১৮ এপ্রিল ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

কালো ব্যাধি

ব্যাধির কোন রং হয়ত হয়, হয়ত হয় না। দৃষ্টিভঙ্গিই নির্ধারণ করে দেয় ব্যাধির রং কেমন। ‘কালাজ্বর’ বলে একটি ব্যাধি রয়েছে, যা মারাত্মক। অসুখ-বিসুখ মানবদেহে সংক্রমিত হলে তার ধকল পোহাতে হয় আক্রান্তকেই। কিন্তু শরীরের বাইরে ব্যাধির সংক্রমণ ঘটে সমাজেও। কলুষিত হয়ে ওঠে সমাজ ব্যবস্থা। সমাজদেহের রন্ধ্রে রন্ধ্রে এই ব্যাধি এমনভাবে প্রবেশ করতে থাকে যে, তাতে সামাজিক ভারসাম্য বিনষ্ট হয়ে আসে। পতিত মানবের অধঃপতনের ভার বহন করার ক্ষমতা অনেক সময় থাকে না। কলুষ অন্ধকার এসে ঘিরে ফেলে সমাজের আলো। খুবলে খুবলে খায় আলোর কণাগুলো। তারপর কেবলই অন্ধকার, কেবলই কানামাছি খেলা চলে। দুর্নীতি, জঙ্গীবাদ ও মাদক হচ্ছে সমাজের ‘কালো ব্যাধি’। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এভাবেই মূল্যায়ন করেছেন এসব ব্যাধিকে। সমাজজীবনকে ধ্বংস করার ক্ষেত্রে এ সব ব্যাধির প্রভাব ব্যক্তি মানুষের জীবনে আর সীমাবদ্ধ থাকে না। পরিবারও ভুক্তভোগী হয়, কারণ পরিবার তো সমাজেরই অংশ। সমাজ কাঠামো তাকে ঘিরেই গড়ে ওঠে। কিন্তু ব্যাধিক্রান্ত সমাজ আর যাই হোক কোন সুস্থতাকে গুরুত্ব দিতে পারে না। বরং সুস্থ অবস্থানকে অসুস্থ করে ফেলায় থাকে তৎপর। শেখ হাসিনার সরকার সমাজদেহ থেকে জঙ্গীবাদ ও মাদককে নির্মূল করার জন্য নানাবিধ তৎপরতা অব্যাহত রেখেছে। তাই তিনি কালো ব্যাধির বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার ক্ষমতায় থাকাকালে দেশে জঙ্গীবাদের বিস্তার ঘটানো হয় রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায়। ‘বাংলা ভাই’ নামক জঙ্গী দানবকে মাঠে ছেড়ে দেয়া হয় মানুষ হত্যার জন্য। সেসব সবার জানা। তারপর ২০০৪ সালে শেখ হাসিনার সমাবেশে তাকে হত্যার জন্য গ্রেনেড হামলা চালিয়ে ২২ জনকে হত্যা, ১৭ আগস্ট একযোগে সারাদেশে গ্রেনেড হামলা চালানোর মাধ্যমে জঙ্গীবাদের বিস্তার ঘটে। জঙ্গীদের তৎপরতা ক্রমশ বাড়তে থাকে। হলি আর্টিজানের ঘটনা বিশ্বকেও নাড়া দিয়েছে। জঙ্গীবাদ দমনে শেখ হাসিনার সরকার শূন্য সহিষ্ণুতা (জিরো টলারেন্স) নীতি গ্রহণ করে। জঙ্গীদের আস্তানা চিহ্নিত করে তা নির্মূলও করা হচ্ছে। জঙ্গীদের কালো থাবা থেকে দেশকে মুক্ত করার জন্য জনসচেতনতাও বাড়ানো হয়েছে। বিএনপি-জামায়াতের মদদপুষ্ট এসব জঙ্গী দেশকে অস্থিতিশীল করে তোলার যতই চেষ্টা চালিয়েছে সরকার তা কঠোর হস্তে দমন করেছে। অপরদিকে জঙ্গীদের সঙ্গে মাদক কারবারিরও একটা যোগসূত্র রয়েছে। মাদকের অর্থ জঙ্গী খাতেও ব্যবহৃত হয়ে আসছে। মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে অভিযান চলছে গত বছর থেকেই। এ পর্যন্ত বন্দুক যুদ্ধে প্রায় দুই শ’ জঙ্গী নিহত হয়েছে। গ্রেফতার হয়েছে সহ¯্রাধিক। কিন্তু সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দুর্বলতা ও ঔদাসীন্যের কারণে অনেক জঙ্গী জামিনে ছাড়া পেয়ে আবার নাশকতায় তৎপর হয়েছে এমন ঘটনাও রয়েছে। ভয়াবহ মাদক ‘ইয়াবা’র সারাদেশে ব্যাপকভাবে প্রসার ঘটেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কেউ কেউ অবশ্য এই ইয়াবা ব্যবসায় জড়িত বলে পত্রিকান্তরে প্রকাশ। তথাপি শেখ হাসিনার সরকার মাদকমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে বহুমুখী পদক্ষেপ নিয়েছে। পঁচাত্তর পরবর্তী ক্ষমতাদখলকারী সামরিক জান্তা শাসকরা দেশের তরুণ সমাজকে ধ্বংস করে ভবিষ্যতের সুনাগরিক হয়ে গড়ে ওঠার প্রক্রিয়া নস্যাতে মাদকের ব্যাপক প্রসার ঘটিয়েছিল। ক্ষমতাধররা নিজেরাই এই ব্যবসায় জড়িয়ে কালো টাকার মালিক হয়ে সমাজে হর্তাকর্তার ভূমিকা নিয়েছিল। ধর্ম ব্যবসায়ী যুদ্ধাপরাধীর দল জামায়াতের আর্থিক যোগানের একটা বড় অংশ আসে এই মাদক ব্যবসা থেকে। মাদক কারা আনে, কারা পাচারকারী, কারা সেবন করে- সবই জানা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কর্তৃপক্ষের। কিন্তু নির্মূল করা তাদের জন্য সহজসাধ্য হয়ে ওঠেনি। মাদকাসক্তদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে নেয়ার জন্য সরকার প্রাণান্তকর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। মাদকের আমদানি ও পাচারের উৎস নির্মূল করার কাজ চলছে। এই কালো ব্যাধিদ্বয়ের পাশাপাশি আরও যে ব্যাধিটি সমাজ সংসারকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাচ্ছে তা হচ্ছে দুর্নীতি। সমাজের উন্নয়ন শুধু ব্যাহতই করে না, সমাজকে পঙ্গু করে দিতে সক্রিয় এই দুর্নীতি। দুর্নীতি দমন কমিশন নামক প্রতিষ্ঠানের একার পক্ষে দুর্নীতি দমন দূরে থাক, নিয়ন্ত্রণ করাও কঠিন। সেই কঠিনের অর্গল ভাঙতে সচেষ্ট বর্তমান সরকার। টানা তৃতীয় দফা ক্ষমতায় আসা সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকারও রয়েছে দুর্নীতি দমন। সরকারী কর্মচারীদের বেতন-ভাতার সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো হলেও দুর্নীতি হ্রাস না পাওয়ার কারণ খতিয়ে দেখা উচিত। বাংলার সমাজকে রক্ষা তথা দেশ বাঁচাতে হলে সকল কালো ব্যাধি উৎপাটন করা জরুরী। জনগণের সহায়তায় সরকার এই দুরূহ কাজে সাফল্য লাভ করবে- এমনই প্রত্যাশা দেশবাসীর।

নির্বাচিত সংবাদ