১৯ এপ্রিল ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

সমাজ না এগুলে উন্নয়ন টিকবে কি করে?

  • অজয় দাশগুপ্ত

আমরা সবসময় রাজনীতি নিয়ে লিখি। কারণ, রাজনীতি আমাদের চারদিক থেকে ঘিরে রেখেছে। তার মানে এই না সামাজিক সমস্যা কিংবা সে ধরনের কিছু আমাদের মনে দাগ কাটে না। কাটে বলেই বর্তমান সামাজিক সমস্যাগুলো উদ্বিগ্ন করে ভয়ার্ত করে। চারদিকে এ কোন সমাজের আবহ? এ কোন দেশের জনপদ? যে দেশ মায়ার বলে ভালবাসার বলে আমরা গর্ব করি তার গায়ে এ কি আপদের থাবা? এমন সমাজ আর এমন মানসিকতা আমাদের কোথায় নিয়ে যাবে? যে কোন উন্নয়নের মাপকাঠি মানুষের ভাল থাকার ওপর নির্ভরশীল। তারা যদি নির্ভয় বা নির্ভার না হয় দেশ কিভাবে এগুবে? না তা সম্ভব?

শেখ হাসিনাকে সবাই প্রশংসা করেন বটে কার মনে কি আছে বা কি কার ভাবনা তা জানার বা মাপার কোন যন্ত্র নেই। থাকলে হয়ত অনেককিছু বোঝা সম্ভব হতো। যাদের হাতে সমাজ তারা আসলে কি চায়? সে ভাবনা আমাদের মাথ থেকে ঝেড়ে ফেলা অসম্ভব। সমাজ কিছু মানুষের সমষ্টি। তাদের বেশিরভাগ ভাল থাকতে চাইলেও আর কিছু মানুষ তা হতে দেয় না। তারা তাদের ষড়যন্ত্র বজায় রাখে। এই ষড়যন্ত্রের আরেক দিক সামাজিক অস্থিরতা, যা বাংলাদেশকে বহুবার পেছনে ঠেলে দিয়েছে। এবারও তারা পিছিয়ে নেই। তাদের দিকে নজর রাখার পাশাপাশি আমাদের দৃষ্টি সমস্যার গভীরে ফেলা দরকার।

প্রধানমন্ত্রী বললে কাজ হবে আর তিনি না জানলে সমস্যা চলতে থাকবে এটা মানা যায় না। এ ধরনের পরিবেশ থেকে বের হতে হলে সমাজে সঠিক রাজনীতির চলমানতা দরকার। রাজনীতির বড় উদ্দেশ্য মঙ্গল সাধন। যে সমাজে একজন স্বামী তার পত্নীর পরকীয়ার জন্য আত্মহননে বাধ্য হয়, সে আমাদের কি বার্তা দেয়? কেন আমরা বুঝতে পারছি না চারদিক থেকে হুড়মুড় করে ভেঙ্গে পড়ছে নিরাপত্তার দেয়াল। সরকার ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখিয়েছে। সে স্বপ্ন এখন মাঝপথে। কিন্তু সামাজিকতা কি তা মানে? যে প্রযুক্তি মানুষের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা নিয়ে খেলে বা তার মর্যাদা দিতে পারে না তার নিয়ন্ত্রণ হবে কিভাবে? দেশের সাধারণ মানুষ মোবাইল বা প্রযুক্তি ব্যবহারের সুফল পাচ্ছেন। সঙ্গে যে বিপদ হানা দিচ্ছে তার দিকেও কি মনোযোগী হতে হবে না? মুশকিল হলো এখন কিছু বললেই সামাজিক মিডিয়ায় হৈচৈ বেঁধে যায়। মানুষ সরব হয়ে ওঠে নানা কারণে। বাণিজ্যিক দিক সামাজিক দিক পারিবারিক দিক মিলেমিশে একাকার হয়ে সবকিছু উত্তপ্ত হয়ে উঠতে সময় লাগে না। সঙ্গে আছে অপপ্রচার। যে অপপ্রচারের শিকার আমাদের সন্তানেরা ইতিহাসের কথা ভুলে বুকে আমি রাজাকার লিখে রাস্তায় এসে দাঁড়ায়। কিশোর-কিশোরীদের নামিয়ে দেয়া হয় নিরাপদ সড়কের নামে। তাদের মহত ভাবনা হাইজ্যাক করে নোংরা রাজনীতি। যেন সবকিছুর টার্গেট একজন নেত্রী। সব দোষ তার এমন এক ভ্রান্ত ও উদ্দেশ্যমূলক প্রচারণাই হয়ে উঠতে চায় নির্ণায়ক। সমাজকে যারা দূষিত করছে তাদের এই কাজগুলো রাজনীতি সমাধান করতে পারছে না। পারবেও না।

কারণ তারা ভোট চায়। তাদের দরকার ভোটে জেতা। তাদের চাই ক্যাডার বাহিনী। সেগুলো পুষতে গিয়ে তারা শুভবোধ কে কবর দেয়। যে কারণে নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজন থাকার পরও বাঁশের কেল্লার মতো ওয়েবসাইট আমাদের ভুগিয়ে যায়। কেউ কেউ উস্কানি দেয় হত্যা আর ধ্বংসের। ক’দিন আগে জঙ্গীবাদের শিকড় খুঁজে পাওয়া নিরাপত্তা বাহিনীর কাজকে যারা রুটিন মাফিক কাজ বলে পাশ ফিরে ঘুমায় তারা জানেন না কে সেই সম্পাদক যাকে হত্যা করার পরিকল্পনা ছিল। তারা এও জানেন না, তার বিরুদ্ধে ওলামা লীগও সমাবেশ করেছিল ঢাকায়। কেন তখন তার বিরুদ্ধে সচেতন হলাম না আমরা? যদি এই অপপরিকল্পনা ধরা না পড়ত কি হতো ভাবলে গা শিউরে ওঠে। আর আবারও যে তারা নতুন নামে নতুনভাবে আসবে না তার কি কোন গ্যারান্টি আছে?

