২২ ফেব্রুয়ারী ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

যুক্তরাষ্ট্রের বদলে রাশিয়ায় ব্যাংক অ্যাকাউন্ট স্থানান্তর ভেনেজুয়েলার

যুক্তরাষ্ট্রের বদলে রাশিয়ায় ব্যাংক অ্যাকাউন্ট স্থানান্তর ভেনেজুয়েলার

অনলাইন ডেস্ক ॥ আন্তর্জাতিক বাজারে তেল বিক্রি থেকে পাওয়া অর্থ যুক্তরাষ্ট্রের বদলে রাশিয়ার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট স্থানান্তরের উদ্যোগ নিয়েছে ভেনেজুয়েলা। এর অংশ হিসেবে ইতোমধ্যেই রাষ্ট্রায়ত্ত্ব তেল কোম্পানি পিডিভিএসএ’র পক্ষ থেকে ক্রেতাদের রাশিয়ার একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্টের নাম্বার সরবরাহ করা হয়েছে। ওই অ্যাকাউন্টেই তেল কেনার অর্থ জমা দিতে বলা হয়েছে তাদের। প্রতিষ্ঠানটির জয়েন্ট ভেঞ্চারগুলোকেও একই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। রাশিয়ার গ্যাজপ্রমব্যাংক এও-তে সম্প্রতি নতুন এই অ্যাকাউন্টটি খোলা হয়েছে। সূত্র ও অভ্যন্তরীণ নথির বরাত দিয়ে রবিবার এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স।

এর আগে রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ভেনেজুয়েলায় হস্তক্ষেপ না করতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানানো হয়। এমন পরিস্থিতিতে দৃশ্যত দেশটিকে কেন্দ্র করে বিভক্ত হয়ে পড়েছে বিশ্বের ক্ষমতাধর দেশগুলো। বিদ্যমান ঘটনাপ্রবাহকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী কোল্ড ওয়ার বা স্নায়ুযুদ্ধের ছায়া হিসেবে দেখছেন কেউ কেউ।

পিডিভিএসএ’র বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞায় এমনিতেই ওয়াশিংটনের ওপর ক্ষিপ্ত ছিল কারাকাস। এর সঙ্গে যুক্ত হয় ভেনেজুয়েলার তেল খাত থেকে উপার্জিত অর্থ দেশটির স্বঘোষিত প্রেসিডেন্ট হুয়ান গুইদো’কে দেওয়ার ঘোষণা। মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জন বোল্টন সম্প্রতি ওয়াশিংটনে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো এবং তার মিত্ররা এখন থেকে আর দেশটির জনগণের সম্পদ হরণ করতে পারবে না।’ অন্যদিকে রাষ্ট্রের তেল বিক্রি থেকে উপার্জিত অর্থ সরকারবিরোধী আন্দোলনে ব্যয়ের হুঁশিয়ারি দেন স্বঘোষিত প্রেসিডেন্ট হুয়ান গুইদো। এমন পরিস্থিতিতেই বিশ্ববাজারে তেল বিক্রিলব্ধ অর্থ জমা দিতে রুশ ব্যাংকের শরণাপন্ন হয় ভেনেজুয়েলা সরকার।

এদিকে বিরোধী নেতা হুয়ান গুইদো’র নিজেকে প্রেসিডেন্ট ঘোষণার সিদ্ধান্ত অবৈধ বলে রায় দিয়েছে ভেনেজুয়েলার সুপ্রিম কোর্ট। এতে বলা হয়, গুইদো’র প্রেসিডেন্সি দাবি অবৈধ ও অকার্যকর।

বিচারক জুয়ান মেনডোজা এক বিবৃতিতে বলেন, গুইদো’র অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দেশের সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। দেশের প্রেসিডেন্টের ক্ষমতায় তিনি অন্যায়ভাবে হস্তক্ষেপ করছেন।

ইতোমধ্যেই গুইদো’র দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে ভেনেজুয়েলার আদালত। তার ব্যাংক অ্যাকাউন্টও জব্দ করা হয়েছে।

উদ্ভূ পরিস্থিতিতে হুয়ান গুইদো’কে সত্যিকার অর্থে ক্ষমতায় বসাতে তৎপর রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। হোয়াইট হাউসের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর পক্ষ ত্যাগ করতে দেশটির সেনাবাহিনীর সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রক্ষা করছে যুক্তরাষ্ট্র।

২০১৮ সালে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ আর অর্থনৈতিক সংকট ভেনেজুয়েলার জনগণকে তাড়িত করেছে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে। বিক্ষোভের সুযোগে গত ২৩ জানুয়ারি নিজেকে অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ঘোষণা করেন বিরোধী দলীয় নেতা জুয়ান গুইদো। এরইমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দুনিয়ার স্বীকৃতি পেয়েছেন তিনি। তবে নিজ দেশের শক্তিশালী সেনাবাহিনী এখনও পর্যন্ত মাদুরোর পক্ষে রয়েছে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে রাশিয়া, চীন, তুরস্ক, মেক্সিকো, কিউবার মতো দেশগুলোর সমর্থন পাচ্ছেন তিনি। সূত্র: রয়টার্স, আনাদোলু এজেন্সি।