০৮ ফেব্রুয়ারী ২০১৯

কোস্টারিকার সাবেক প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে যৌন হেনস্থার অভিযোগ

 কোস্টারিকার সাবেক প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে যৌন হেনস্থার অভিযোগ

অনলাইন ডেস্ক ॥ কোস্টারিকার দুইবারের সাবেক প্রেসিডেন্ট নোবেলজয়ী অস্কার আরিয়াসের বিরুদ্ধে যৌন হেনস্থার অভিযোগ করেছেন পাঁচ নারী। এর মধ্যে সাংবাদিক, মানবাধিকারকর্মী ছাড়াও আরিয়াসের নির্বাচনী প্রচারণা সহযোগীও রয়েছেন।

শুক্রবার বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। লাতিন আমেরিকা থেকে শুরু হওয়া এবং এখন বিশ্বজুড়ে চলমান আন্দোলন ‘#মিটু’র সূত্র ধরেই এই পাঁচ নারী সাবেক প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির এ অভিযোগ এনেছেন।

কোস্টারিকায় গৃহযুদ্ধের অবসান ঘটানোর ক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা রাখায় ১৯৮৭ সালে অস্কার আরিয়াসকে শান্তিতে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত করা হয়।

তবে ‘আকস্মিকভাবে’ পাঁচ নারীর যৌন হয়রানির অভিযোগ ওঠায়, বেশ ‘অস্বস্তিতে’ পড়েছেন ৭৮বছর বয়সী আরিয়াস।

খবরে বলা হয়, আরিয়াসের বিরুদ্ধে যৌন হেনস্তার প্রথম অভিযোগ আনেন পরমাণু বিরোধীকর্মী আলেকজান্দ্রা আর্স।

তবে এ অভিযোগ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকার করেছেন নোবেলজয়ী আরিয়াস। বৃহস্পতিবার তার আইনজীবী এরিক রামোস বলেন, ‘এসব অভিযোগের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি আরিয়াস।’

জনসম্মুখে সাবেক প্রেসিডেন্টের এ অভিযোগের বিষয়টি আরও অনেককে অনুপ্রাণিত করেছে; তাদেরই একজন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার গোষ্ঠী হিউম্যান রাইটস ওয়াচের যোগাযোগ বিষয়ক পরিচালক এমা ড্যালি।

তিনি বলেন, ১৯৯০ সালে মধ্য আমেরিকায় সাংবাদিক হিসেবে কর্মরত থাকাকালে নিকারাগুয়ার রাজধানী মানাগুয়ার একটি হোটেলের লবিতে অন্যান্য সাংবাদিকদের সঙ্গে তিনি আরিয়াসকে প্রশ্ন করেছিলেন।

ওই প্রশ্নের উত্তরে আরিয়াস তার শরীরের স্পর্শকাতর অংশে হাত দিয়ে বাজে মন্তব্য করেছিলেন।

ওই সময় রয়টার্স ও কোস্টারিকার দ্য টিকো টাইমস পত্রিকায় ফ্রিল্যান্সিং সাংবাদিক হিসেবে কাজ করতেন এমা।

তিনি বলেন, ‘তার আচরণে আমি হতবাক হয়ে গিয়েছিলাম। পরে আমি বিষয়টি আমার স্বামীর সঙ্গেও শেয়ার করেছি।’

যৌন হয়রানির অভিযোগ করেছেন আরিয়াসের নির্বাচনী প্রচারণার কাজে নিযুক্ত এক কর্মীও। এলিওনারা এন্টিলন নামের ওই নারী ১৯৮৬ সালে দেশটির প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে আরিয়াসের প্রেস সহায়ক হিসেবে কাজ করেতেন।

তিনি বলেন, ওই সময় আরিয়াস আমাকে তার শরীরে হাত দিতে বাধ্য করেন। পরে জোর করে চুমু খেলে আমি এর প্রতিবাদ করি।

‘যখন দেখলাম অন্যরা এ বিষয়ে মুখ খুলছে। তখন আমিও বসে থাকিনি। আমি তাকে (আর্স) বিশ্বাস করি, কারণ কয়েকবছর আগে আমার সঙ্গেও এমনটা ঘটেছিলো,’ যোগ করেন আরিয়াসের হেনস্থার শিকার এমা ড্যালি।

নোবেলজয়ী আরিয়াসের বিরুদ্ধে অভিযোগের আঙুল মার্টা আরায়া ম্যারনিরও; তিনি একটি প্রকাশনা সংস্থায় কাজ করেন। তার অভিযোগ, ২০১২ সালে আরিয়াসের বাড়িতে একটি বৈঠকে তিনি আমার পা স্পর্শ করেন। পরবর্তীতে ফোনেও বহুবার বাজে প্রস্তাব দিয়েছেন আরিয়াস।

সাবেক এই প্রেসিডেন্টের যৌন হয়রানি নিয়ে মুখ খুলেছেন কোস্টারিকার একটি ম্যাগাজিনের সাংবাদিক মনিকা মোরেলস।

এ বিষয়ে আসিয়াসের আইনজীবী রামোস বলেন, আরিয়াসের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগে একটি মামলা হয়েছে বলে তাকে জানানো হয়েছে।