সামাজিক সমস্যার আরেক বিষফোঁড়া রোহিঙ্গ্যা সমস্যা। মানবিকতার দিকটা এখন গৌণ। দলে দলে ঢুকে পড়া দেশের আমাচে কানাচে ছড়িয়ে পড়া তাদের ওপর কতটা নিয়ন্ত্রণ আছে আমাদের? কে জানে না এরা এখন মাদক-যৌনতাসহ নানা অপরাধে জড়িত। তাদের সহজে কাজে লাগানো যায়। অসহায় হোক আর অপরাধপ্রবণতাই হোক এটা চলতে দেয়া যায় না। শিকড়হীন মানুষরা কোনদিন ও সুস্থ স্বাভাবিক জীবনে বাঁচতে পারে না। বিশেষত ভূমি সন্তান না হলে তাদের মাটির সঙ্গে যোগাযোগ থাকে না। সংস্কৃতি আচার বা মাটিহীন মানুষরা কিভাবে আমাদের মানুষ হবে? তাদের প্রত্যাবর্তন যদি ঠিকভাবে না হয় আমাদের সমাজে আরও অশান্তি আরও অমঙ্গল নিশ্চিত।

তাই আজকের লেখায় বলতে চাই রাজনীতি এখন আওয়ামী লীগের হাতে। খবরে দেখলাম জাতীয় পার্টির নেতা মশিউর রাঙ্গা বলছেন উপজেলা নির্বাচনে প্রার্থী দিতে পারছে না তারা। কারণ প্রার্থীরা ঠিক বুঝতে পারছে না নির্বাচন কতটা সঠিক আর স্বাভাবিক হবে? অভিযোগ উড়িয়ে দেয়ার মতো না। আবার মওদুদ আহমদকে দেখলাম বলছেন, নিঃশর্তভাবে ড. কামাল হোসেনকে বিশ্বাস করে তারা ভুল করেছেন। যার মানে এখন আওয়ামী লীগই একক। এই একক দলের সামাজিক দায়িত্বও অনেক। তারা কি আসলে তা পালন করছেন? যদি না করেন দেশের আর্থিক উন্নয়ন অচিরেই তোপের মুখে পড়বে।

এ জন্য সমাজ ও সংস্কৃতির অবাধ বিচরণ জরুরী। সংস্কৃতির দিকটাও গোলমেলে। একদা সংস্কৃতি ছিল প্রতিবাদের হাতিয়ার। সে প্রতিবাদের জায়গা হয়ত বদলেছে কিন্তু তার প্রয়োজন ফুরোয়নি। ছদ্মবেশী রাজাকররা পুরস্কৃত হচ্ছেন। ‘আবদুল জলিল যেভাবে মারা গেলেন’ নামের উপন্যাস লিখে আওয়ামী লীগের আমলে পদক পেলে তার মানে কি দাঁড়ায়? আওয়ামী লীগের আমলে বিরোধীরা পুরস্কার পাবেন না এমন কথা বলছি না। বিরোধীরা আওয়ামী লীগ না করুক দেশ ও রাজনীতি বিষয়ে সত্য ধারণা দেবেন স্বচ্ছ থাকবেন এটাই তো হওয়ার কথা। সেটা না করে যারা নিয়মিত শেখ হাসিনা আর তার সরকারের বিরুদ্ধে স্ট্যাটাস দিয়ে জনগণকে প্ররোচিত করেন তাদের তোষামোদ করা বা সামনে নিয়ে আসার ভেতর কি বার্তা? কি হচ্ছে আসলে ভেতরে ভেতরে? এগুলোর উত্তর জানা জরুরী।

জরুরী মানুষের মনে আস্থা আর ভালবাসার জায়গা তৈরি করা। সেটা না হলে সব উন্নয়ন একসময় প্রশ্নবোধক হলেও অবাক হব না। যিনি আমাদের দেশকে মর্যাদা আর গৌরবের জায়গায় নিয়ে যাচ্ছেন, যিনি আমাদের গরিব তকমা তুলে নিয়ে ভালভাবে বাঁচার অহঙ্কার দিচ্ছেন, দেশে বিদেশে বাংলাদেশকে আপন মহিমায় উজ্জ্বল করছেন- তাকে আমরা কেন সামাজিকভাবে মর্যাদাময়ী করব না? কেন দেব না স্থিতি ও নিরাপত্তা?

অগ্রগতি শুধু উড়াল পুল সড়ক বা পথঘাটে সীমাবদ্ধ কিছু না। তার চাই গতি। সে গতি দিতে পারে সামাজিক সুষম বিকাশ। দয়া করে সে দিকে নজর দিন। ডাক্তারের কাছে যাওয়া নীরিহ মানুষগুলোকে ভাল ব্যবহার পেতে সাহায্য করুন। পরিবারে শান্তি বিনষ্টকারী ডিজিটাল উৎপাত বন্ধ হোক। বন্ধ হোক সংস্কৃতিতে ঢুকে পড়া উটকো মানুষদের উপদ্রব। শেখ হাসিনার হাত শক্তিশালী করার বিষয় কথার কথা না কাজের ব্যাপার তার প্রমাণ দেখতে চাই আমরা। মানুষ আছে ধৈর্য ধরে, তারা এখন তা কাজে পরিণত হোক এ আশায় দিন গুনছে।

নির্বাচিত সংবাদ