২২ জানুয়ারী ২০১৯

স্কাই ট্রিপ নিয়ে জয়

তরুণরাই হলো আমাদের উন্নয়নের বাহক। যে দেশে যত বেশি তরুণ কর্মক্ষম থাকে সে দেশের তত বেশি ভাগ্যোন্নতির দুয়ার খোলা থাকে। আমাদের দেশেও অনেক মেধাবী তরুণ আছে যারা নিজ উদ্যোগে গড়ে তুলেছে কর্মক্ষেত্র। শুধু নিজে নয় পাশাপাশি অনেকেরই কর্মক্ষেত্র গড়ে উঠেছে সেই তরুণদের ফার্মগুলোতে। সম্প্রতি কথা হলো তেমনই এক উদ্যোক্তার সঙ্গে যার কিনা ছাত্রজীবন থেকেই চিন্তায় ছিল নতুন কিছু করার। দেশ ও দেশের মানুষের কল্যাণার্থে কিছু করার। নাম তার আরিফুল ইসলাম জয়। বয়স সবেমাত্র ২৯- এ পড়েছে। জড়িত রয়েছেন সামাজিক উন্নয়নমূলক কর্মকা-ের সঙ্গে। একান্ত সাক্ষাতকারে উঠে এসেছে তার স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দেয়ার গল্পটি। সাক্ষাতকার নিয়েছেন- মোয়াজ্জেম হোসেন

ডিপ্র্রজন্ম : কেমন আছেন?

জয় : জ্বি আলহামদুলিল্লাহ, ভাল আছি।

ডিপ্র্রজন্ম : প্র্রথমেই নিজের সম্পর্কে কিছু বলুন?

জয় : নিজের সম্পর্কে আসলে বলার মতো তেমন কিছু নেই। খুবই সিম্পল, নিজের প্র্রতিষ্ঠান দেখাশোনা করছি। নরসিংদী জেলার রায়পুরা থানার একটি গ্রামে আমার জন্ম। আর এখন নিজেকে সফল একজন উদ্যোক্তা হিসেবে দেখতে চাই এবং সে লক্ষ্যেই সামনের দিকে অগ্রসর হচ্ছি।

ডিপ্র্রজন্ম : আচ্ছা আপনি তো এখন কয়েকটি ফার্মের মালিক, এত অল্পসময়ে আপনার সাফল্যের গল্পটি যদি বলতেন...

জয় : আমি যখন বিবিএতে ঢাকা সিটি কলেজে ভর্তি হই তখন থেকেই আমি চাকরি করার পক্ষপাতী ছিলাম না। ভাবনায় ছিল নিজের মতো করে এমন কিছু করার যাতে আমার পাশাপাশি দেশেরও লাভ হয়। তখন থেকেই চিন্তা করতে করতে কয়েকটি ধারণা আসে। পরে এগুলোকে নিয়ে সামনে এগুতে থাকি। সে সময় আমি আমার এক বন্ধুর কাছে শুনেছিলাম ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট নামে একটি কথা। তারপর সেটা নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি করতে থাকি এটা কি, কিভাবে কাজ করা যায়। এটা নিয়ে কয়েকজনের সঙ্গে বোঝাপড়া করে তারপর শুরু করি। এরই প্র্রেক্ষিতে বহু চড়াই-উতরাই পার করে কয়েকটি বড় বড় কোম্পানির কাজও পাই। ব্যাস তখন থেকে চলছে। এরপর দেখলাম পাশাপাশি যদি আরও একটা কিছু হতো তাহলে আরও ভাল হতো। তখন আমি ঘুরতে গিয়েছিলাম ভুটান। কিন্তু ওখানে যেতে আমার অনেক দুর্ভোগ পোহাতে হয় বিমানের টিকেটের জন্য। তাছাড়া ওখানে গিয়ে আরও সমস্যায় পড়ি ভাষা না জানার কারণে।

