২৩ ফেব্রুয়ারী ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

চট্টগ্রামে ভিক্টোরিয়া জুট মিলের গুদামে আগুন

 চট্টগ্রামে ভিক্টোরিয়া জুট মিলের গুদামে আগুন
  • ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি

স্টাফ রিপোর্টার, চট্টগ্রাম অফিস ॥ মহানগরীর একে খান মোড় এলাকায় ভিক্টোরিয়া জুটমিলের গুদামে ভয়াবহ অগ্নিকান্ডে ব্যাপক ক্ষতিসাধিত হয়েছে। শুক্রবার বিকেলে আগুনের সূত্রপাত হয়। গুদামে একাধিক প্রতিষ্ঠানের প্লাস্টিক ও কেমিক্যাল জাতীয় সামগ্রী থাকায় অল্প সময়ের মধ্যে আগুন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। লেলিহান শিখা অনেক উপরে ওঠায় বেশ দূর থেকে দৃশ্যমান হয়। পুরো এলাকায় দেখা দেয় আতঙ্ক। সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ক্ষয়ক্ষতি তাৎক্ষণিকভাবে নিরূপণ সম্ভব না হলেও ব্যাপক হবে বলে জানিয়েছে মিল কর্তৃপক্ষ এবং গুদাম ব্যবহারকারীরা।

ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা যায়, জুটমিলটি দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে। এর অভ্যন্তরে রয়েছে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পণ্যের গুদাম। ভাড়া নিয়ে তারা গোডাউন হিসেবে ব্যবহার করছিল। শুক্রবার বিকেল ৫টার দিকে আগুনের সূত্রপাত হয়। তবে কিভাবে আগুন লেগেছে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক জসিম উদ্দিন জানান, আগুনের খবর পেয়ে বিভিন্ন স্টেশন থেকে ৫টি ইউনিটের ১৫টি গাড়ি খুব দ্রুত ছুটে যায়। এরপর আরও ইউনিট যুক্ত হয়। দমকল কর্মীদের তৎপরতায় আগুন নেভানোর কাজ শুরু হয়। তবে এক সঙ্গে কয়েকটি গুদামে আগুন সংক্রমিত হওয়ায় তা নিয়ন্ত্রণে আনতে বেগ পেতে হচ্ছে। অগ্নিনির্বাপণের আগ পর্যন্ত ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ সম্ভব নয়।

পাহাড়তলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সদীপ কুমার দাশ জানান, আগুন লাগার সঙ্গে সঙ্গেই পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মী এবং দায়িত্বশীল উর্ধতন কর্মকর্তারা অকুস্থলে ছুটে যান। স্থানীয় লোকজন এবং ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা আগুন নেভানো এবং ক্ষতির হাত থেকে সম্পদ রক্ষার কাজে নিয়োজিত হয়।

ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ জানায়, জুট মিলটি উৎপাদনে ছিল না। এর বিভিন্ন অংশ ভাড়া দেয়া হয়েছিল গোডাউন হিসেবে। এর মধ্যে রয়েছে আরএফএল, ইউনিলিভারসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের গুদাম। মোট ৮টি গুদাম এই মিলে ভাড়ায় চলছিল। আগুনে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আরএফএল। সেখানে রক্ষিত ছিল প্রতিষ্ঠানটির বিপুল প্লাস্টিক জাতীয় পণ্য ও কাঁচামাল। এছাড়া ইউনিলিভারের কিছু কেমিক্যাল এবং একটি পরিবেশক কোম্পানির সারের মজুদও ছিল। প্লাস্টিক জাতীয় সামগ্রী থাকায় আগুন বেশ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।

ভয়াবহ এ আগুনে ক্ষয়ক্ষতি কেমন হতে পারে তা তাৎক্ষণিক জানা যায়নি। তবে গুদামগুলোতে ভিক্টোরিয়া জুট মিলস ও একাধিক প্রতিষ্ঠানের ১৫ থেকে ২০ কোটি টাকার মাল ছিল বলে জানিয়েছে গুদাম ব্যবহারকারীরা।

এদিকে, বড় ধরনের এ অগ্নিকান্ডে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। আশপাশের স্থাপনা ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে হুড়োহুড়ি পড়ে যায়। আগুন সংক্রমিত হওয়ার আশঙ্কায় অন্যরাও তাদের প্রতিষ্ঠান থেকে মাল সরিয়ে নিতে তৎপর হয়। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশাপাশি জুট মিলটির অবস্থান হওয়ায় এর প্রভাব পড়ে সাধারণের মাঝে। অনেকদূর থেকে দেখা যায় আগুনের লেলিহান শিখা ও ধোঁয়ার কুন্ডলী। সড়কে যানবাহন চলাচল স্তব্ধ হয়ে যায়। এর ফলে বিশাল এলাকাজুড়ে শুরু হয় যানজট। শৃঙ্খলা রক্ষায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকেও হিমশিম খেতে হয়। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় প্রায় আড়াইঘণ্টা অতিবাহিত হওয়ার পরও আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি।