২৪ জুলাই ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

১১ মার্চ ডাকসু নির্বাচন

  • স্বাগত জানিয়েছে ছাত্রলীগ, বাম দলগুলোর প্রতিবাদ

স্টাফ রিপোর্টার ॥ গঠনতন্ত্রসহ বিধিবিধান অনুসারে আবাসিক হলগুলোতে ভোট কেন্দ্র রেখেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে। কয়েকটি বাম সংগঠন ও ছাত্রদল আসাসিক হলের বাইরে কেন্দ্র রাখার দাবি তুললেও বিধিবিধান লঙ্ঘনের পথে হাঁটেনি প্রধান রিটার্নিং কর্মকর্তা। তফসিল ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়ে ক্যাম্পাসে মিছিল ও সমাবেশ করেছে ছাত্রলীগ। অন্যদিকে হলে ভোট কেন্দ্র রেখে তফসিল ঘোষণায় করায় প্রতিবাদ মিছিল করেছে বাম ছাত্রসংগঠনগুলোর দুই জোট।

সোমবার সকাল সাড়ে দশটায় বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবন থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে তফসিল ঘোষণা করেন প্রধান রিটার্নিং কর্মকর্তা অধ্যাপক ড. এস এম মাহফুজুর রহমান। তফসিল ঘোষণার সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলোর প্রাধ্যক্ষ, প্রক্টর ও নির্বাচন পরিচালনায় নিযুক্ত রিটার্নিং কর্মকর্তারা সেখানে উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন ডাকসু নির্বাচন ঘিরে গঠিত বিভিন্ন কমিটির সদস্যরাও। ঘোষিত তফসিল অনুসারে ডাকসুর গঠনতন্ত্রের ৬(বি) ও ৭(এ) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ২৫টি পদে আগামী ১১ মার্চ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ওইদিন সকাল ৮টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত হলগুলোতে স্থাপিত ভোট কেন্দ্রে গিয়ে শিক্ষার্থীরা পরিচয়পত্র দেখিয়ে ভোট দিতে পারবেন। তার আগে নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার শেষ সময় ২ মার্চ, যাচাই-বাছাই শেষে প্রার্থী তালিকা প্রকাশ হবে ৩ মার্চ। চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ হবে ৫ মার্চ।

নির্বাচনে পদগুলোর মধ্যে আছে সহসভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, সহসাধারণ সম্পাদক, স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক, কমনরুম ও ক্যাফেটেরিয়া সম্পাদক, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক, সাহিত্য সম্পাদক, সংস্কৃতি সম্পাদক, ক্রীড়া সম্পাদক, ছাত্র পরিবহন সম্পাদক, সমাজসেবা সম্পাদক ও সদস্য পদে ১৩ জন। সোমবারই হলের নোটিস বোর্ড ও ডাকসুর ওয়েবসাইটে (ফঁপংঁ.ফঁ.ধপ.নফ) খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। ১৮ ফেব্রুয়ারি বিকেল ৪টা পর্যন্ত ভোটার তালিকায় ভুলত্রুটি সংশোধনের আপত্তি গৃহীত হবে। লিখিত অভিযোগ সংশ্লিষ্ট হলের রিটার্নিং অফিসার বরাবর দাখিল করতে হবে। ২০ ফেব্রুয়ারি বিকেল ৪টায় নোটিস বোর্ডে এবং ওয়েবসাইটে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে।

১৯ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৫ ফেব্রুয়ারি (সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৮টা) সংশ্লিষ্ট হলের প্রাধ্যক্ষ অফিস থেকে মনোনয়নপত্র বিতরণ করা হবে। ২৬ ফেব্রুয়ারি সকাল ৯টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত হলের রিটার্নিং অফিসার মনোনয়নপত্র গ্রহণ করবেন। ২৬ ফেব্রুয়ারি দুপুর ২টা থেকে ডাকসুর মনোনয়নপত্র নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনের সেমিনার কক্ষে রিটার্নিং অফিসার বাছাই করবেন।

২৭ ফেব্রুয়ারি দুপুর ১২টায় হলের নোটিস বোর্ডে এবং ডাকসুর ওয়েবসাইটে প্রার্থীদের প্রাথমিক তালিকা প্রকাশ করা হবে। প্রকাশিত তালিকার বিষয়ে কোন প্রার্থীর আপত্তি থাকলে ২৮ ফেব্রুয়ারি ১২টার মধ্যে তা ডাকসুর সভাপতির (উপাচার্য) নিকট লিখিত অবহিত করতে হবে।

২ মার্চ বেলা ১টা পর্যন্ত লিখিত ও স্বাক্ষরকৃত আবেদনসহ সংশ্লিষ্ট হলের রিটার্নিং অফিসারের কাছে ব্যক্তিগতভাবে উপস্থিত হয়ে যে কোন প্রার্থী তার মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করতে পারবেন। ৩ মার্চ বিকেল ৪টায় প্রার্থীদের চূড়ান্ত তালিকা হলের নোটিস বোর্ড ও ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে। ৫ মার্চ দুপুর ১২টায় সম্পূরক ভোটার তালিকা হলের নোটিস বোর্ড ও ওয়েবসাইটে কাশ করা হবে।

