্বয় ও ভারসাম্য জরুরী। দেশবাসীর সেবাদানই প্রধান বিবেচ্য। এখানে ইগো বা অহমের কোন সুযোগ থাকার কথা নয়। আমাদের প্রত্যাশা স্বাধীনতার মাসে অনুষ্ঠিতব্য উপজেলা নির্বাচন প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ, অংশগ্রহণমূলক, অবাধ ও সুষ্ঠু হবে।