তখনই আমার মাথায় আসে আমাদের দেশে তো পর্যটনের অনেক সম্ভাবনা আছে। এবং অনেক বিদেশীরা এদেশে এসে বিভিন্ন সমস্যায় পড়ে। তাছাড়া ভাষা না বুঝার কারণে নানা ভোগান্তিতে পড়তে হয়। তাহলে এমন কিছু যদি করি যে বিদেশীরা এদেশে এসে ভালভাবে যেন ঘুরতে পারে। এতে বাংলাদেশের পর্যটন শিল্পের সুনাম হবে।

তখন এক সপ্তাহের ট্যুর শেষ করে দেশে ফিরেই এটা নিয়ে কাজ শুরু করি। প্র্রথমেই চিন্তা করি বিমানের টিকেট নিয়ে যেন কোন ভোগান্তি না হয় সে ব্যবস্থা করা। তারপর শুরু করি স্কাই ট্রিপ () নামে কোম্পানির যাত্রা। এখন স্কাই ট্রিপ থেকে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক সকল রোডের টিকেট সহজেই যে কেউ নিতে পারে। এবং বিদেশীদের এদেশে এসে ভাষা বুঝতে কোন সমস্যা না হয় সে জন্য ট্রান্সলেটার গাইডও আছে আমাদের নিজেদের।

ডিপ্র্রজন্ম : আপনি প্র্রচারণাটা কিভাবে করেন?

জয় : আমাদের কোম্পানির অনেক এজেন্সির সঙ্গে কন্টাক্ট আছে এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও অনেক ভাল ফিডব্যাক পেয়েছি।

ডিপ্র্রজন্ম : আচ্ছা আপনার সবগুলো প্র্রতিষ্ঠান মিলে কতজন কর্মচারী আছে?

জয় : আমার প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্র্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষ মিলে প্রায় ৫০ জনের মতো কর্মচারী আছে।

ডিপ্র্রজন্ম : এ ধরনের বিজনেসে বড় প্রতিবন্ধকতা কি?

জয় : এক্ষেত্রে দক্ষ লোকবল সংকট একটি বড় প্র্রতিবন্ধকতা।

ডিপ্র্রজন্ম : নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য কী পরামর্শ দিবেন?

জয় : যারা নতুন উদ্যোক্তা হতে চান তাদেরকে এটাই বলব, যে কোন বাধায় যেন মনোবল ঠিক রাখে। কেননা নতুন কিছু করতে একটু বাধা-বিপত্তি আসতেই পারে। তাই ধৈর্যহারা হলে চলবে না। প্রয়োজনে কারও পরামর্শও নেয়া যেতে পারে। এছাড়াও উদ্যোক্তা হতে হলে প্রয়োজন এ বিষয়ে প্র্রচুর জানাশোনা। আর না জানলে সেটা কারও সাহায্য নিয়ে জানতে হবে। থাকতে হবে ইচ্ছাশক্তি। সফল উদ্যোক্তাদের নিয়ে পর্যালোচনা করুন। ইচ্ছাশক্তি স্থির করুন। সফলতা আসবেই।

ডিপ্র্রজন্ম : আপনার ভবিষ্যত পরিকল্পনা কি?

জয় : আমার প্রতিষ্ঠান নিয়েই আমার স্বপ্ন আমার চিন্তা ভাবনা সব। নিজের প্রতিষ্ঠানকে ভাল অবস্থানে নিয়ে যেতে চাই, এবং একজন সফল উদ্যোক্তা হতে চাই। আমি সূচনালগ্ন থেকেই আছি এবং থাকব। আগামীতে প্রতিষ্ঠানটি অনেকদূর নিয়ে যেতে চাই। পাশাপাশি যাতে আরও অনেক লোকের কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দিতে পারি।

ডিপ্র্রজন্ম : দেশের জন্য কী করতে চান?

জয় : আস্তে আস্তে আমাদের পরিব্যাপ্তি বাড়বে বিশ্বজুড়ে। পাশাপাশি এদেশ সম্পর্কে ভাল ধারণা হবে বিদেশীদের। এদেশের প্রর্যটন ব্যবস্থাকে আরও উন্নত করতে চেষ্টা করব। আমরা সামাজিক উন্নয়ন কাজে আরও বেশি জড়াবো আমাদের উন্নয়নের সঙ্গে সঙ্গে।