২৩ ফেব্রুয়ারী ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বুথ ব্যাংকিং

আর্থিক অন্তর্ভুক্তির জন্য ব্যাংকিং সেবায় নতুন মাত্রা আনা হচ্ছে। অল্প ব্যয়ে ব্যাংকিং সেবা কীভাবে মানুষের নাগালে পৌঁছানো যায় সে নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক তৎপর, তারই আলোকে নিয়ে আসছে নয়া পদ্ধতি বুথভিত্তিক ব্যাংকিং। মোবাইল ব্যাংকিং, এজেন্ট ব্যাংকিং প্রভৃতির পর এবার আসছে এই নতুন সেবা। বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো অচিরেই এই সেবা চালু করতে যাচ্ছে। বুথভিত্তিক এই ব্যাংকিং থেকে অনেক সুবিধাই মিলবে। তবে ব্যাংকের শাখার মতো সব সুবিধা পাওয়া যাবে না এই কেন্দ্র হতে। ব্যাংকের কোন পূর্ণাঙ্গ শাখার নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত স্বল্পব্যয়ী এই ব্যবসা কেন্দ্র বা বুথভিত্তিক ব্যাংক কার্যক্রম চলবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতিবিভাগ থেকে ‘ব্যাংকগুলোর ব্যবসা কেন্দ্র স্থাপন’ নামে প্রজ্ঞাপন জারি করে দেশে কার্যরত সব ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীর কাছে পাঠানো হয়েছে। যাতে বলা হয়েছে, এসব ব্যবসা কেন্দ্রের জন্য ব্যাংকিং বুথযুক্ত যে কোন সুবিধাজনক বা উপযুক্ত নাম ব্যবহার করা যাবে। তবে এর পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। বুথের আকার হবে এক হাজার বর্গফুটের মধ্যে। এর কার্যক্রম পরিচালনার জন্য দুজন কর্মকর্তা থাকবেন।

নতুন সেবা চালু হলে ব্যাংকগুলোর লোকসানি শাখা কমে যাবে। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের সম্পৃক্ততাও বাড়বে। তবে সবকিছু নির্ভর করে এর কার্যক্রম যথাযথভাবে পরিচালনার ওপর। এর আগে আর্থিক অন্তর্ভুক্তির অংশ হিসেবে ২০১৪ সালে ‘এজেন্ট ব্যাংকিং’ সেবা চালু করা হয়। ২০১১ সালে যাত্রা হয় ‘মোবাইল ব্যাংকিং’-এর। এর মধ্যে দেশে এ দুটিই জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। ব্যাংকিং বুথের ক্ষেত্রে সব লেনদেন স্বাভাবিক ব্যাংকিং সময়ের ভিত্তিতে সম্পাদিত হবে। গ্রাহকদের তাৎক্ষণিকভাবে এসএমএস ও প্রিন্ট রশিদ দেয়া হবে। বুথে দেয়া ব্যাংকিং সেবার পরিসর এবং যে কোন লেনদেনের উর্ধসীমা ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদিত হতে হবে। তবে বুথে বৈদেশিক বাণিজ্য সংক্রান্ত কোন কার্যক্রম সম্পাদন হবে না। বিধি অনুযায়ী বুথগুলোকে বাংলাদেশ ব্যাংকের ‘ইন্টারনাল কন্ট্রোল এ্যান্ড কমগ্রায়েন্স’ নীতিমালা এবং সংশ্লিষ্ট নির্দেশনার আলোকে ব্যাংকের নিরীক্ষা কার্যক্রমের অন্তর্ভুক্ত রাখা হচ্ছে। কিন্তু পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা না গেলে সবই হবে বৃথা। স্বাভাবিক ব্যাংকিং সময়ের বাইরে বুথের সেবা প্রদান অন্য সময়ে খোলা রাখা সঙ্গত। ব্যাংকের ব্যবসা ও গ্রাহকসেবার স্বার্থে এটা করা অবশ্যই প্রয়োজন। বুথভিত্তিক ব্যাংকিংয়ে নিরবচ্ছিন্ন ব্যাংকিং সেবা নিশ্চিত করার জন্য নিরাপত্তা সংবলিত তথ্যপ্রযুক্তি কাঠামো থাকার কথা বলা হয়েছে। বাস্তবে তা দৃশ্যমান না হলে গ্রাহক সেবা নিতে যাবে না। বুথে যেসব সেবা পাওয়া যাবে, তার একটি তালিকা দৃশ্যমান স্থানে টানানো না হলে গ্রাহক আগ্রহী হবে না সহজে। তেমনি বুথে অভিযোগ কেন্দ্র থাকা বাঞ্ছনীয়। একই সঙ্গে অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তির বিকল্প নেই। ব্যাংকিং বুথে খোলা যে কোন ব্যাংক হিসাব নিয়ন্ত্রণকারী শাখার অর্থাৎ মূল ব্যাংক শাখায় খোলা হিসাব বলে বিবেচিত হবে। হিসাব খোলার ক্ষেত্রে গ্রাহক পরিচিতির তথ্যসহ প্রচলিত বিধিবিধান যথাযথভাবে পরিপালন করা জরুরী। বুথের লেনদেন নিয়ন্ত্রণকারী শাখার বুকস অব এ্যাকাউন্টসে অন্তর্ভুক্ত করাই যথাযথ হবে। গ্রাহকদের সেবা প্রদান সহজতর করা এবং ব্যাংকগুলোর ব্যবসা পরিধি বাড়ানোর জন্য এই ব্যাংকিং ব্যবস্থা যুগান্তকারী পদক্ষেপ তখনই স্পষ্ট হবে, যখন তা সুচারুরূপে ও জটিলতামুক্তভাবে পরিচালিত হয়। আর্থিক খাত নিয়ে ঝুঁকির বিষয়টি অবশ্য অগ্রাহ্য করা যাবে না। সরকার নিয়ন্ত্রক সংস্থা এবং ব্যাংকগুলো যদি আরও দায়িত্বশীল ও সতর্ক ভূমিকা পালন করে তবে নতুন এই ব্যবস্থা আর্থিক খাতে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারবে।