১৭ ফেব্রুয়ারী ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

এই সময়ে সংস্কৃতিকর্মী আলমগীর সাগর

স্টাফ রিপোর্টার ॥ আলমগীর সাগর। এই সময়ের অন্যতম অভিনেতা ও নির্মাতা। একাধিক মঞ্চ ও টিভি নাটক এবং টেলিফিল্মে অভিনয় করে প্রশংসিত হয়েছেন। অভিনয়ের পাশাপাশি নির্মাণেও হাত দিয়েছেন। দেশের সংস্কৃতি অঙ্গনে ভূমিকা রাখার স্বপ্ন দেখেন। সেই লক্ষ্যে তিনি প্রতিনিয়ত সাধনা চালিয়ে যাচ্ছেন।

আলমগীর সাগরের জন্ম নীলফামারী জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চল জলঢাকা উপজেলার ধর্মপাল ইউনিয়নের সবুজপাড়া গ্রামে। উচ্চ মাধ্যমিক পর্যন্ত এলাকাতেই পড়াশোনা। বাবা সমশের আলী ও মা আজমা বেগমের চার সন্তানের মধ্যে সর্বকনিষ্ঠ তিনি। ভাগ্যের অন্বেশনে উচ্চ মাধ্যমিকের পর পারি জমান ঢাকায়। বর্তমানে তিতুমীর সরকারি কলেজে অনার্স শেষ বর্ষে অধ্যয়ন করছেন। ২০১৩ সালে এটিএন বাংলার রিয়েলিটি শো নাট্যযুদ্ধের মধ্য দিয়ে মিডিয়াতে পদার্পণ করেন। ২০১৪ সালে চারুনীড়ম স্কুল অব এ্যাক্টিংয়ের অভিনয় প্রশিক্ষণ কর্মশালা শেষে চারুনীড়ম থিয়েটারের সঙ্গে যুক্ত হন। এর পর দলের সদস্য হিসেবে গাজী রাকায়েতের নির্দেশনায় ‘অবাক দেশ এবং বুড়ো’, ‘শেষ নবাব’, ‘নানা রঙের দিন’সহ বেশ কিছু নাটকে অভিনয় করেন। নিয়মিত অভিনয় করে যাচ্ছেন। পাশাপাশি টিভি নাটকেও অভিনয় করেন তিনি। আলমগীর সাগর অভিনীত টিভি নাটকগুলো হলো গাজী রাকায়েত পরিচালিত চ্যানেল আইতে প্রচারিত টেলিফিল্ম ‘মধু গাছ’, জিটিভিতে প্রচারিত ধারাবাহিক ‘ক্রাইম ফিকশন’, এটিএন বাংলায় প্রচারিত সৌর্য দিপ্ত সূর্য পরিচালিত ‘শাওন হত্যা’ প্রভৃতি।

অভিনয়ের পাশাপাশি নির্মাণের সঙ্গেও যুক্ত আলমগীর সাগর। একটি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মাণের মাধ্যমে নির্মাতা হিসেবে আত্ম প্রকাশ করেন তিনি। এরপর গাজী রাকায়েত ও হুমায়রা হিমু অভিনীত বাউল সঙ্গীত শিল্পীদের জীবন কাহিনী নিয়ে প্রথম নির্মাণ করেন টেলিভিশন নাটক ‘গানাদার’। ইউনিসেফের অর্থায়নে বাংলাদেশ শর্ট ফিল্ম ফোরাম আয়োজিত ১২Ñ২০ বছর বয়সী শিশু-কিশোরদের অংশগ্রহণে ১ মিনিটের চলচ্চিত্র নির্মাণ কর্মশালায় নীলফামারী জেলার প্রশিক্ষক হিসেবে কাজ করেন। গাজী রাকায়েত পরিচালিত চলচ্চিত্রের সহকারী পরিচালক হিসেবে কাজ করছেন। এভাবেই প্রতিনিয়ত বিভিন্ন কাজে নিজেকে সম্পৃক্ত রাখছেন। সব সময় ভাল ভাল কাজের সন্ধান করেন তিনি।

নিজের ক্যারিয়ারের ভবিষ্যত পরিকল্পনা প্রসঙ্গে আলমগীর সাগর বলেন অভিনয় আর পরিচালনা দুই অঙ্গনেই কাজ করতে চাই। তবে অভিনয় ছাড়া বোধহয় বেঁচে থাকা সম্ভব না। যত কিছুই করি অভিনয় করতেই হবে। অভিনয় রক্তের সঙ্গে মিশে গেছে। ছোটবেলা থেকেই ইচ্ছে ছিল অভিনেতা হব, নায়ক হব। ছোটবেলায় আমি দেখতে অনেক খাটো ছিলাম। এক বড় ভাই বলেছিলো নায়ক হতে হলে লম্বা হতে হবে। তারপর থেকে নায়কদের উচ্চতা খুঁজে বের করার চেষ্টা করতাম এবং নামাজের সময় দোয়া করতাম আল্লাহ্ আমাকে লম্বা বানায় দেন। বেশি লম্বা লাগবে না আল্লাহ্ মোটামুটি ৫ ফুট ৬ ইঞ্চি হলেই হবে। আল্লাহ সে দোয়া কবুল করেছে। লম্বা ৫ ফুট ৬ ইঞ্চি হয়েছি কিন্তু নায়ক হতে পারিনি। তবে তা নিয়ে কোন আফসোস নেই। অভিনয় চালিয়ে যেতে চাই। নায়ক হতে না পারি একজন অভিনেতা হতে পারব এই বিশ^াস। সেই বিশ্বাস নিয়েই এগিয়ে চলেছি। স্বপ্ন পুরণে সবার সহযোগিতা চাই। সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন যাতে ভাল একজন মিডিয়া কর্মী হিসেবে দেশের সংস্কৃতি অঙ্গনে ভূমিকা রাখতে পারি।