২১ এপ্রিল ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ঠাকুরগাঁওয়ে রুহিয়া ডিগ্রী কলেজের ইংরেজী প্রভাষক বরখাস্ত

ঠাকুরগাঁওয়ে রুহিয়া ডিগ্রী কলেজের  ইংরেজী প্রভাষক বরখাস্ত

নিজস্ব সংবাদদাতা, ঠাকুরগাঁও ॥ বেসরকরি শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় পাশ না করে জাল সনদে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার রুহিয়া ডিগ্রী কলেজে প্রভাষক পদে চাকুরী করায় আতিকুর রহমান নামে কলেজের ইংরেজী বিষয়ের এক প্রভাষককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। সোমবার ওই কলেজের পরিচালনা কমিটির সভায় সীদ্ধান্তক্রমে তাকে চাকুরি হতে বরখাস্ত পত্র দেওয়া হয়।

জানা যায়, ২০১২ সালের ১১ নবেম্বর রুহিয়া ডিগ্রী কলেজের ব্যবসায় শিক্ষা (বিএম) বিভাগের ইংরেজী প্রভাষক পদে আতিকুর রহমান নিয়োগপ্রাপ্ত হন। পরবর্তীতে ২০১৩ সালের ১ জানুয়ারী ১১ হাজার টাকা বেতন স্কেলে এমপিওভুক্ত হন এবং সরকারি অর্থ ভোগ করেন। পরবর্তীতে ২০১৫ সালের ১ জুলাই হতে উন্নীত স্কেলে ২২ হাজার ১শ’ ৮০ স্কেলে বেতন প্রাপ্ত হন।

এদিকে ২০১৫ সালের ২০মে রুহিয়া ও নিরীক্ষা দপ্তরের যুগ্ম পরিচালক বিপুল চন্দ্র সরকার ও অডিটর মাহমুদুল হক ডিগ্রী কলেজ পরিদর্শন করেন। ওই নিরীক্ষায় কলেজের বিএম শাখার ইংরেজি প্রভাষক আতিকুর রহমানের দাখিলকৃত বেসরকরি শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষার সনদপত্র (৯ম বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা পাশের সন ২০০৯,বিষয়- ইংরেজী) জাল বলে ধরা পড়ে। অর্থাৎ আতিকুর রহমান নিজে পাশ না করে অন্য ব্যক্তির সনদপত্র সংগ্রহ করে জালিয়াতির মাধ্যমে চাকুরিতে নিয়োগপ্রাপ্ত হয়। অথচ এমপিও ভুক্ত হওয়ার পর থেকে ডিসেম্বর ’২০১৮ সাল পর্যন্ত প্রভাষক আতিকুর রহমান ৬৮ মাসে বেতন হিসেবে ১২ লক্ষ ২১ হাজার ২শ’ টাকা গ্রহণ করেন।

অডিটের ৩ বছর পর ২০১৮ সালের ২৬ নবেম্বর শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক প্রফেসর মো: সাজ্জাদ রশিদ স্বাক্ষরিত নিরীক্ষা প্রতিবেদন কলেজ অধ্যক্ষকে পাঠায়। ওই নিরীক্ষা প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে কলেজ অধ্যক্ষ মামুনুর রশিদ বলেন, ইংরেজী প্রভাষক আতিকুর রহমানের নিবন্ধন সনদপত্রটি সঠিক নয় । ওই নিবন্ধন সনদটি অন্য কোন ব্যক্তির ।

এর প্রেক্ষিতে অধ্যক্ষ মামুনুর রশিদ গত ৩১ জানুয়ারি প্রভাষক আতিকুর রহমানকে “দাখিলকৃত বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা পাশের সনদপত্রটি আসলে কার তার ব্যাখ্যা চেয়ে ৭ দিনের মধ্যে জবাব দাখিলের জন্য কারণ দর্শানো নোটিশ প্রদান করেন। ওই পত্রে বলা হয়, নিধার্রিত সময়ের মধ্যে জবাব দাখিল না করলে উত্থাপিত অভিযোগ সত্য বলে গণ্য হবে। গত শনিবার (০৯ ফেব্রুয়ারি’১৯) এর মধ্যে নোটিশের জবাব দেওয়ার শেষ দিন থাকলেও তিনি কোন জবাব দাখিল করেননি।

এ ঘটনায় সোমবার কলেজের পরিচালনা কমিটির জরুরী সভা আহবান করলে প্রভাষক আতিকুর রহমান জাল সনদের ব্যাপারে কোন জবাব দাখিল না করায় তাকে চাকুরি হতে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। সেই সাথে ২০১৩ সালের ১ জানুয়ারী হতে ’২০১৮ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বেতন হিসেবে নেওয়া ১২ লক্ষ ২১ হাজার ২শ’ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দিতে বলা হয়।

এ ব্যাপারে কলেজ অধ্যক্ষ মামুনুর রশিদ বলেন, পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের পত্রের প্রেক্ষিতে প্রভাষক আতিকুর রহমানের নিকট ব্যাখ্যা চেয়ে ৭ কর্ম দিবসের মধ্যে কারণ দর্শানো নোটিশ দেওয়া হয়েছে। সন্তোষজনক জবাব দাখিলে ব্যর্থ হওয়ায় তাকে চাকুরি হতে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তার কাছে সরকারের বেতন হিসেবে প্রদানকৃত অর্থ ফেরত দিতে বলা হয়েছে। মন্ত্রণালয় চাইলে তার বিরুদ্ধে জালিয়াতির মামলা হতে পারে।এ বিষয়ে প্রভাষক আতিকুর রহমানের সাথে যোগাযোগ করা হলে পাওয়া যায়নি।