১৮ এপ্রিল ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

স্নেহের ছায়ায়-

ছোটদের প্রতি বড়দের স্নেহ জাগবে, তাদের ভালর জন্য কিছু একটা করতে মন চাইবে- এটাই স্বাভাবিক। আমাদের সমাজে শিশুদের প্রতি নানা নির্মমতার দৃষ্টান্ত জেনে আমরা শিউরে উঠি, ভাবিত হই। নিজ নিজ অবস্থান থেকে এর প্রতিবাদেও শামিল হই। কিন্তু পাশাপাশি এটাও আমাদের স্মরণে রাখা সঙ্গত যে, সমাজের শতভাগ মানুষ মন্দ হতে পারে না। বরং বলতে পারি অল্প কিছু লোকই হয়ে থাকে মানুষ নামের কলঙ্ক। সমাজের বেশিরভাগ মানুষই ভালর সঙ্গে থাকে, ভালকে সমর্থন দেয়, সম্মানও দিয়ে থাকে তাকে। মানুষের কোন না কোন কল্যাণ কাজে নিয়োজিত থাকা একক ব্যক্তির পক্ষে অসম্ভব হতে পারে না। তবে বড় পরিসরে কিছু করতে গেলে সমষ্টির প্রয়োজন পড়ে। তখন সংগঠন গড়ে তোলা জরুরী হয়ে পড়ে। মানুষের সেবার ওপরে তো আর মহান কোন কাজ হতে পারে না। মানুষ মানুষের জন্য- এই ব্রত নিয়ে যারা কর্মদ্যোগী হয় আর দশটা সাধারণ মানষের মতো দেখতে হলেও তারা অসামান্য মানুষ। এমন কিছু মানুষই সমাজে উজ্জ্বল উদাহরণ সৃষ্টি করে। তাকে দেখে অন্য মানুষও অনুপ্রাণিত হয়। এভাবেই সামাজিক শক্তি সমাজের অগ্রযাত্রায় ভূমিকা রাখে।

ঢাকায় ছায়াতল নামে যে ছোট্ট মানবিক সংগঠন গড়ে উঠেছে তার ছায়াতলে অনেক ছিন্নমূল শিশু ধীরে ধীরে শিক্ষার আলো পাচ্ছে। তাদের চিকিৎসাসেবা ও বিনোদন দানের জন্য সংগঠনটি কাজ করে আসছে। যদিও এটি শুরু হয়েছিল একজন ব্যক্তির সদিচ্ছা, আন্তরিকতা ও ইতিবাচক উদ্যোগ থেকে। মাসুদ রানা নামের এই ব্যক্তি পার্কে সময় কাটাচ্ছিলেন। সেখানে কয়েক পথশিশুর দেখা পান, যারা ছিল ক্ষুধার্ত। এই শিশুদের তিনি নিজ নিজ নাম লেখানোর মধ্য দিয়ে হাতেখড়ির ব্যবস্থা করেন। তারা নিয়মিত পার্কে এসে লেখাপড়া শিখতে শুরু করে। ক্রমান্বয়ে তাদের সংখ্যা বাড়তে থাকে। কিছু মেডিক্যাল শিক্ষার্থী এই শিক্ষাদান প্রক্রিয়ায় অবদান রাখার জন্য সংগঠন গড়ে তোলার আবশ্যকতার বিষয়টি সামনে নিয়ে আসেন। ফলে গঠিত হয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। ঝড়-বৃষ্টির দিনে তো আর খোলা আকাশের নিচে বসে পাঠদান সম্ভব নয়! এগিয়ে আসেন একজন বিত্তবান উদার মানুষ। তিনি পরামর্শ দেন অফিস নিতে, যেটির ভাড়া তিনিই মেটাবেন। এভাবে পার্কের উন্মুক্ত শিক্ষালয় থেকে পথশিশুদের স্থান হয় ভবনের কামরায়। ঝড়-বৃষ্টিতেও থেমে থাকে না শিক্ষার আলো জ্বালাবার কাজ। তবে কাজটিকে আরও বেগবান ও সুস্থিতিদানের জন্য অর্থেরও প্রয়োজন রয়েছে। সমমনা পরোপকারী উদারহৃদয় মানুষ যদি এগিয়ে আসেন, সাহায্যের হাত বাড়ান তবে ‘ছায়াতল’-এর পথশিশুরা আরেকটু ছায়া পাবে। আমরা তো জানি যে পথশিশুদের নানা অপকর্মে ব্যবহার করা হয়। ডান্ডি নামে এক প্রকার নেশায় শিশুদের অভ্যস্ত করে তোলে চুরি ও ছিনতাইয়ের মতো অপরাধে জড়ানো হয়। ছায়াতলের যাত্রা থেকে প্রেরণা নিয়ে সমাজে এমন দুয়েকজন করে ব্যক্তি নিজের অর্থায়নে ছিন্নমূল শিশুদের জীবনটাকে যদি গড়ে দেয়ার জন্যে উদ্যোগ নেন, তবে একসময় দেখা যাবে অভিভাবকহীন শিশুরা মানুষ হয়ে উঠছে, সমাজে তারা ইতিবাচক অবদান রাখছে।

সমাজের কল্যাণ করার জন্য কাজের অভাব নেই। হয়ত সুন্দর মনেরও অভাব নেই। শুধু প্রয়োজন উদ্যোগী হওয়া এবং হাতে নেয়া ব্রতটিকে স্থিতি ও স্থায়িত্ব দেয়ার জন্য মনোবল ও পরিকল্পনা। এভাবেই বাংলাদেশ একদিন আলোয় ভরে উঠবে।

নির্বাচিত সংবাদ