২১ এপ্রিল ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

নাট্য ব্যক্তিত্ব মমতাজ উদদীনের জন্মদিনে আনন্দ আয়োজন

স্টাফ রিপোর্টার ॥ সাহিত্য থেকে শিল্পে তার অনায়াস বিচরণ। অনবদ্য অভিনয়শৈলীতে দাগ কেটেছেন দর্শক হৃদয়ে। আবার কখনও লিখেছেন দর্শকনন্দিত নাটক। গবেষণাধর্মী থেকে লেখা শুরু করে প্রবন্ধ লেখা কিংবা গদ্য রচনায়ও টেনেছেন পাঠককে। শিক্ষক হিসেবেও পরিণত হয়েছেন ছাত্রদের প্রিয়জনে। এভাবেই বহুমাত্রিক প্রতিভায় উজ্জ্বল স্বাধীনতা-উত্তর দেশের নাট্য আন্দোলনের পথিকৃৎ অধ্যাপক মমতাজউদদীন আহমদ।

শুক্রবার পালিত হলো বরেণ্য এই লেখক, নাট্যকার ও অভিনেতার ৮৫তম জন্মদিন। শুভাকাক্সক্ষীদের ভালবাসায় সিক্ত হলেন জন্মদিনের আনন্দ আয়োজনে। সেই ভালবাসায় আপ্লুত এই গুণীজন অনুভূতি প্রকাশ করে বলেন, বাংলাদেশের প্রতিটি ধূলিকণা আমার। মসজিদ, মন্দির, গীর্জা মঠ সব আমার। পৃথিবীর সেরা দেশ আমার দেশ। আজকের এ আয়োজনে অভিভূত হলাম। কারণ, দীর্ঘদিন ধরে প্রচÐ হতাশায় কাটছে জীবন। চিন্তা করতে পারি না, পড়তে পারিনা, ভাবতে পারিনা। ঘর ভর্তি বই স্পর্শ করতে পারি না। ৪৪ বছরের নিয়ম মেনে ডায়েরি লিখতেও পারি না। এমনকি নিজের হাতে খেতেও পারি না। শিশুর মতো হয়ে গেছি আমি। মাঝে মাঝে মনে হয় এখন বুঝি আমার বাাঁচার কোন যোগ্যতা নেই, আমি আবর্জনা মাত্র।

শুক্রবার সন্ধ্যায় বাংলা একাডেমির আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ মিলনায়তনে অধ্যাপক মমতাজউদদীন আহমদ-এর ৮৫তম জন্মদিনের আনন্দ আয়োজন করে হয়। অধ্যাপক মমতাজউদদীন আহমদের ৮৫তম জন্মদিন উদ্যাপন জাতীয় পর্ষদ এই বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে মমতাজউদদীন আহমেদকে নিয়ে কথা বলেন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব কামাল লোহানী, নাট্যজন রামেন্দু মজুমদার, নাট্যজন মামুনুর রশীদ, নাট্যজন ও সাবেক সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জাআন নূর, মিডিয়া ব্যক্তিত্ব নওয়াজীশ আলী খান, মুক্তিযোদ্ধা মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আলী শিকদার (অব)। সভাপতিত্ব করেন জন্মদিন উদ্যাপন জাতীয় পরিষদের আহবায়ক ও বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক কবি হাবীবুল্লাল সিরাজী। সঞ্চালনা করেন সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুছ। শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন ড. নীলুফার বানু।

অনুভূতি প্রকাশে ছেলে তিতাসের উদ্দেশে মমতাজউদ্দিন আহমদ বলেন, আমাকে ছেড়ে দাও আমি চলে যাই। তোমার মা কষ্ট পাচ্ছে। এই মহিলাকে জীবনে কখনও শান্তি দিতে পারিনি। অশ্রæসিক্ত কণ্ঠে স্ত্রীর উদ্দেশে বলেন, ‘যেতে দাও কুমু আমার সময় হয়ে গেছ।’

সন্ধ্যা পৌঁনে ছয়টার দিকে অধ্যাপক মমতাজউদদীন আহমদ বাংলা একাডেমিতে পৌঁছান। একটি হুইল চেয়ারে করে তাকে অনুষ্ঠানস্থলে আনা হয়। নজরুলসঙ্গীত শিল্পী ফেরদৌস আরার কণ্ঠে নজরুলের ‘অঞ্জলি লহো মোর’ গানটির পরিবেশনার মধ্য দিয়ে আয়োজনের শুরু হয়। এরপর মমতাজউদদীন আহমদকে নানা উপহারে বরণ করে নেয়া হয়। তাকে চাদর পরিয়ে দেন নাট্যজন ড. ইনামুল হক। জন্মদিন উপলক্ষে ক্রেস্ট প্রদান করেন আয়োজনের সভাপতি হাবীবুল্লাহ সিরাজী। মমতাজউদদীন আহমেদকে তার একটি প্রতিকৃতি হাতে তুলে দেন শিল্পী কামাল পাশা চৌধুরী ও আইএফআইসি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহ আলম সারওয়ার। অধ্যাপক ড. রতন সিদ্দিকী মমতাজউদদীন আহমদ এর শংসাবচন পাঠ করেন।

মমতাজউদদীন আহমদের এর বড় ছেলে ডাঃ তিতাস মাহমুদ, আমি জানি আপনার জন্য বেঁচে থাকা কত কষ্টকর। আপনার ফুসফুসের স্থিতিস্থাপকতা নেই। আপনি বকুলপুরের স্বাধীনতা, বাংলাদেশের সকল আন্দোলন সংগ্রামের নাম আপনি। আপনি বাঁচতে চান না, কিন্তু আপনাকে বাঁচতে হবে। এদেশের প্রতিটি শিশুর জন্য আপনাকে বাঁচতে হবে।

এ সময় তিনি পরিবারের পক্ষ থেকে প্রতিবছর একজন নাট্যকর্মীকে মমতাজউদদীন আহমদ নামাঙ্কিত একটি পুরস্কার প্রদানের ঘোষণা দেন, যার আর্থিক মূল্য হবে এক লাখ টাকা।