২৬ এপ্রিল ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

প্রয়োজন প্রশিক্ষণ

গ্রামপুলিশের কর্মপরিধি বড় : পাহারা, টহলদারি, অপরাধের সকল বিষয়ে অনুসন্ধান, অপরাধ দমন, অপরাধী ও অভিযুক্ত ব্যক্তিকে গ্রেফতারে পুলিশকে সহযোগিতা দেয়া, চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালনে সহযোগিতা করা, ইউনিয়নের খারাপ ও সন্দেহভাজন লোকের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করাসহ এলাকার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা সম্পর্কে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) অবহিত করা। কিন্তু প্রশ্ন হলো এসব দায়িত্ব যথাযথ পালনের জন্য কি তাদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ প্রদানের ব্যবস্থা রয়েছে? এর সদুত্তর মেলে না।

হাতে-কলমে শিক্ষার কোন বিকল্প নেই। গ্রামপুলিশ সদস্যদের দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে অভিজ্ঞ করে তুলতে প্রশিক্ষণ কর্মশালার প্রয়োজন অস্বীকার করা যাবে না। জনগণের একজন হয়ে কাজ করার পরিকল্পনা থেকেই গ্রামপুলিশের উদ্ভব। যে কোন অপরাধ থেকে জনগণকে বিরত রাখতে ভূমিকা রাখতে হবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় গ্রামপুলিশের ভূমিকা নিয়ে বিভিন্ন সময়ে সেমিনার হয়ে থাকে। তাতে বেশ কিছু পরামর্শ উঠেও আসে। যদিও গ্রামপুলিশ শেষ পর্যন্ত রয়ে যায় একই তিমিরে। তবে অধুনা তাদের আর্থিক দিকটা বিশেষভাবে বিবেচনা করা হচ্ছে। ডিসেম্বরে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রথমবারের মতো গ্রামপুলিশ ভাতা পেয়েছিল।

সব গ্রামপুলিশকে জাতীয় (সরকারী) বেতন স্কেলের আওতায় আনার একটি উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। এর বাস্তবায়ন হলে সব চৌকিদার বা মহল্লাদার ও দফাদার জাতীয় বেতন স্কেলে বেতন পাবেন। সেইসঙ্গে তারা পদোন্নতি, উৎসবভাতা, ভ্রমণভাতা, দায়িত্বভাতা, সম্মানী ও বিভিন্ন প্রকার ছুটিও পাবেন। দায়িত্বে অবহেলা করলে তাদের চাকরি থেকে অপসারণ ও বরখাস্তসহ বিভিন্ন শাস্তির বিধানও রাখা হচ্ছে। প্রায় সাড়ে ৪৭ হাজার গ্রামপুলিশকে জাতীয় বেতন স্কেলের আওতায় আনতে বছরে মোট খরচ হবে প্রায় সাড়ে ৪শ’ কোটি টাকা।

গ্রামপুলিশকে ইউনিয়ন পরিষদের সঙ্গে সম্পৃক্ত রেখে কাজ করার কথা বলা হয়। নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের গ্রামপুলিশ সদস্যদের যথাযথভাবে পরিচালনার আহ্বানও জানানো হয়ে থাকে। তাদের নিয়ে কর্মশালা অনুষ্ঠিত হওয়ার খবর মাঝেমধ্যে জানা যায়। এটি নিয়মিত হওয়া সমীচীন। কর্মশালায় গ্রামপুলিশ বাহিনীকে গতিশীল ও আধুনিকায়ন করতে গ্রামপুলিশের দায়িত্ব, ভূমিকা, গ্রাম আদালত কার্যক্রম পরিচালনা, পরিবেশ সংরক্ষণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় তাদের ভূমিকাসহ তথ্য প্রাপ্তির অধিকার, নাগরিক সনদ ও ইউডিসির কার্যক্রমে গ্রামপুলিশ বাহিনীর ভূমিকাসহ অন্যান্য বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান করা আবশ্যক।

ইতিহাস বলে প্রাচীনকালে সুলতানী ও নবাবী আমলে গ্রাম ছিল স্বয়ংসম্পূর্ণ। গ্রামে গণ্যমান্য প্রবীণ ব্যক্তিদের নিয়ে গঠিত হতো পঞ্চায়েত। সমাজে শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে যা প্রয়োজন তাই করত তারা। সালিশ, বিচার কার্যক্রমে শাস্তি রক্ষা করা হতো। এই কাজে সহযোগিতার জন্য নিয়োগ দেয়া হতো চৌকিদার। তারা হাতে লণ্ঠন, বল্লম ও লাঠি হাতে পাহারা দিত। এদের দলপতি দফাদার। চৌকিদারের মাথায় থাকত কালো পাগড়ি ও দফাদারের মাথায় লাল পাগড়ি। এই পাগড়ির যৌক্তিকতা ছিল। যাতে অপরাধী পাকড়াও করে দ্রুত বেঁধে রাখা যায়। এদের দেখলে অপরাধীরা পালাত।

গ্রামপুলিশ দেশে মাঠপর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় অন্যতম ভূমিকা পালন করছে। হয়েছে পুলিশের সহযোগী। প্রতিটি ইউনিয়নে ১০ জন করে সারাদেশে প্রায় ৪৭ হাজার গ্রামপুলিশ কর্মরত আছেন। প্রতি দশজনের মধ্যে একজন কমান্ডার। গ্রামপুলিশের এই শক্তিকে উন্নত প্রশিক্ষণ দিয়ে আধুনিকায়ন করা এখন সময়ের দাবি।