২০ এপ্রিল ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বিজয়ের পথ ধরে

বিজয় মহান। মহত্ত্বের ধারাকে প্রলম্বিত করে বিজয়ের আবাহন। কিন্তু অর্জিত বিজয়কে ধরে রাখা সহজতর নয়। তবু বিজয়ের রথ টেনে নিয়ে যেতে হয় কাছ থেকে দূরে। এমনকি দূরত্ব দূরেও। বাঙালীর জীবনে বিশাল বিজয় এসেছিল উনিশ শ’ একাত্তর সালে। সশস্ত্র রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে জীবন-মরণ পণ করে ছিনিয়ে এনেছিল বিজয়। হায়! সেই বিজয় ধরে রাখা যায়নি। পরাজিত শত্রুরা গোপনে গোপনে রেখেছিল প্রস্তুতি। তাদের সঙ্গে সংযুক্ত হয়েছিল আরও একদল। দুইয়ের সম্মিলনে পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট বাঙালীর অবিসংবাদিত নেতা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করে। স্বাধীনতাপ্রাপ্তির সাড়ে তিন বছরের মাথায় এই হত্যাযজ্ঞ বাঙালীর জীবনকে স্তব্ধ করে দেয়। সামরিক জান্তারা পরাজিত শক্তিকে শুধু পুনর্বাসন নয়, রাজনৈতিক অধিকারও প্রদান করে। এমনকি তাদের ব্যবসা-বাণিজ্য করার সুযোগ-সুবিধা দেয়া হয়। এই পরাজিত শক্তি দেশকে অস্থিতিশীল করে তোলায় সশস্ত্র অবস্থানও নেয়। আর সামরিক ছাউনিতে গড়ে ওঠা রাজনৈতিক দলটির সঙ্গে একাত্ম হয়ে বাংলাদেশকে পাকিস্তানী ধারায় ফিরিয়ে নিতে সহায়ক হয়। এদের বিরুদ্ধে স্বাধীনতা যুদ্ধের নেতৃত্বদানকারী দল আওয়ামী লীগকে সেই পঁচাত্তর পরবর্তী সময় থেকে লড়াই, সংগ্রাম, আন্দোলন চালিয়ে যেতে হয়। আওয়ামী লীগসহ মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তিকে ধ্বংস করার জন্য হেন অপকর্ম নেই যা তারা করেনি। নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে ‘মিডিয়া ক্যু’, মার্শাল ক্যু’র মাধ্যমে পাল্টে ফেলার ঘটনা দেশবাসী প্রত্যক্ষ করেছে। এসবই এদেশের ইতিহাসের অংশ আজ।

গত ত্রিশে ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট বিপুল ভোটে নিরঙ্কুশ জয়লাভ করে। নির্বাচনে ধানের শীষের আড়ালে লুক্কায়িত জামায়াতের প্রার্থীরা শুধু হারেনি, জামানতও বাজেয়াপ্ত হয়েছে। একই সঙ্গে পাকিস্তানী ভাবধারার রাজনীতিক ও দল জনগণ কর্তৃক প্রত্যাখ্যাত হয়। নামমাত্র আসন পায় তারা। দেশবাসী মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে, উন্নয়নের পক্ষে, সমৃদ্ধির পক্ষে ভোট দিয়েছে। টানা তৃতীয়বার আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসে। এর আগে দশ বছরের শাসনামলে দেশকে মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত করার লক্ষ্যে কার্যক্রম চালু হয়। বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশ এমনই উন্নয়ন করেছে যে, বিশ্ববাসী হতবাক। তাদের কাছে বাংলাদেশ এখন নানাদিক হতে ‘রোল মডেলে’ পরিণত হয়েছে। শেখ হাসিনা সফল রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে বিশ্বে সমাদৃত আজ। বিশ্বের উন্নত দেশের নেতাদের সারিতে তার অবস্থান। তাই জনগণ উন্নয়নের ধারাবাহিকতা রক্ষায় শেখ হাসিনাকে নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে আগামী পাঁচ বছরের জন্য দেশ শাসনের ‘ম্যান্ডেট’ প্রদান করেছে। চতুর্থ দফা প্রধানমন্ত্রী হলেন তিনি। তাই তার কাঁধে গুরুভার। দেশবাসীর বিশাল প্রত্যাশা তাকে ঘিরে। জাতির পিতার কন্যা হিসেবে শেখ হাসিনা পিতার অসমাপ্ত আরাধ্য কাজকে এগিয়ে নিয়ে দেশকে সোনার বাংলায় পরিণত করতে সচেষ্ট। নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয়ের পর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বিজয় উৎসব উপলক্ষে আয়োজিত বিশাল সমাবেশে শেখ হাসিনা যে বক্তব্য রেখেছেন তা প্রণিধানযোগ্য। আগামী পাঁচ বছরে দেশকে কিভাবে পরিচালনা করবেন সে দিকনির্দেশনাও দিয়েছেন। সন্ত্রাস ও মাদক নির্মূল, দুর্নীতির উচ্ছেদ, সুশাসন প্রতিষ্ঠা, দেশকে ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত করার কথা তিনি উচ্চারণ করেছেন। বিজয় পাওয়া যত কঠিন সেটা রক্ষা করে জনগণের সেবা করা আরও কঠিন কাজ- এই উপলব্ধি শেখ হাসিনার। তাই বিজয়কে সংহত করতে সবাই মিলে দেশ গড়ার যে ডাক দিয়েছেন তা সময়ের নিক্তিতে অবশ্যই গুরুত্ববহ। দেশের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করে স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত করার ব্রত সবার মধ্যে সঞ্চারিত করতে চান। এখানেই তিনি মহান এবং সফল রাষ্ট্রনায়ক। দলমত নির্বিশেষে সবার উন্নয়নে কাজ করার যে অঙ্গীকার করা হয়েছে দেশবাসী তার নজির দেখতে পাবেন সকল কাজেই। সন্ত্রাস, জঙ্গীবাদ ও নাশকতায় জড়িতরা যাতে দেশকে পিছিয়ে দিতে না পারে সেজন্য দেশবাসী ও সমাজকে উন্নতির দিগন্তে নিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে হবেই। শেখ হাসিনার বিজয় মানে পুরো বাংলাদেশেরই বিজয়, জনগণ তা-ই মনে করে।

নির্বাচিত সংবাদ