২৩ এপ্রিল ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

মেট্রোরেল

স্বপ্নের পদ্মা সেতুর মতো রাজধানীতে মেট্রোরেলের কাজও দৃশ্যমান হচ্ছে ক্রমশ। উত্তরা থেকে মতিঝিলের বাংলাদেশ ব্যাংক পর্যন্ত ২২ কিলোমিটার মূল সড়কের প্রায় সর্বত্র চলছে রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি। চলতি বছরের মধ্যে প্রকল্পের উত্তরা থেকে আগারগাঁও অংশ এবং আগামী বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে পুরো কাজ শেষ হওয়ার কথা। ইতোমধ্যে মেট্রোরেলের ১২০ মিটার উড়াল দৃশ্যমান। পুরো কাজ শেষ হলে ঘণ্টায় ৬০ হাজার যাত্রী পরিবহন সম্ভব হবে উড়াল পথে বিদ্যুত চালিত মেট্রোরেলের মাধ্যমে। আগামী বছরের শেষেই দেখা যাবে রাজধানী ঢাকায় ঘণ্টায় এক শ’ কিলোমিটার গতিসম্পন্ন দ্রুতগতির ট্রেন চলাচল করছে মানুষের মাথার ওপর দিয়ে। বর্তমান সরকারের যে ক’টি ফাস্ট ট্র্যাক মেগা প্রকল্প রয়েছে সেগুলোর মধ্যে অন্যতম মেট্রোরেল। তবে মেট্রোরেলের কারণে রাজধানীর প্রায় সর্বত্র যে রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ির কাজ চলমান তার অনিবার্য প্রভাব পড়েছে জনসাধারণের দৈনন্দিন জীবনে। কারণ যানজট বেড়েছে বহুগুণ। এমনিতেই ঢাকা যানজট, জনজটের শহর বলে সুপরিচিত সারাবিশ্বে। অধুনা সে সব রাস্তাই সঙ্কুুচিত হয়ে এসেছে অর্ধেকে। পরিবর্তন করা হয়েছে শতাধিক গণপরিবহনের রুট। মেট্রোরেলের জন্য বেশ গভীর করে রাস্তা খুঁড়তে হয়েছে। এমনিতেই খানাখন্দে ভর্তি রাজধানীর রাস্তাঘাট। আরও গভীর করে কাটাছেঁড়ায় ক্ষতবিক্ষত। চলাচলের রাস্তাও হয়ে উঠেছে নিতান্তই সরু। অনেক ক্ষেত্রে চলাচলের প্রায় অনুপযোগী। ফলে যানজট, জনজটে জনজীবন দুর্বিষহ ও অসহনীয় হয়ে উঠেছে। তদুপরি মেট্রোরেলের কাজ চলছে দিনরাত চব্বিশ ঘণ্টা। ফলে যানজটের আর সময়-অসময় বলে কিছু নেই। এর মধ্যে যদি অকস্মাৎ ঝড়-বৃষ্টি শুরু হয়ে যায়, যার আলামত দেখা গেছে ইতোমধ্যে, তা হলে তা ত্রাস হয়ে দেখা দেবে নাগরিক জীবনে।

রাজধানীর যানজট নিরসনে ১৯৯৯ সালের ঢাকা ট্রান্সপোর্ট কো-অর্ডিনেশন বোর্ডের (ডিটিসিবি) সমীক্ষা অনুযায়ী যানজট নিরসনে ২০টি পয়েন্টে ফ্লাইওভার, আন্ডারপাস, বাস বে, বাস টার্মিনাল, পার্কিং এরিয়া ইত্যাদি নির্মাণের প্রস্তাব করা হয়। এরই অংশ হিসেবে নির্মিত হয় মহাখালী, মেয়র হানিফ ও খিলগাঁও ফ্লাইওভার। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের অধীনে মগবাজার-মৌচাক ফ্লাইওভার প্রকল্প অনুমোদন পায় ২০১১ সালে। তবে তিন দফায় এ প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো হয়। আর তা বাড়ানোর ফলে ব্যয় বেড়ে দাঁড়ায় এক হাজার ২১৯ কোটি টাকা। এর পাশাপাশি ছিল অসহনীয় ও অকহতব্য জনদুর্ভোগ। কেননা দীর্ঘ উড়াল সড়কের দু’পাশে বিস্তর স্থাপনা, ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প-কারখানা, স্কুল-কলেজ-হাসপাতাল, আবাসন, ফ্ল্যাট বাড়ি, গলি, তস্যগলিতে প্রায় প্রতিদিন লেগে থাকত তীব্র যানজট। রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি বন্ধের তাৎক্ষণিক নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। বৃষ্টি ও বর্ষায় পানি জমে গেলে জনদুর্ভোগ হতো অবর্ণনীয়। মেট্রোরেলের ক্ষেত্রে যেন এমনটি না ঘটে।

মেট্রোরেল চালু হলে যানজট কী কমবে? উড়াল সড়কের নিচের রাস্তা পর্যন্ত সংযোগ সড়ক না থাকলে সে সব স্থানে যানবাহন নিয়ন্ত্রণ দুঃসাধ্য হবে বলে মনে করে ট্রাফিক বিভাগ। এখানে কয়েক স্থানে আছে একমুখী সড়ক বা ওয়ান ওয়ে। তদুপরি বিভিন্ন পয়েন্টে বিদ্যমান ফ্লাইওভারে ওঠা-নামার জন্য সংযোগ সড়কের সংখ্যাও কম। ফলে সে সব পয়েন্টে যানজট হতেই পারে। যে কোন পরিকল্পনা সুষ্ঠু, সমন্বিত, জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট, সর্বোপরি ব্যয়সাশ্রয়ী হওয়া অত্যাবশ্যক। দুঃখজনক হলো সরকারী সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানগুলো প্রায়ই তা মনে রাখে না। আর সে কারণেই যে প্রকল্প যথাসময়ে শেষ হওয়ার কথা তা দফায় দফায় মেয়াদ বাড়িয়েও শেষ করা যায় না। সঙ্গত কারণেই এতে করে বাড়ে জনদুর্ভোগ ও প্রকল্প ব্যয়। রাজধানীতে মেট্রোরেল, পাতালরেলসহ আরও ফ্লাইওভার নির্মিত হতে যাচ্ছে। খুব ভাল কথা। তবে যেন সময়ের কাজ যথাসময়ে শেষ হয়।