২৩ ফেব্রুয়ারী ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

রানী লক্ষ্মীবাঈয়ের ভূমিকায় কঙ্গনা রানাওত

  • অনন্য রেজা করিম

কঙ্গনা রানাওতকে ফোর্বস ইন্ডিয়া ৫ বার ১০০ সেলিব্রেটিসদের তালিকায় ঠাঁই দিয়েছে। ৩১ বছর বয়সী বহুল আলোচিত, মেধাবী, জনপ্রিয় এই বলিউড অভিনেত্রীর জন্য এটাও একটি বড় অর্জন নিঃসন্দেহে বলা যায়। হিন্দী সিনেমার অঙ্গনে কঙ্গনার পদচারণা দীর্ঘদিনের। এক যুগেরও বেশি সময় ধরে বলিউডে আছেন তিনি।’ সব ধরনের সিনেমায় তাকে দেখা গেছে। জটিল, চ্যালেঞ্জিং ব্যতিক্রমী ধর্মী রোলে অভিনয়ে তাকে সব সময়ে আগোয়ান মনে হয়েছে। অভিনেত্রী হিসেবে তার যোগ্যতা দিনে দিনে বিকশিত হয়েছে। অভিনয়ের পাশাপাশি ছবি পরিচালনায়ও এগিয়ে এসেছেন হালে। যদিও চলচ্চিত্র নির্দেশনার বিষয়ে আমেরিকা থেকে হাতে কলমে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা লাভ করেছেন কঙ্গনা। তার ঠোঁট কাটা স্বভাবও বিতর্কিত, সমালোচিত করেছে অনেকবার। তবে স্পষ্টবাদী মেয়ে হিসেবে আলাদা পরিচিতি রয়েছে কঙ্গনা রানাওতের। সত্যি কথা মুখ ফুটে বলতে কখনও পিছপা হননি তিনি। বলিউডের সবচেয়ে বেশি পারিশ্রমিক পাওয়া অভিনেত্রীদের একজন কঙ্গনা। এ পর্যন্ত ম্যালা সিনেমায় প্রধান নারী চরিত্রে অভিনয় করেছেন। ‘যার মধ্যে রয়েছে, গ্যাংস্টার ওই, লামহে, লাইফ, ইন এ মেট্রো ফ্যাশন, ‘রাজ : দ্য মিস্ট্রি কন্টিনিউস, কাইটসওয়ানস আপন এ টাইম ইন মুম্বাই’ ‘তানু ওয়েডস মানু’ শুট আউট এ্যাট ওয়াডালা, কৃষ থ্রি, রাজ্জো রানী, ‘উংগুলি, তানু ওয়েডস মান রিটার্নস’ ‘কাট্টি বাট্টি ‘রাংগুন, সিমরান প্রভৃতি। অসংখ্য সিনেমায় দুর্দান্ত অভিনয়ের উজ্জ্বল স্বাক্ষর রেখে দর্শক, সমালোচক, নির্মাতাদের কাছে আস্থার প্রতীক হয়ে উঠেছেন কঙ্গনা।

