১৭ ফেব্রুয়ারী ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

চীন ও রাশিয়াকে নিয়ে উদ্বেগ

  • মার্কিন গোয়েন্দা প্রতিবেদন

রাশিয়া ও চীন ‘কৌশলগত পরিবেশ’ পরিবর্তনের সুযোগ বেশি করে নিচ্ছে এবং এর ফলে বিশ্বে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্ব গৌন হয়ে পড়তে পারেন, মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সর্বশেষ প্রতিবেদনে এমন মন্তব্য করা হয়েছে। এর মধ্যে রাশিয়া প্রভাব বিস্তার ও চীনের সামরিক আধুনিকায়নকে বিশেষভাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। কৌশলগত পরিবেশ প্রায় এক শতাব্দীকাল বজায় ছিল। টাইমস অব ইন্ডিয়া।

মঙ্গলবার প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলো দুর্বল হয়ে যাওয়ার মতো বৈশ্বিক প্রবণতাগুলো পশ্চিমা গণতন্ত্রের জন্য হুমকিস্বরূপ। এছাড়া বিভিন্ন দেশের সরকারগুলোর মধ্যে বিচ্ছিন্নতাবাদী মানসিকতা যেভাবে মাথাচাড়া দিচ্ছে সেটি আরেকটি বড় চ্যালেঞ্জ। ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্সের পরিচালক ড্যান কোটস প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘রাশিয়া প্রভাব প্রতিপত্তি বিস্তারের যে উদ্যোগ নিয়েছে তা অব্যাহত থাকবে বলে মনে হয়। এটি বিভিন্ন অঞ্চলে মার্কিন লক্ষ্য ও অগ্রাধিকারগুলোর সঙ্গে সংঘাত তৈরি করতে পারে। চীনের সামরিক বাহিনীর আধুনিকায়ন এবং অর্থনৈতিক ও আঞ্চলিক ক্ষমতা বিস্তারের চেষ্টা একটি উদ্বেগের বিষয়।’ চীন প্রশান্ত মহাসাগর ও আশপাশের এলাকায় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে চীন উদ্বেগের কারণ হলেও উত্তর কোরিয়ার পরমাণু অস্ত্রসহ বিভিন্ন ইস্যুতে দেশটির সঙ্গে কাজ করার সুযোগ রয়েছে। রুশ প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিনের সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সম্পর্ক উন্নয়নের চেষ্টা সত্ত্বেও দেশটির সঙ্গে সম্পর্কে জটিলতা রয়েছে। অন্যদিকে বাণিজ্য ও মেধা সম্পদ নিয়ে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে এখন ট্রাম্পের দর কষাকষি চলছে। ৩৬ পৃষ্ঠার ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মহাকাশে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা, সাইবার যুদ্ধাস্ত্রসহ প্রযুক্তির দ্রুত উন্নতি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। গোয়েন্দা তথ্যের ওপর ভিত্তি করে প্রতি চার বছর পর পর প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়। বলা হয়েছে, কৌশলগত পরিবেশ দ্রুত বদলাচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্র ধীরে ধীরে জটিল ও অনিশ্চিত পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছে। এখানে হুমকিগুলো বিভিন্ন রকমের এবং একটির সঙ্গে অপরটি সম্পর্ক যুক্ত। ২০১৪ সালের প্রতিবেদনে যে কৌশলগুলোর কথা বলা হয়েছিল এবারের প্রতিবেদনে তার সঙ্গে বিচ্যুতিগুলো তুলে ধরা হয়েছে। এখন একদিকে আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতা ট্রাম্প নিজের দেশকে প্রত্যাহার করে নিচ্ছেন। অন্যদিকে মিত্রদের সঙ্গে রাজনৈতিক দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়ছে দেশটি। এই সুযোগে প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলো নিজেদের প্রভাব বল বাড়ানোর চেষ্টা করছে। বদলে দেয়ার চেষ্টা করছে আন্তর্জাতিক ধারা। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকেই বিশ্বে যে ধারা বিদ্যমান ছিল। এতে পশ্চিমা গণতন্ত্রকে আদর্শ শাসন ব্যবস্থা হিসেবে মেনে নেয়া হয়েছিল। পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যে এখন বিচ্ছিন্ন হয়ে থাকার প্রবণতা বাড়ছে।

২০১৪ সালের প্রতিবেদনে অবশ্য মহাকাশের কথা বলা হয়নি। কিন্তু সেটিকে এবার একটি প্রতিদ্বন্দ্বিতার ক্ষেত্র হিসেবে মেনে নেয়া হয়েছে। এটি এখন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে মিত্রদের লড়াইয়ের অন্যতম ক্ষেত্র। মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ঢেলে সাজানোর অংশ হিসেবে ট্রাম্প নয়া স্পেস ফোর্স গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন। এর মধ্যে মহাকাশ ভিত্তিক সেন্সর ও প্রত্যক্ষ শক্তি অস্ত্র রয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র এখন আর মহাকাশ এককভাবে নিয়ন্ত্রণ করে না। রাশিযা ও চীন এখন পূর্ণ মাত্রার স্যাটেলাইট বিধ্বংসী অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করছে। তাদের প্রচেষ্টা সফল হলে মার্কিন সেনাবাহিনীর সক্ষমতা চাপের মুখে পড়বে। এতে পরিবেশ বিপর্যয় ও প্রাকৃতিক সম্পদের সীমাবদ্ধতার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে তবে সেগুলো বিস্তারিতভাবে বলা হয়নি।