২৩ ফেব্রুয়ারী ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে কাজ শুরু করেছে হাইওয়ে পুলিশ

 সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে কাজ শুরু করেছে হাইওয়ে পুলিশ
  • মনিটরিং জোরদার

গাফফার খান চৌধুরী ॥ শুধু ঢাকা নয়, সারাদেশেই সড়ক-মহাসড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে জোরালোভাবে কাজ শুরু করেছে হাইওয়ে পুলিশ। মহাসড়কে যানজট নিরসনে, ছিনতাই ও ডাকাতি রোধে, দুর্ঘটনা কমিয়ে আনতে, মাদকাসক্ত হয়ে যানবাহন চলাচল বন্ধ করতে এবং বেপরোয়া গতির যানবাহন শনাক্ত করে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে হাইওয়ে পুলিশ জোরালোভাবে কাজ শুরু করেছে। আগেও মহাসড়কে হাইওয়ে পুলিশ চব্বিশ ঘণ্টা দায়িত্ব পালন করলেও, এবার মনিটরিং ব্যবস্থা জোরালো করা হয়েছে। ইতোমধ্যেই দুর্ঘটনা ও ছিনতাই প্রবণ মহাসড়কের স্পটগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে। দুর্ঘটনাপ্রবণ স্পটগুলোতে অনেক দূর থেকে দেখা যায়, এমন সাইনবোর্ড ও স্পিডব্রেকার বসানো হয়েছে। এসব জায়গায় রেকার ও অতিরিক্ত টহল পুলিশ মোতায়েন রাখা হয়েছে। মাদকাসক্ত চালকদের শনাক্ত করতে ড্রাগ ডিটেক্টর আর দ্রুত গতির যানবাহন শনাক্ত করতে স্পিডগান ব্যবহার করা হচ্ছে। মহাসড়কের যানজট কমাতে আশপাশের ১০ মিটার পর্যন্ত অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ কার্যক্রম জোরালো করা হয়েছে।

হাইওয়ে পুলিশ সূত্রে আরও জানা গেছে, দেশে মহাসড়ক ১১ হাজার ৮০৬ কিলোমিটার। বিআরটিএ’র হিসাব মতে, সারাদেশে রেজিস্ট্রেশনকৃত প্রায় ২১ লাখ বিভিন্ন প্রকারের যানবাহন চলাচল করে। যদিও বাস্তবে শুধু মহাসড়কেই প্রায় ২৫ লাখেরও বেশি যানবাহন চলাচল করে। যা মহাসড়কের পরিমাণের তুলনায় অনেক বেশি। এসব যানবাহন চালানোর জন্য বৈধ চালক রয়েছে ১৪ লাখ। আর অবৈধ চালকের সংখ্যা অন্তত ১১ লাখ।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) এক্সিডেন্টাল রিসার্চ ইনস্টিটিউটের হিসাব মতে, মহাসড়কে ২০৮টি ব্লাকস্পট (দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকা) আছে। এসব স্পটে যানজট, দুর্ঘটনায় অধিক প্রাণহানির ঘটনা ছাড়াও ছিনতাই, চুরি ও ডাকাতির মতো অপরাধ সংঘটিত হয়। প্রতিবছর গড়ে সড়ক-মহাসড়কে দুর্ঘটনায় প্রায় ৫ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়। মৃত্যুর পাশাপাশি সড়ক দুর্ঘটনায় বছরে গড়ে অন্তত ২০ হাজার মানুষ আহত হন। আহতদের মধ্যে গড়ে অন্তত ৫ হাজার মানুষকে চিরতরে পঙ্গুত্ববরণ করতে হয়। এদের মধ্যে শতকরা ৭৫ ভাগই সংসারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি।