বলিউডে কঙ্গনা রানাওতের পথ চলা শুরু হয়েছিল ১৩ বছর আগে ২০০৬ সালে। তার অভিনীত প্রথম সিনেমাটি ছিল ‘গ্যাংস্টার’। শুরুতেই সবার নজর কেড়েছিলেন। তার পর্দা উপস্থিতিতে অন্যরকম চমক ছিল। সেই থেকে হিন্দী সিনেমার দর্শক কঙ্গনাকে অন্য চার পাঁচজন বলিউড নায়িকার চেয়ে আলাদাভাবে প্রত্যাশা করেন রুপালি পর্দায়। তার নিজস্ব ইচ্ছায় হোক কিংবা নির্মাতাদের আস্থা ও বিশ্বাসের কারণেই হোক অভিনীত বেশিরভাগ সিনেমাতেই কঙ্গনা নজর কাড়ার মতো অভিনয়ের সুযোগ পেয়েছেন। একজন গ্ল্যামারাস নায়িকার ইমেজ ছাড়িয়ে সত্যিকার ভাল অভিনেত্রী হিসেবে নিজেকে তুলে ধরার ব্যাপারে তার আন্তরিকতা এবং নিষ্ঠা ছিল। ফলে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারসহ চার চারবার ফিল্মফেয়ার পুরস্কারসহ অসংখ্য পুরস্কার পেয়েছেন কঙ্গনা সেরা অভিনেত্রী হিসেবে। ৩১ বছর বয়সী এই বলিউড অভিনেত্রী সমসাময়িক অন্যান্য নায়িকার তুলনায় বেশ অনেকটা আস্থাশীল নিজের ব্যাপারে। মূল ধারার বাণিজ্যিক সিনেমায় কঙ্গনার ক্যারিয়ার সীমাবদ্ধ থাকলেও এই মুহূর্তে হিন্দী সিনেমার অঙ্গনে একজন পাওয়ার ফুল এ্যাকটেস হিসেবেই তার খ্যাতি, পরিচিতি এবং জনপ্রিয়তা। গত ১৩ বছরের দীর্ঘ ক্যারিয়ারে এটাই তার বড় অর্জন।

