১৯ এপ্রিল ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

শৈত্যপ্রবাহের কবলে বোরো

টানা শৈত্যপ্রবাহের কবলে পড়েছে বোরো আবাদ। এ নিয়ে শঙ্কিত কৃষকরা। বাম্পার ফলন দূরে থাক, স্বাভাবিক ফলন যথাযথভাবে হবে কিনা সে নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। চলতি শীত মৌসুমে উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন স্থানে তাপ মাত্রার পারদ পাঁচ ডিগ্রী সেলসিয়াসে হ্রাস পেয়েছে। গত কয়েকদিন ধরেই দক্ষিণাঞ্চলসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় হাল্কা থেকে মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত রয়েছে। এমনকি নিকট অতীতের সব রেকর্ড ভঙ্গ করে বরিশালে তাপমাত্রা সাড়ে ছয় ডিগ্রীতে হ্রাস পেয়েছিল তিন সপ্তাহ আগে। এখনও মাঘের শীতের বাকি রয়েছে তিন সপ্তাহের বেশি। আবহাওয়া বিভাগের মতে, চলতি মাসেও দেশের বিভিন্ন স্থানে একাধিকবার শৈত্যপ্রবাহের সম্ভাবনা তীব্র। এই শৈত্যপ্রবাহ বোরো চাষের জন্য ক্ষতিকর বৈকি। আমনের আশাব্যঞ্জক ফলনের সাফল্যের পর কৃষকরা প্রায় সাড়ে ৪৮ লাখ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদের লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নেমেছে। কিন্তু একটানা শৈত্যপ্রবাহ আর বিগত বর্ষায় স্বাভাবিকের তুলনায় কম বৃষ্টিপাতে সেচ নিয়ে শঙ্কা বাড়ছে কৃষকদের। চলতি রবি মৌসুমে দেশে বোরো ধান থেকে প্রায় দুই কোটি টন চাল উৎপাদন হতে পারে বলে কৃষি মন্ত্রণালয় আশা করছে। উত্তরবঙ্গে বীজতলা তৈরি শেষ হলেও তীব্র শৈত্যপ্রবাহে ‘কোল্ড ইনজুরির’ কবলে পড়ার আশঙ্কা বাড়ছে। ফলে বীজের গুণগত মান নষ্ট হয়ে উৎপাদন কাক্সিক্ষত মাত্রায় না পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে। চলতি রবি মৌসুমে দেশে ৪৮ লাখ ৪২ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো ধান আবাদের লক্ষ্যমাত্রা স্থির করা হয়েছে। যার মধ্যে হাইব্রিড সাড়ে আট লাখ হেক্টর। অতি স্পর্শকাতর এবং পরিপূর্ণ সার ও বালাই ব্যবস্থাপনা নির্ভর হাইব্রিড ধান থেকে হেক্টর প্রতি ফলন আশা করা হচ্ছে চার দশমিক ৭৫ টন হিসেবে ৪০ লাখ ৩৮ হাজার টন চাল। এছাড়া চলতি মৌসুমে ৩৯ লাখ ৬০ হাজার হেক্টর জমিতে উচ্চফলনশীল বা উফশী জাতের বোরো ধানের আবাদ লক্ষ্যমাত্রা স্থির করা হয়েছে। যা থেকে হেক্টর প্রতি তিন দশমিক ৯২ টন হিসেবে এক কোটি ৫৫ লাখ ২৩ হাজার টন চাল উৎপাদিত হতে পারে। এছাড়া আরও বত্রিশ হাজার হেক্টর জমিতে সনাতন জাতের স্থানীয় বোরো আবাদ হচ্ছে। হেক্টর প্রতি এক দশমিক ৯৪ টন হিসেবে স্থানীয় জাতের এ ধান থেকে আরও ৬২ হাজার টন চাল পাওয়া যেতে পারে। কোন ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেখা না দিলে এবং গমের আবাদ লক্ষ্য অর্জিত হলে দেশে চার কোটি টন দানাদার খাদ্য ফসল উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। উৎপাদন লক্ষ্যে পৌঁছাতে হলে সেচ ব্যবস্থা নিশ্চিত করার বিকল্প নেই। মৌসুমের শুরুতেই সেচের পানির সব বিকল্প ব্যবস্থা নিশ্চিত করা সঙ্গত। সেচ কাজে বিদ্যুত ও ডিজেলের সরবরাহ নিশ্চিত করারও কোন বিকল্প নেই। বিগত বর্ষা মৌসুমে যেহেতু বৃষ্টিপাতের পরিমাণ কম ছিল, তাই সেচের পানির সব বিকল্প উৎসগুলো পূর্বাহ্নেই চিহ্নিত করে সময়মতো তা কাজে লাগানোর জন্য সতর্ক ব্যবস্থা নেয়া জরুরী। এই উপমহাদেশের মধ্যে সেচ ব্যয় এখনও সবচেয়ে বেশি বাংলাদেশেই। তাই ধানের উৎপাদন ব্যয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে সাড়ে ছয় শ’ টাকার বেশি। কিন্তু ধানের দর যদি সাত শ’ টাকার বেশি না হয়, তবে কৃষকদের আগ্রহ আর উৎসাহ ধরে রাখা দুষ্কর। বাংলাদেশে ধানের মোট উৎপাদন ব্যয়ের ২৮ শতাংশ ব্যয় হয়, অথচ থাইল্যান্ডে তা আট শতাংশ। ভিয়েতনামে মাত্র ছয় শতাংশ। আর ভারতের পাঞ্জাবে ১৩ শতাংশ। উপরন্তু গত দশকে দফায় দফায় ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধির ফলে দেশে সেচ ব্যয় আরও বেড়েছে। বিদ্যুতায়িত সেচ ব্যবস্থায় ব্যয় কম হওয়ার পরেও ২০০৩ সাল থেকে সেচ আবাদে ব্যবহৃত বিদ্যুতে সরকার ২৫ শতাংশ ভর্তুকি প্রধান করে আসছে। দেশের সিংহভাগ সেচ ব্যবস্থাই এখনও ডিজেলনির্ভর। ডিজেলের ওপর ভর্তুকি এক সময় প্রদান করা হতো। কিন্তু আট বছর আগে তা প্রত্যাহার করা হয়। বর্তমান শীত মৌসুমে বোরো আবাদের বাম্পার ফলন না হলে কৃষকের জন্য ক্ষতির কারণ হতে পারে। এই অবস্থা থেকে উত্তরণে আগাম পদক্ষেপ নেয়া জরুরী।

নির্বাচিত সংবাদ