হাইওয়ে পুলিশ বলছে, অবৈধ চালকরা ভুয়া নাম ঠিকানা ব্যবহার করে লাইসেন্স নিয়ে থাকে। ফলে কোন পণ্যবাহী গাড়ি ছিনতাই হলে বা কোন যাত্রীবাহী যানবাহন দুর্ঘটনায় পড়লে সহজেই চালকদের খুঁজে পাওয়া যায় না। কোন কোন ক্ষেত্রে গাড়ির মালিকেরও হদিস মেলে না। কারণ ভুয়া লাইসেন্সধারীরা লাইসেন্স প্রাপ্তির ফরমে সঠিক নাম ঠিকানা ব্যবহার করে না। এজন্য দুর্ঘটনাপ্রবণ স্পটগুলোতে সিসি ক্যামেরা লাগানোর বিষয়ে জোর দেয়া হয়েছে। যাতে দুর্ঘটনার শিকার যানবাহনের চালককে শনাক্ত করা সহজ হয়।

এছাড়া মহাসড়কের দুই পাশের ১০ মিটার পর্যন্ত সব ধরনের স্থাপনা উচ্ছেদে উচ্চ আদালতের নির্দেশ রয়েছে। কিন্তু সে নির্দেশ এখনও পুরোপুরি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। ফলে হাইওয়েতে যানজট সহনীয় পর্যায়ে আসেনি। দেশের মারাত্মক যানজটপ্রবণ স্থানের মধ্যে আছে ঢাকার মহাখালী, আব্দুল্লাহপুর, সায়েদাবাদ, গাবতলী, যাত্রাবাড়ি, শ্যামপুর, কদমতলী, শনির আখড়া, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কাঁচপুর ব্রিজ, চট্টগ্রামের মীরসরাই, ঢাকা-মুন্সীগঞ্জ-নারায়ণগঞ্জের পঞ্চবটি, ফতুল্লা, শ্যামপুর, কুমিল্লার দাউদকান্দি ব্রিজ, ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের চন্দ্রা, কালিয়াকৈর, যমুনা সেতুর পূর্বপাড়, এলেঙ্গা, ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক, ঢাকা-মাওনা ফেরিঘাটসহ অন্তত ৩০টি স্পট। এসব স্পটে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করেও তেমন কার্যকর ফল আসে না। বিশেষ করে ঈদের সময় অসহনীয় যানজটের সৃষ্টি হয় এসব স্পটে।

হাইওয়ে পুলিশের পূর্বাঞ্চলের উপ-কমিশনার নজরুল ইসলাম জনকণ্ঠকে বলেন, আগে মহাসড়কের যে কোন ঘটনায় সংশ্লিষ্ট জেলার থানায় দায়ের হতো। থানা মামলাগুলো তদন্ত করত। এখন মাদক ও দুর্ঘটনা সংক্রান্ত মামলাগুলো হাইওয়ে থানায় দায়ের হচ্ছে। সেগুলোর তদন্ত করছে হাইওয়ে থানা পুলিশ। অতীতের যে কোন সময়ের তুলনায় বর্তমানে হাইওয়ে পুলিশ বেশি কাজ করছে। বিশেষ করে নতুন কোন দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকা চিহ্নিত হয়নি। চিহ্নিত দুর্ঘটনাপ্রবণ স্পটগুলোতে সাইনবোর্ড লাগানো হয়েছে। সেখানে স্পিডব্রেকার দেয়া হয়েছে। সার্বক্ষণিক রেকার রাখা হয়। যাতে কোন যানবাহন দুর্ঘটনা পড়লে দ্রুত সরানো যায়। যানজট সৃষ্টি না হয়। রাস্তায় টহলও জোরদার করা হয়েছে। যাতে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করা যায়। মাদকাসক্ত চালক ও দ্রুত গতির যানবাহন শনাক্ত করতে ড্রাগ ডিটেক্টর ও স্পিডগান ব্যবহার করা হচ্ছে নিয়মিত।

হাইওয়ে পুলিশের অতিরিক্ত উপ-মহাপরিদর্শক এম এ মালেক জনকণ্ঠকে বলেন, হালে হাইওয়ে পুলিশের কার্যক্রম আরও বাড়ানো হয়েছে। টহল জোরদারসহ নানা কর্মকান্ড হাতে নেয়া হয়েছে। কাজের সুবিধার জন্য ৫০টি স্থায়ী আউটপোস্ট নির্মাণ করা হচ্ছে। ইতোমধ্যেই ৩২টির নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে। ১৮টির নির্মাণ কাজ চলছে।