এ সপ্তাহে রুপালি পর্দায় কঙ্গনা রানাওতের নতুন পরিচয়ে আত্মপ্রকাশ ঘটতে যাচ্ছে। অভিনয়ের পাশাপাশি পরিচালকা হিসেবে আসছেন তিনি এবার। তার অভিনীত এবং পরিচালিত মনিকারনিকা দ্য কুইন অব ঝাঁসি ছবিটি মুক্তি পাচ্ছে এ সপ্তাহে। বিখ্যাত ঐতিহাসিক নারী চরিত্র ঝাঁসির রানী, লক্ষীবাঈয়ের বীরত্বপূর্ণ কাহিনী অবলম্বনে নির্মিত ছবিটি নির্মাণের ঘোষণা আসার পর থেকে বলিউডে সবার বিশেষ মনোযোগ আকর্ষণ করেছে নানা কারণে। বিখ্যাত এই ঐতিহাসিক বায়োপিকেনাম ভূমিকায় কাকে দেখা যাবে তা নিয়ে অনেক জল্পনা-কল্পনা ছিল। কঙ্গনা রানাওত ঝাঁসির বানী লক্ষীবাঈ হয়ে রুপালি পর্দায় হাজির হচ্ছেনÑ জানার পর থেকে দর্শক অনেকটা আশাবাদী হয়ে উঠেছেন। কারণ এমন একটি শক্তিশালী নারী চরিত্র যথাযথভাবে রূপায়ণের সক্ষমতা তিনি রাখেন তেমন আস্থা রয়েছে দর্শক- সমালোচকদের মধ্যে। ঝাঁসির রানী লক্ষীবাঈকে নিয়ে উপমহাদেশে অনেক গল্প উপন্যাস নাটক সিনেমা টিভি সিরিয়াল নির্মিত হয়েছে। দর্শক সেগুলো দেখেছেন, পড়েছেন শুনেছেন। তেমন একটি বিখ্যাত ঐতিহাসিক চরিত্র রূপায়ণের জন্য কঙ্গনা মানসিক ও শারীরিকভাবে প্রস্তুতি নিয়েছেন। একজন রানী, একজন গৃহবধূ, একজন মা, বিদেশী ঔপনিবেশিক শাসন-শোষণের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণকারী একজন সাহসী নারী, একজন দুর্ধর্ষ নারী যোদ্ধা একই সঙ্গে অনেকগুলো রূপ ধারণ করতে হয়েছে তাকে মনিকারনিকা ছবির জন্য। কঙ্গনার অভিনয় জীবনে এটা ছিল সবচেয়ে কঠিন চ্যালেঞ্জ কঙ্গনাকে সর্বশেষ দেখা গেছে সিমরান ছবিতে। ২০১৭ সালে মুক্তি পেয়েছিল ছবিটি। একই বছর তার আরও একটি সিনেমা ‘রাংগুন’ মুক্তি পায়। দুটি ছবিতেই কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন বলিউডের এই সহঅভিনেত্রী। নিজের অভিনয় নিয়েও অনেকটা আস্থাশীল ছিলেন তিনি। কিন্তু অভিনীত দুটি সিনেমা প্রত্যাশা অনুযায়ী সাফল্য পায়নি বক্স অফিসে। তার আগে ২০১৫ সালে তার ওয়েডস মান রিটার্নস ছবিতে দ্বৈত চরিত্রে চমৎকার অভিনয় করলেও সিক্যুয়ালের প্রথম ছবিটির মতো সাফল্য পায়নি তা। একই বছরে কঙ্গনার আরও একটি সিনেমা ‘আই লাভ নিউইয়র্ক’ চরমভাবে ফ্লপ করে। গত কয়েক বছরে বক্স অফিসে বড় ধরনের সাফল্যের চমক দেখাতে পারছে না কঙ্গনার সিনেমাগুলো। যদিও এর আগে বহু সুপারহিট সিনেমায় নায়িকা হিসেবে তাকে দেখে এসেছেন দর্শক। গত কয়েক বছরে ক্যারিয়ারে সুপারহিট সিনেমার আকাল কঙ্গনাকে কিছুটা হলেও দুশ্চিন্তায় ফেলে দিয়েছে। দীপিকা পাড়ুকোন আলিয়া ভাট, প্রিয়াঙ্কা চোপড়া, আনুশঙ্কা জার্মানদের ক্রমাগত সাফল্যের ধারার সঙ্গে নিজের ক্যারিয়ারকে মেলাতে গিয়ে বার বার হোঁচট খেয়ে নিজেকে আবার শক্তিশালী অবস্থানে ফিরিয়ে আনার জন্য ভেতরে ভেতরে জেদ চেপেছিল। যার বহির্প্রকাশ ঘটেছে মনিকারনিকা দ্য কুইন অব ঝাঁসি ছবিতে চ্যালেঞ্জিং পারফরমেন্সের মাধ্যমে। গত শুক্রবার এ ছবির একটি বিশেষ প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছিল ভারতীয় রাষ্ট্রপতি রাম নাথ কোবিন্দের জন্য। রাষ্ট্রপতি ভবনে আয়োজিত সিনেমাটির বিশেষ প্রদর্শনীতে বেশ কয়েকজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাও উপস্থিত ছিলেন।

সবাই ঐতিহাসিক ঘটনাবহুল সিনেমাটিতে ঝাঁসির রানী লক্ষ্মীবাঈ চরিত্রটি দুর্দান্তভাবে ফুটিয়ে তোলার জন্য কঙ্গনা রানাওতের প্রশংসা করেছেন। এর আগে ১৯৫৩ সালে বলিউডে ঝাঁসির রানী লক্ষ্মীবাঈয়ের বীরত্বপূর্ণ কাহিনী নিয়ে বিখ্যাত চিত্রনির্মাতা ঝাঁসি কী রানী’ ছবিটি নির্মাণ করেছিলেন, যেখানে রানী লক্ষীবাঈ সেজে ছিলেন অভিনেত্রী মেহতাব।

ছবিটি ব্যয়বহুল হলেও বক্স অফিসে সাফল্য পায়নি। এবার একই চরিত্র নিয়ে নির্মিত ‘মনিকারনিকা’ ছবিটি কঙ্গনা রানাওতের ক্যারিয়ারে একটি বড় ফ্যাক্টর হয়ে উঠেছেই বলা যায়।