১১ মার্চ সোমবার সকাল ৮টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত একটানা ভোটগ্রহণ হবে। সংশ্লিষ্ট হলের ভোটার (আবাসিক ও অনাবাসিক) তার নিজ হলের ভোট কেন্দ্রে বৈধ পরিচয়পত্র দেখিয়ে ভোট প্রদান করবেন। ভোটগ্রহণের পর ভোট গণনা শেষে নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশ করা হবে।

হল সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র বিতরণ, জমা, বাছাই ও প্রত্যাহারের তারিখ কেন্দ্রীয় সংসদের নির্ধারিত তারিখেই রাখা হয়েছে। তবে প্রচারের বিষয়ে তফসিলে কিছু বলা হয়নি। এ বিষয়ে প্রধান রিটার্নিং কর্মকর্তাকে প্রশ্ন করলেও তিনি কোন উত্তর দেননি।

দীর্ঘ ২৮ বছর পর ডাকসু নির্বাচনের উদ্যোগ নিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। সর্বশেষ ডাকসু নির্বাচন হয়েছিল ১৯৯০ সালে। ডাকসু নির্বাচন চেয়ে আদালতে রিট আবেদন হয়েছিল তাতে ছয় মাসের মধ্যে নির্বাচন আয়োজনের নির্দেশনা আসে গত বছর হাইকোর্ট থেকে। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের আবেদনে ওই আদেশ স্থগিত করেছিল আপীল বিভাগের চেম্বার আদালত। আপীল বিভাগ গত ৬ জানুয়ারি সেই স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করে নিলে নির্বাচন আয়োজনের বাধা কাটে।

এরপর নির্বাচনের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাংকিং এ্যান্ড ইন্সুরেন্স বিভাগের অধ্যাপক ড. এস এম মাহফুজুর রহমানকে প্রধান রিটার্নিং কর্মকর্তা এবং আরও পাঁচজনকে রিটার্নিং কর্মকর্তা নিয়োগ দেয়া হয়।

ছাত্র সংগঠনের প্রতিক্রিয়া ॥ দীর্ঘদিন পর এবার ডাকসু সরব নির্বাচনের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে সকল ছাত্র সংগঠনই। তবে ভোট কেন্দ্র হলের বাইরে রাখার দাবিতে সরব বাম ও বিএনপির ছাত্র সংগঠন ছাত্রদল। যদিও বাম সংগঠনগুলোর নেতারা বলছেন, তারা নির্বাচনের প্রস্তুতির সঙ্গে সঙ্গে তাদের দাবির পক্ষে আন্দোলনও চালিয়ে যাবেন।

তফসিল ঘোষণা করায় সন্তুষ্টি প্রকাশ করে ক্যাম্পাসে মিছিল ও সমাবেশ করেছে ছাত্রলীগ। অন্যদিকে হলে ভোট কেন্দ্র রেখে তফসিল ঘোষণা করায় বিক্ষোভ মিছিল করেছে বাম ছাত্রসংগঠনগুলোর দুই জোট। ছাত্রলীগের মিছিলটি বেলা ৩টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিন থেকে শুরু ক্যাম্পাস ঘুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলায় গিয়ে শেষ হয়। সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় ও ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের নেতারা। কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভনের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক হুসেইন সাদ্দাম। সমাবেশে ছাত্রলীগের সহ¯্রাধিক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

তফসিলকে স্বাগত জানিয়ে কেন্দ্রীয় সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন বলেন, ডাকসু নির্বাচনের তফসিল দিয়েছে আপনাদের সবাইকে তৈরি থাকতে হবে। ভোটটা কিন্তু সবাই গোপনেই দিবে। কোন প্রভাব খাটিয়ে লাভ নেই। কেউ যদি তোমার প্রতি মনোক্ষুণœ হয় তাহলে ভয় পেয়ে তোমার সামনে বলবে ভোটটা দিব। গোপনে গিয়ে কিন্তু ভোটটা দিবে না। ভালবাসার মধ্যে কোন গোপন জিনিস নেই। সে যেখানেই থাকুক তোমাকে ভালবাসবে। ছাত্রলীগ সবার মন জয় করে আগামী ১১ মার্চ ডাকসু নির্বাচনে সেখানে ফুল প্যানেল নিরঙ্কুশ বিজয়ী হয়ে শেখ হাসিনাকে উপহার দিতে চায়। সভাপতি আরও বলেন, শেখ হাসিনা আমাদেরকে যেভাবে মনোনীত করেছেন সেই ধারাবাহিকতায় আমরা তাকে ডাকসু উপহার দিতে চাই। আমরা চারজন কিছু না। তোমাদের ওপর নির্ভর করছে আমাদের সবকিছু। তোমরা সেইভাবে চলাফেরা করবে। তোমাদের একটি ভুলের জন্য যেন বাংলাদেশ ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশও ছাত্রলীগ ওতপ্রোতভাবে জড়িত।

সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী বলেন, জননেত্রী শেখ হাসিনার আমলে কর্মচারীদের জন্য শেখ রাসেল টাওয়ার হয়েছে, ছাত্রীদের জন্য ৭ মার্চ ভবন হয়েছে, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ ভবন সম্প্রসারিত হচ্ছে। আমরা বারবার ডাকসু কথা বলেছি। ডাকসু নির্বাচনে আমরা নিরঙ্কুশ বিজয় ছিনিয়ে আনব।