১৯ এপ্রিল ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

গৃহস্থালি জ্বালানি

শেখ হাসিনার সরকার ঘরে ঘরে বিদ্যুত পৌঁছে দিচ্ছে। একই সঙ্গে মৌলিক অধিকারের প্রথমটির জন্য রান্নাঘরের নিরাপদ জ্বালানি সংস্থানের বিষয়ে কোন পরিকল্পনা নেয়া হচ্ছে না। সুদূরপ্রসারী কোন চিন্তা-ভাবনাও পরিলক্ষিত হচ্ছে না। সরকারের একই মন্ত্রণালয়ের বিদ্যুত ও জ্বালানি দুই বিভাগের মধ্যে জনচাহিদা মেটানোতে দুই রকম অবস্থা দৃশ্যমান। সীমিতসংখ্যক মানুষ পাইপলাইনের গ্যাস ব্যবহার করছে। এর বাইরে বিপুলসংখ্যক মানুষ নিজ উদ্যোগে রান্নাঘরের জ্বালানির সংস্থান করছে। বিপুল জনগোষ্ঠী নিজ উদ্যোগে রান্নাঘরের জ্বালানির সংস্থানে সরকার নানাবিধ পরিকল্পানা হাতে নিয়েছে। দেশে আবাসিক গ্যাস সংযোগ প্রদান বন্ধ রয়েছে। একদিকে সরকারী উদ্যোগে ভাটা, অপরদিকে ব্যবসায়ীদের অতি বাণিজ্যিক প্রবণতায় সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস উঠছে। একই সঙ্গে রান্নাঘরের নিরাপত্তা এবং গৃহিণীদের সুরক্ষার বিষয়টি নিয়েও ভাবা হচ্ছে না। দেশে ৩৭ লাখের মতো আবাসিক গ্রাহক রয়েছে। একটি আবাসিক সংযোগে একটি পরিবার ধরে হিসাব করলে মাত্র এক কোটি ৮৬ লাখ মানুষ গ্যাসের সুবিধা ভোগ করছে। বাকি জনসংখ্যার জ্বালানি এলপিজি, বিদ্যুত এবং কাঠ। সারাদেশে প্রায় সাড়ে তিন কোটির মতো পরিবার রয়েছে। এসব পরিবারের জ্বালানির সংস্থান নিজেদেরই করতে হয়। দেশে এখন তরল পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) রান্নাঘরের বিকল্প জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার বাড়ছে। আগের কাঠ-কয়লার চুলার বদলে এখন এলপিজির ব্যবহার বাড়ছে। দেশে এখন ৩০ লাখ মেট্রিক টন এলপিজির চাহিদা রয়েছে। এর মধ্যে সরকারীভাবে সর্বোচ্চ বিশ হাজার মেট্রিক টন এলপিজি সরবরাহ করা হয়। আর বেসরকারী কোম্পানিগুলো যে উৎপাদন কেন্দ্র স্থাপন করেছে সম্মিলিতভাবে তার উৎপাদন ক্ষমতা ২৩ লাখ মেট্রিক টনের মতো। তবে এই চাহিদার সবটুকু ব্যবহার হয় না। অর্থাৎ সরকারের সঙ্গে বেসরকারী উৎপাদনকারীদের একটি বড় পার্থক্য রয়েছে। আবার চাহিদা এবং সরবরাহের মধ্যেও সব সময়ই ঘাটতি রয়েছে। একদিকে সঙ্কট এবং অন্যদিকে সরকারের নিয়ন্ত্রণহীনতা দুই কারণে এলপিজির বাজার বেসরকারী উদ্যোক্তাদের হাতের পুতুলে পরিণত হয়েছে। গত বছরের গোড়ার দিকে এলপিজির জন্য একটি নীতিমালা করা হলেও দাম নির্ধারণে এখনও সরকারের কোন ভূমিকা নেই। ফলে পাইকারি বাজারে যেমন কারসাজির সুযোগ রয়েছে, তেমনি খুচরা বাজারে এলপিজি বাণিজ্যের কারণে গ্রাহক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

সরকারী ঘোষণা কাগজেই সীমাবদ্ধ থেকে গেছে এক্ষেত্রে। সারাদেশে গ্যাস সংযোগ বন্ধ করে দেয়ার পর বিপিসির মাধ্যমে এলপিজি আরও বেশিসংখ্যক গ্রাহকের কাছে পৌঁছে দেয়ার ঘোষণা দেয়া হয়। কিন্তু তা আলোর মুখ দেখেনি যেমন, তেমনি এ নিয়ে কোন উচ্চবাচ্যও আর শোনা যায় না। ২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসার পর সরকার মংলা এবং চট্টগ্রামে দুটি বড় এলপিজি প্ল্যান্ট করার পরিকল্পনা নিলেও তার কাজ পুরোপুরি শেষ হয়নি। সরকার যে এলপিজি সরবরাহ করে তাও সীমিতসংখ্যক সরকারী কর্মকর্তা পেয়ে থাকেন। সাধারণ মানুষকে সরকারী এলপিজি পেতে হলে বেসরকারী কোম্পানির মতোই বাড়তি দামে সংগ্রহ করতে হয়। বিপিসিকে এলপিজি সরবরাহের ক্ষেত্রে ভর্তুকি দিতে হয় বলে তারা এতে আগ্রহী নয়। এলপিজির মূল্য নিয়ন্ত্রণে গৃহীত নীতিমালা অনুযায়ী মূল্য নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে না। ফলে আমদানিকারক তার ইচ্ছামাফিক দামে এলপিজি সরবরাহ করছে। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম নেমে গেলেও এ দেশের বাজারে দাম কমছে না। মোদ্দাকথা গৃহস্থালি জ্বালানি নিয়ে চলছে অরাজকতা। সরকারের উচিত পুরো বিষয়টি নিজস্ব নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং বেসরকারী খাতের অধিক মুনাফা অর্জনের পথ রুদ্ধ করে দেশবাসীকে সুলভ মূল্যে জ্বালানি সরবরাহ করা।

নির্বাচিত সংবাদ