২২ ফেব্রুয়ারী ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

উপভোগ্য বিপিএল

খেলা দেশীয়, কিন্তু রয়েছে বিদেশী খেলোয়াড়ও। দেশের মাটিতে জমজমাট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট উৎসব। এবারের বিপিএল আগের ৫টি টুর্নামেন্টের তুলনায় আরও বেশি উপভোগ্য, আরও বেশি প্রতিযোগিতামূলক। ২০১২ সালে পথচলা শুরু হয় বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট টুর্নামেন্টের। এখন পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয়েছে ৫টি আসর। শুক্রবার অবসান হলো বিপিএলের ষষ্ঠ আসরের। বিশেষ লক্ষণীয় হলো যে, দুটি দল শুক্রবার ফাইনাল খেলল। তাতে প্রতিপক্ষ হিসেবে ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের দুই নির্ভরযোগ্য অভিজ্ঞ ক্রিকটে স্তম্ভÑ সাকিব ও তামিম। আরও লক্ষণীয় হলো, ফাইনালে দুই প্রতিপক্ষ দল ঢাকা ও কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের ছিলেন দেশের দুজন কোচ। দেশী কোচের ওপর আস্থা রেখেছিল দুটি দল। বিদেশী কোচদের ভিড়ে এবারের বিপিএলের ফাইনাল ছিল তাই অন্যরকম স্বস্তিকর।

বিদেশী খেলোয়াড়দের সরাসরি চুক্তি করার ক্ষেত্রে ডেভিড ওয়ার্নার ও এবিডি ভিলিয়ার্সের নাম ছিল সবচেয়ে বড়। ডেভিড ওয়ার্নারের সঙ্গে চুক্তি করেছিল সিলেট সিক্সার্স, আর ভিলিয়ার্সকে দলে নিয়েছিল রংপুর রাইডার্স। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সাকিবের ঢাকা ও তামিমের কুমিল্লাই ফাইনাল খেলেছে। প্রমাণিত হয়েছে টাইগাররাই সেরা।

প্রথম বিপিএল ফাইনাল খেলার স্বাদ পেয়ে তামিমকে শুক্রবার রাতে যেন আর আটকানোই যাচ্ছিল না। ব্যাটে ১৪১ রানের অপরাজিত এক ইনিংস খেলেই থামলেন। জবাব দিতে এসে ২০০ রানের লক্ষ্যে ছুটছিল ঢাকা। শূন্য রানে প্রথম উইকেট হারানো দলটি ১০ ওভারেই ১১০ রান তুলে ফেলেছিল। এর মাঝে শুধু থারাঙ্গাই (২৭ বলে ৪৮ রান) ফিরেছেন। ৫২ বলে ১০২ রানের এই জুটির পরও ছুটছিল ঢাকা। রনি তালুকদার যে উইকেটেই ছিলেন। মনে হচ্ছিল ঢাকা বুঝি জিতেই যাবে। বিশ্রাম শেষে তামিমের মাঠে ফেরার পরই ম্যাচের গতি পালটে গেল। প্রথমেই তার হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরেছেন সাকিব। এরপর নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়েছে তারা। ৩৮ বলে ৬৬ রানে রান আউট হয়েছেন রনি। শেষ ভরসা কাইরন পোলার্ড ক্যাচ দিয়েছেন ওই তামিমের হাতেই। ফাইনালের দিনটা যে শুধুই তামিমের সেটা প্রমাণ করতেই যেন!

বাংলাদেশ ক্রিকেটপ্রিয় জাতি। আমরা দেখেছি বিশ্বকাপ ক্রিকেট আসরের পরই ক্রিকেট বিশ্বে উত্তাপ ছড়িয়ে আসছে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল)। বাংলাদেশও সে ধারায় বিশ্বে ক্রিকেটপ্রেমীদের মনে একটা অবস্থান করে নিয়েছে। বিপিএল আসরে এক ধরনের উত্তেজনায় পেয়ে বসে দেশের ক্রিকেটপ্রেমীদের। বলা যায়, খেলা চলাকালীন বিপিএল জ্বরে বেশ শক্তভাবেই আক্রান্ত হয়ে থাকে দেশের কোটি ক্রিকেটপ্রেমী। এবারও তার ব্যত্যয় হয়নি।

বিপিএল বাংলাদেশের জন্য একটি নতুন অভিজ্ঞতা। এ ধরনের আয়োজন পাকিস্তান কিংবা শ্রীলঙ্কার আগে বাংলাদেশ করে দেখিয়েছে। এটি নিঃসন্দেহে আমাদের জন্য গৌরবের। দর্শকপ্রিয়তা পাওয়ার পাশাপাশি বাংলাদেশের বেশ কয়েকজন ক্রিকেটারের জন্য বিপিএল আর্থিক নিশ্চয়তার প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়েছে। অধিকতর বাণিজ্যিক এ আয়োজনে খেলোয়াড়দের উপার্জন সম্মানজনক হয়ে থাকে। বিপিএল আয়োজনে কিছু অব্যবস্থাপনা লক্ষ্য করা গেছে অতীতে, কিছু কলঙ্কও লেগেছে এর গায়ে। এবার তেমনটা ঘটেনি বলে ভক্তরা স্বস্তি পেয়েছেন।

বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা এখন আগের চেয়ে বেশি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলছেন। সেসব ম্যাচে প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়দের কেউ কেউ দেশের মাটিতে তাদের সতীর্থ হয়ে খেলেছেন বিপিএলে। এটা অন্যরকম এক আনন্দময় অভিজ্ঞতা। এর ভেতর দিয়ে জয়ী ও বেগবান হয়ে চলেছে ক্রিকেট নামক অনিশ্চয়তার এক অনন্য খেলা। উপভোগ্য বিপিএলের মধ্য দিয়ে দেশের ক্রিকেট আরেকটু উঁচুতে উঠল, আমাদের তারকারা পেল খানিকটা অধিক উজ্জ্বলতা- এ কথা স্বীকারেও সুখ।