২৪ এপ্রিল ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

উপভোগ্য ম্যাচে খুলনাকে হারাল রংপুর

উপভোগ্য ম্যাচে খুলনাকে হারাল রংপুর

মিথুন আশরাফ ॥ এবি ডি ভিলিয়ার্স রংপুর রাইডার্সে যোগ দেয়ার আগে দলের বেহাল অবস্থা ছিল। যেই ভিলিয়ার্স যোগ দিলেন, তার জাদুর ছোঁয়ায় যেন বদলে গেল রংপুর। যে দলটি টানা তিন ম্যাচে হেরেছিল, সেই দলটিই টানা দুই ম্যাচ জিতে নিল। এবার খুলনা টাইটান্সকে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ম্যাচে ৬ উইকেটে হারাল রংপুর।

মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে মঙ্গলবার দিনের প্রথম ম্যাচে টস জিতে আগে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নেয় রংপুর। খুলনা ব্যাটিংয়ের সুযোগটি ভালভাবেই কাজে লাগায়। নাজমুল হোসেন শান্ত (৪৮) ব্যাট হাতে অবশেষে জ্বলে উঠতে পারেন। শুরুতে ব্রেন্ডন টেইলর (৩২), মাঝে শান্তর সঙ্গে মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ (২৯) ও শেষে ডেভিড উইজের (১৫ বলে অপরাজিত ৩৫ রান) ঝড়ো ইনিংসে ৬ উইকেট হারিয়ে ২০ ওভারে ১৮১ রান করে খুলনা। স্কোরবোর্ডে আরও বেশি রান হতে পারত। কিন্তু ফরহাদ রেজা (৪/৩২) যে অসাধারণ বোলিং করেন তাতে এই রানেই থামে খুলনা।

এত বড় স্কোর অতিক্রম করে ফেলতে পারে রংপুর তা আগেই ধারণা হয়। নিজেদের সর্বশেষ ম্যাচটিতেই যে সিলেট সিক্সার্সের করা ১৯৪ রান অতিক্রম করে জিতে রংপুর। রংপুরের প্রথম চার ব্যাটসম্যানকে দেখলেইতো যে কোন প্রতিপক্ষের ভয় হওয়ার কথা। গেইলের সঙ্গে ওপেনিংয়ে এ্যালেক্স হেলস আছেন। এরপর রাইলি রুশো ও এবি ডি ভিলিয়ার্স রয়েছেন। এই চার ব্যাটসম্যানের সবাই দলকে জেতাতে সক্ষম। তার প্রমাণও মিলল। শুরুতে হেলস (২৯ বলে ৫৫ রান) ঝড় তুললেন। এরপর ভিলিয়ার্স (২৫ বলে ৪১ রান) এসে বিধ্বংসী ব্যাটিং করলেন। নিজের স্বভাবজাত মারমুখী ব্যাটিং থেকে বের হয়ে দলকে জেতানোর লক্ষ্যে শুরু থেকে ১৯ ওভার পর্যন্ত নিজেকে উইকেটে টিকিয়ে রেখে ৪০ বলে ৫৫ রানের ইনিংস খেললেন গেইল। বিপিএলে এবার প্রথম হাফ সেঞ্চুরি করলেন। শেষে যখন দল জিতবে কিনা এই ভাবনার দোলাচলে, রুশো (৩ বলে অপরাজিত ১০ রান) বরাবরের মতো ভরসা হয়ে দাঁড় হলেন। ৩ বল বাকি থাকতে ৪ উইকেট হারিয়ে ১৯.৩ ওভারে ১৮৩ রান করে জিতে রংপুর। এই জয় পেয়ে পয়েন্ট তালিকার সেরা চারেও অবস্থান করে। যে অবস্থানে না থাকতে পারলে ‘প্লে-অফ’ খেলা হবে না বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের। সেই স্থান থেকে সরেও গিয়েছিল তারা। ভিলিয়ার্স যুক্ত হওয়ার পর টানা দুই ম্যাচ জিতে আবার সেই স্থানে ফিরে রংপুর।

অথচ এই ভিলিয়ার্সের বিষয়ে শুরুতেই রংপুর কোচ টম মুডি বলেছিলেন, ‘সে জাদু দেখিয়ে ম্যাচে বিশাল কোন পার্থক্য গড়ে দেবে- এমনটা মনে করি না আমি।’ মুডি তা মনে না করলেও তাই হচ্ছে। ভিলিয়ার্স দলে যোগ দিতেও অন্যরকম পরিবেশ তৈরি হয়েছে। ক্রিকেটারদের ভেতর আলাদারকম আত্মবিশ্বাস দেখা যাচ্ছে। ভিলিয়ার্স নিজেও ব্যাট হাতে দেখাচ্ছেন ঝলক। তাতে করে দলের অন্য ক্রিকেটাররাও হচ্ছেন অনুপ্রাণিত। রংপুর শিবিরে অন্যরকম আবহই তৈরি হয়েছে। এর সঙ্গে মিলছে জয়ও। প্রতিপক্ষ যত বড় স্কোরই গড়ুক, রংপুর ব্যাটসম্যানরা তা অতিক্রম করে ফেলার মতো মানসিকতাও দেখাচ্ছেন। যে ক্রিস গেইল এতদিন নিজেকে মেলে ধরতে পারেননি, তিনিও নিজের বিধ্বংসী রূপে ফিরছেন। হেলসও ব্যাটিং দ্যুতি ছড়াতে শুরু করেছেন। ঐক্যবদ্ধ নৈপুণ্যও মিলছে। প্রতিটি ক্ষেত্রেই ইতিবাচক দেখা যাচ্ছে রংপুরকে। তাতে ভিলিয়ার্স যোগ দেয়ার পরই বেশি করে মিলছে। আর এমনটি মিলে যাওয়াতেই আসছে জয়। জয় আসাতে খুলনাকে আবারও হারিয়ে টানা দুই ম্যাচ জিতে পয়েন্ট তালিকায় মজবুত অবস্থানও করতে পেরেছে রংপুর।