১৭ ফেব্রুয়ারী ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

টঙ্গীর বিশ্ব এজতেমা ময়দানের ৭০ ভাগ কাজ সম্পন্ন

টঙ্গীর বিশ্ব এজতেমা ময়দানের ৭০ ভাগ কাজ সম্পন্ন

নিজস্ব সংবাদদাতা, টঙ্গী ॥ আর মাত্র ৩ দিন পরই টঙ্গীর তুরাগ নদীর তীরে শুক্রবার থেকে শুরু হচ্ছে তাবলীগ জামাতের ৪ দিনব্যাপী একটানা দু’ধাপের বিশ্ব এজতেমা। দু’পক্ষের গন্ডগোলের কারণে পিছিয়ে যাওয়া এজতেমা আয়োজন মাত্র ৭ দিন আগে এক বর্গ কিলোমিটারের বিশাল মাঠের প্রস্তুতি কাজ শুরু হয়েছে। এই স্বল্প সময়ের মধ্যে হাজার হাজার স্বেচ্ছাশ্রমের মুসল্লীরা মাঠের প্রস্তুতি কাজে অংশ নিচ্ছেন।

এ বিশাল কর্মযজ্ঞের অগ্রগতি দেখতে সোমবার বিকালে গাজীপুর জেলা প্রশাসক ড. দেওয়ান মুহাম্মদ হুমায়ুন কবির বিশ্ব এজতেমা মাঠ পরিদর্শন করেন। তিনি স্থানীয় সাংবাদিকদের মাঠের প্রস্তুতি কাজের অগ্রগতি প্রসঙ্গে বলেন, প্রায় ৭০ ভাগ কাজ ৭ দিনে শেষ করে আনা হয়েছে। বাকি কাজ আগামী ৩ দিনের মধ্যে সম্পন্ন হবে বলে তিনি সকলকে আশ^স্ত করেছেন।

অপরদিকে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী, স্থানীয় এমপি জাহিদ আহসান রাসেল জনকন্ঠকে জানান, সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ের সকল প্রকার সহযোগিতার মাধ্যমে বিশ্ব এজতেমা মাঠের প্রস্তুতি কাজ দিনরাত চালিয়ে নেয়া হচ্ছে। এজতেমা শুরুর পূর্ব মুহুর্ত পর্যন্ত প্রস্তুতি কাজ চললেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই বিশ্ব এজতেমা শুরু হবে।

জেলা প্রশাসক সাংবাদিকদের আরো জানান, অন্যান্য বারের মতো এবারও সেনাবাহিনী, র্যাব, পুলিশ, আনসার ও সাদা পোশাকে ১০ হাজারের বেশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আগত মুসল্লিদের নিরাপত্তায় নিয়োজিত থাকবেন। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে থাকবে সিসি ক্যামেরা এবং পুলিশ ও র্যাবের পর্যবেক্ষণ টাওয়ার। ইতিমধ্যে মাঠের চতুরদিকে পর্যবেক্ষন টাওয়ার তৈয়ার করা হয়েছে। অন্যান্য বছরের চেয়ে নিরাপত্তা আরো বেশি জোরদার করা হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

এবার যাতায়াতের সুবিদার্থে বাংলাদেশ রেলওয়ে ১৩৮ টি ট্রেনের ব্যবস্থা করবে এবং বিআরটিসি ৩০০ বাস সার্ভিস সেবা দিবে। মুসল্লীদের পয়:নিষ্কাশন এর জন্য ৮ হাজার পাকা টয়লেট ও ১ এক হাজার অস্থায়ী টয়লেট এর ব্যবস্থা করা হয়েছে। ওজু গোসলের জন্যও সুব্যবস্থা করা হয়েছে। অন্যান্য বারের চেয়ে এবছর সিসি ক্যামেরাও বৃদ্ধি করা হয়েছে। জেলা প্রশাসক আরো বলেন এ পযন্ত প্যান্ডেল তৈরির কাজ ৭০ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। আগামি ১৫ ফেব্রুয়ারির আগেই সকল প্রস্তুতি শেষ হবে।

এবার ৪ দিনের এজতেমায় কোন বিরতি না দিয়ে দু’পন্থীদের একটানা বিশ্ব এজতেমা অনুষ্ঠিত হবে। প্রথম দু’দিন শুক্রবার ও শনিবার মাওলারা যোবায়ের অনুসারীদের এজতেমা অনুষ্ঠিত হবে। এ গ্রুপের আখেরী মোনাজাত হবে মোনাজাত হবে ১৬ ফেব্রুয়ারী। মোনাজাত শেষে রাতের মধ্যে ময়দান ছেড়ে দিতে হবে যোবায়ের পন্থীদের। ১৭ ফেব্রুয়ারী ঢুকবে সা’দ অনুসারীদের দল। তারা ১৮ ফেব্রুয়ারী আখেরী মোনাজাত শেষে বিশ্ব এজতেমা সমাপ্তি ঘটাবে। সোমবার টঙ্গীর তুরাগ নদীর তীরে এজতেমা ময়দানে গিয়ে দেখা যায়, হাজার হাজার দ্বীনি মুসল্লি ও শিক্ষার্থী স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে ইজতেমা ময়দানের বিশাল সামিয়ানা টাঙ্গানোসহ যাবতীয় আনুসঙ্গিক কাজ করছেন।

