১৮ এপ্রিল ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ট্রাফিক শৃঙ্খলা পক্ষ

পনেরো দিনের বিশেষ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে ঢাকায় ট্রাফিক ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং যান চলাচলে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা কতটা সম্ভব, সে প্রশ্ন উঠতে পারে। গত ১৫ জানুয়ারী থেকে ট্রাফিক আইন প্রয়োগের পাশাপাশি জনসচেতনতা বাড়ানোর কাজ শুরু হয়েছে। এর আগেও তিন দফা এই কর্মপরিকল্পনা নিয়ে মাঠে নেমেছিল পুলিশ। ফলাফল শূন্যই বলা যায়। কারণ যতক্ষণ থাকেন তারা মাঠে ততক্ষণ পরিস্থিতি তাদের অনুকূলে এলেও পরে সবই ‘যথা পূর্বং তথা পরং’ অবস্থা। পুলিশ যতই সচেষ্ট হোক না কেন পথচারী ও যানবাহন চালকরা নিয়মকানুন আর আইনের গতিতে চলতে চায় না। তাদের আইন ভাঙ্গার প্রবণতা এত তীব্র যে, জীবন বিপন্ন হতে পারে এমন ভাবনাও আসে না মাথায়। রাস্তায় চলাচলের যে একটা বিধিবিধান, নিয়মকানুন রয়েছে তা তারা মানতে চায় না। এই এক বিতিকিচ্ছিরি অবস্থার মধ্যে পথচারী, যানবাহন চালক এবং ফুটপাথ দখলকারীদের নিয়ন্ত্রণে আনা খুবই দুরূহ। ফুটপাথকে অবৈধ দখলদারদের হাত থেকে উচ্ছেদ করাও সহজ কাজ নয়। উচ্ছেদের ক’দিন পর আবার দখল হয়ে যায়। মহাসড়কের দু’পাশের অবৈধ স্থাপনাগুলো সড়ক দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ। প্রায়শই এদের উচ্ছেদ করা হয়; কিন্তু আবার স্থাপনা গড়ে ওঠে। এসব অনিয়ম দূর করার জন্য কোন স্থায়ী পদ্ধতি বা পন্থা আবিষ্কার করা যায়নি এখনও।

অবশ্য টনক নড়েছিল কর্তৃপক্ষের। স্কুল শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের পর তারা সচেষ্ট হয়েছিলেন কার্যক্রম জোরালো করার জন্য। সড়ক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার জন্য দেশজুড়ে পালন করা হয়েছিল ট্রাফিক সপ্তাহ। পুলিশ সদস্যরা স্কাউট-গার্ল গাইডসদের নিয়ে যানবাহনের বৈধতা, মেয়াদ, ফিটনেস, চালকের লাইসেন্স যাচাই-বাছাই করেন। ট্রাফিক আইন মানার সংস্কৃতি এমনিতেই নগরবাসীর কম। পথচারীরাও উপেক্ষা করেন। যানবাহনের ক্ষেত্রেও নিয়ম না মানার সংস্কৃতি প্রবল। তাছাড়া ট্রাফিক সিগন্যাল বাতিগুলো সচল না থাকায় বিড়ম্বনা বাড়ছে। যানজটের দুর্ভোগে ক্লান্ত যাত্রী। এমনিতেই দেশের ট্রাফিক পরিস্থিতি বেশ নাজুক। আইন নিয়ে চালকদের যেমন সচেতনতা নেই, তেমনি সেই আইন প্রয়োগে ট্রাফিক পুলিশেরও নেই যথাযথ অংশগ্রহণ। আইন সার্বিকভাবে অনুসরণ না করার কারণে প্রায়শই দুর্ঘটনা ঘটছে। প্রাণ হারাচ্ছে যাত্রী, পথচারী। দেখা গেছে, সকল যানবাহনের চালকই ইচ্ছেমতো চলন্ত অবস্থায় যানবাহনে মোবাইল ফোনে কথা বলছেন। যাত্রীদের আপত্তিও ধোপে টেকে না। কিন্তু গাড়ি চালনাকালে মোবাইল ফোন ব্যবহারকারী চালককে পুলিশ দ- দিয়েছে এমন শোনা যায় না। এদিকে দুর্ঘটনা ঠিকই ঘটছে। রাজধানীর লাল সবুজ ট্রাফিক আলো অকারণেই জ্বলে কিংবা নেভে। যার কোন কার্যকারিতা নেই। যানবাহনের চাপ থাকলে ট্রাফিক পুলিশ হাত দিয়ে নির্দেশ করে যানবাহন নিয়ন্ত্রণ করেন। ট্রাফিক আইন কতটুকু অনুসৃত হচ্ছে তা দিয়ে একটি জাতির চরিত্র পরিমাপ করা হয়ে থাকে। সে বিবেচনায় জাতি হিসেবে আমরা বিশৃঙ্খল ও স্বার্থপর তা প্রমাণ হচ্ছে বারবার। স্বাধীনতার আটচল্লিশ বছরেও একটি সুশৃঙ্খল ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা যায়নি। ‘সাইন-সিম্বল’ ঠিকমতো স্থাপন করা যায়নি। জনমনে ট্রাফিক আইন মান্য করার প্রবণতা গড়ে ওঠেনি। ওভারব্রিজ থাকার পরও পথচারীরা তা ব্যবহার করে না বরং রাস্তা পারাপারে ব্যস্ত সড়ক ব্যবহার করে।

ট্রাফিক সপ্তাহ, ট্রাফিক শৃঙ্খলা সপ্তাহ ও ট্রাফিক সচেতনতা মাস পালনের মাধ্যমে ট্রাফিক আইনের কঠোর বাস্তবায়ন কতটা সম্ভব তা কর্তৃপক্ষই ভাল জানে। বাস্তবে জনগণকে ও যানবাহন সংশ্লিষ্টদের সচেতন করা এবং অত্যধিক যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে সকলই গরল ভেল।

নির্বাচিত সংবাদ