২৪ এপ্রিল ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ভাষাসৈনিক গাজীউল হকের জন্মদিন কাল

আগামী কাল বুধবার ভাষাসৈনিক আ ন ম গাজীউল হকের ৯১তম জন্মদিন। এ উপলক্ষে বগুড়া শহরের নামাজঘরের ভাষানীড় এ মাজার, ভায়া সৈনিক গাজীউল হক বিদ্যাপীঠ প্রাঙ্গণে এবং অস্ট্রেলীয়ার সিডনি ও জার্মানির বার্লিনে মিলাদ মাহফিলসহ নানা কর্মসূচীর আয়োজন করা হয়েছে। গাজীউল হক ৫২’র ভাষা আন্দোলনে ২১ ফেব্রুয়ারি ঐতিহাসিক আমতলার জনসভায় সভাপতিত্বের দায়িত্ব পালন করেন এবং ১৪৪ ধারা ভঙ্গের নির্দেশ দেন। ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। তিনি ১৯৯২ সালের ২৬ মার্চ শহীদ জননী জাহানারা ইমামের নেতৃত্বে গণআদালতে প্রধান বিচারকের আসনে ৭১-এর ঘাতক-দালালের ফাঁসির রায় ঘোষণা দেন।

গাজীউল হক ১৯২৯ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি বাংলা ১৩৩৫ সালের ১ ফাগুন ফেনী জেলার ছাগল নাইয়া থানার নিচিন্তা গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। মক্তব থেকে তার শিক্ষাজীবন শুরু। ১৯৩৫ সালে হাজী মোহাম্মদ মহসীন বৃত্তি নিয়ে নিম্ন প্রাইমারী পাস করে, কাশীপুর উচ্চ প্রাইমারী স্কুলে ভর্তি হয়ে ১৯৩৭ সালে পুনরায় চার টাকার এই বৃত্তি নিয়ে উচ্চ প্রাইমারী পাস করে, ছাগল নাইয়া হাই স্কুলে পঞ্চম শ্রেণীতে ভর্তি করার পরই সে দিনের প্রতিবাদী কিশোর রাজনীতির প্রতি ঝুঁকে পড়ে ছিলেন। পিতা মাওলানা সিরাজুল হক এবং তার পরিবার কিশোরের কর্মকা- দেখে দিশাহারা হয়ে যান। কি করবেন ভেবে না পেয়ে স্কুল শিক্ষকের পরামর্শে নিরাপত্তার জন্য তাকে নিয়ে যাওয়া হয় বগুড়ায়। ভর্তি করা হয় বগুড়া জেলা স্কুলে। ১৯৪৬ সালে কৃতিত্বের সঙ্গে প্রথম বিভাগে আইএ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন এবং ছাত্ররাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন। তিনি পঞ্চাশের দশকে শুরু করেন আইন ব্যবসা। ১৯৭২ সাল থেকে হাইকোর্টে এবং পরে সুপ্রীম কোর্টে সাফল্যের সঙ্গে আইন ব্যবসা করেন। ১৯৭১ সালে ঝাঁপিয়ে পড়েন মুক্তিযুদ্ধে। সময়ের তাগিদে, জীবন-জীবিকার প্রয়োজনে তিনি কখনও হয়েছিলেন সাংবাদিক, পত্রিকার হকার, প্রাবন্ধিক, কথা শিল্পী, কবি ও গীতিকার। ক’টি গ্রন্থের রচয়িতা হলেও ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলন এবং মুক্তিযুদ্ধের ওপর প্রথম লেখা গ্রন্থ, ‘এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম’ ব্যাপক সাড়া জাগায়।-বিজ্ঞপ্তি