প্রতিদিন ঢাকা ও গাজীপুরসহ আশপাশের ধর্মপ্রান মুসল্লিরা দল বেধে ইজতেমা ময়দানে এসে স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিত্বে বিশাল প্যান্ডেলের কাজ করছেন। ইতিমধ্যেই ইজতেমা ময়দানের সামিয়ানার কাজ এগিয়ে যাচ্ছে। জেলা ওয়ারী বিভিন্ন খিত্তায় মুসল্লিরা অবস্থান করবেন। এবারের বিশ্ব ইজতেমায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে মুসল্লির সমাগম ঘটবে বলে আশা করা হচ্ছে। মুসল্লিদের যাতায়াতসহ ময়দানে সুযোগ-সুবিধার লক্ষ্যে তুরাগ নদীতে সেনাবাহিনী ভাসমান সেতুর কাজ করছে। এখানে সবকিছুই হয়ে থাকে বিশ্ব তবলিগ জামায়াতের সর্বোচ্চ মজলিশে সূরার নির্দেশনা অনুযায়ী।

ইজতেমার ময়দান জুড়ে টাঙানো হচ্ছে চটের সামিয়ানা। বিদ্যুতের তার,গ্যাসের লাইন ও পানির পাইপ টানার কাজও চলছে একই সাথে। বিশ্ব ইজতেমা সফল ও সুন্দরভাবে সম্পন্ন এবং দ্বীনের মেহনত কায়েমের লক্ষ্যে মুসল্লিরা দলে দলে ভাগ হয়ে ইজতেমার মাঠে কাজ করছেন। এছাড়াও প্রতি বছরের মতো স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে স্কুল, কলেজ ও মাদরাসার শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেনি পেশার ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা ইজতেমা মাঠে প্রস্ততিমূলক কাজ করছেন। ওজু গোসলের স্থান ও টয়লেট পরিস্কার পরিছন্নসহ নানা কাজ করছে জেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতর ও সিটিকর্পোরেশন। এপযর্ন্ত প্যান্ডেলের বেশিরভাগ কাজ হয়েছে বলে জানিয়েছেন ইজতেমার আযোজক কতৃপক্ষ। জেলাওয়ারি ভাগ করা হচ্ছে খিত্তা। বিদেশি মেহমানদের জন্য ময়দানের উত্তর পশ্চিম পাশে তৈরি করা হচ্ছে টিনসেডের আলাদা থাকার জায়গা। মাঠে গিয়ে দেখা যায় অধিকাংশ চটের ছাউনি এখনো বাকি রয়েছে। তবে বাঁশের খুটি পুতা হয়ে গেছে। মাঠের দক্ষিন পূর্ব দিকে ট্রাক ভর্তি করে নতুন চটের বান্ডেল আসছে এবং মুসল্লিরা

তা ট্রাক থেকে নামিয়ে মাঠে ছামিয়ার জন্য কাজ করছেন। মাঠের পূর্ব পাশে বিভিন্ন মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা বালু দিয়ে মাঠ ভরাটের কাজ করতে দেখা গেছে। বেদেশী মুসল্লীদের জন্য নির্মান করা হয়ে টিনের ঘর। বিদেশী মেহমানদের কামরার দক্ষিন পূর্ব পাশে মূল মঞ্চের কাজ করা হচ্ছে। তুরাগ নদী পারাপারের সুবিদার্থে সেনাবাহিনী অস্থায়ি সেতু নির্মাণ করছেন। যাতে করে মুসল্লিরা এপার ওপার সেতুবন্ধন তৈরি করতে পারেন।

উল্লেখ্য, ১৯৬৭ সাল থেকে নিয়মিত বিশ্ব এজতেমা টঙ্গীর তুরাগ নদীর তীরে অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। এ বছর তাবলিগ জামায়াতের যোবায়ের এবং সা’দ গ্রুপের মধ্যে এক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে দুই মুসল্লী নিহত ও ৫ শতাধিক মুসল্লী গুরুতর আহত হন। এসব কোন্দলের কারণে এজতেমা স্থগিত হয়ে যায় এবং আগের সকল নিয়ম ভঙ্গ করে টানা ৪ দিনের এজতেমায় দুই পক্ষ ২ দিন করে এজতেমা অনুষ্ঠানের ভাগ পেয়েছে।