১২ ফেব্রুয়ারী ২০১৯

হেরে যাওয়ার ভয়ে উপজেলা নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে না বিএনপি ॥ কাদের

সংসদ রিপোর্টার ॥ বিএনপি রোজ কেয়ামতের দিন পর্যন্ত অভিযোগ করবে এমন মন্তব্য করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, তারা (বিএনপি) যখন দেখে নির্বাচনে জেতার সম্ভাবনা নেই, তখন তারা একতরফা নির্বাচনের অভিযোগ করে। বিএনপি তারা জানে যে, জাতীয় নির্বাচনে তাদের যে ভরাডুবি হয়েছে, উপজেলা নির্বাচনে আরও খারাপ পরিণতি হবে। তাই হেরে যাওয়ার ভয়ে তারা নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে না।

সোমবার আগারগাঁওয়ের নির্বাচন কমিশনের নির্বাচন ভবনে সংরক্ষিত নারী আসনের প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র জমা দিয়ে বের হলে উপস্থিত সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় অন্য কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

উপজেলা নির্বাচনে বিএনপির অংশ না নেয়া ও তাদের অভিযোগ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, বিএনপি নির্বাচন হওয়ার আগেই হেরে যায়। নির্বাচন হওয়ার আগেই তারা নির্বাচন সম্পর্কে বিরূপ মন্তব্য করে। নালিশ করা তাদের পুরনো অভ্যাস। তারা এ পর্যন্ত যেসব নির্বাচনে বিজয়ী হয়েছে, দেখা গেছে রেজাল্ট হওয়ার আগেই সেখানে তারা বলেছে জালিয়াতি হয়েছে। সিলেট সিটি কর্পোরেশনের ব্যাপারে তারা একই কথা বলেছিল।

তিনি বলেন, বিএনপির এই নালিশের ব্যাপারে কারও মাথাব্যথা নেই। তাদের এসব নালিশে জনগণ হাসে, তাদের নালিশ এখন সবার কাছে হাস্যকর হয়ে গেছে। এগুলোর কোন বাস্তবতা, সত্যতা জনগণের কাছে নেই। দেশে-বিদেশে নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার যে অপচেষ্টা করেছিল, তা ব্যর্থ হয়েছে। সারা দুনিয়া বিশেষ করে গণতান্ত্রিক বিশ্ব এই নির্বাচনকে অভিনন্দিত করেছে। নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানিয়েছে। জাতিসংঘসহ আমাদের উন্নয়ন সহযোগীরা একযোগে কাজ করার অঙ্গীকার করেছে। অলরেডি আমরা একযোগে কাজ করছি।

সংরক্ষিত মহিলা আসনের মনোনয়ন সম্পর্কে ওবায়দুল কাদের বলেন, মহিলা আসনের মনোনয়নের ক্ষেত্রে ত্যাগী এবং তৃণমূলকে প্রাধান্য দেয়া হয়েছে। আমরা অনেক সময় নিয়েছি। আমাদের সভাপতি শেখ হাসিনা সংরক্ষিত নারী আসনের বিষয়ে দীর্ঘদিন ধরে দেখে আসছেন। এমনকি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় কয়েকজনের নাম তিনি আমায় লিখে রাখতে বলেছিলেন। অনেক যাচাই-বাছাই করা হয়েছে। যাদের মনোনয়ন দেয়া হয়েছে তারা সকলে ব্রিলিয়ান্ট, পোলাইট, কমিটেড এবং ডেডিকেটেড।

তিনি বলেন, আমাদের দলের প্রতি বিশ্বস্ত, দেশ ও মুক্তিযুদ্ধের প্রতিও তারা কমিটেড, আন্দোলন-সংগ্রামে তাদের যে ত্যাগী ভূমিকাÑ সেটা আমরা গুরুত্ব দিয়েছি, অগ্রাধিকার দিয়েছি। আমাদের নেত্রীর সক্রিয় মতামতের ভিত্তিতে দলের দীর্ঘদিনের ত্যাগী কর্মীরা এবং মুক্তিযুদ্ধের পরিবার, এছাড়া সব অঙ্গনের প্রতিনিধি এখানে আছে। কালচারাল থেকে শুরু করে সকল পর্যায় থেকে নিয়েছি। সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছি তৃণমূল পর্যায়ে।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, সংরক্ষিত মহিলা আসনে সব অঙ্গনের প্রতিনিধি রয়েছেন। সাংস্কৃতিক অঙ্গন থেকে সুবর্ণা মোস্তফাকে চয়েজ করা হয়েছে। ব্যবসা থেকে শুরু করে সব অঙ্গন থেকে আমরা কিন্তু প্রতিনিধি নিয়েছি। সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছি তৃণমূল পর্যায়ে। আমাদের যে নেত্রীরা দীর্ঘদিন দলের সঙ্গে ছিলেন সাহসী ভূমিকা পালন করেছেন, জেল-জুলুম সহ্য করেছেন, তাদের ব্যাপারে আমাদের নেত্রী সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছেন।

ভবিষ্যতে সংরক্ষিত আসন বাড়ানো হবে কিনা, এমন প্রশ্নে ওবায়দুল কাদের বলেন, একটা কথা আমাদের মনে রাখতে হবে, ভবিষ্যতে বিষয়টিকে বাড়ানো নয়, আমরা এটা কমানোর বিষয়ে ভাবব। এমনিতেই ২৫ বছরের জন্য বিষয়টি বুকড হয়ে আছে। এর মধ্যে নারীরা ক্ষমতায়নে অনেক দূর এগিয়ে যাবে। নারীদের পজিশন অনেক আপগ্রেড হবে।

একতরফা নির্বাচন করে আওয়ামী লীগ জিতে যাচ্ছে- বিএনপি নেতা নজরুল ইসলাম খানের এমন বক্তব্যে ওবায়দুল কাদের বলেন, উনি কি নির্বাচনের নিয়ম কানুন, আইন, আচরণবিধি, সংবিধান- এসব মানতে চান না? জাতীয় নির্বাচনের পর উপজেলা নির্বাচন তো পাঁচ বছর পরেই হচ্ছে। গতবারের উপজেলা নির্বাচনে প্রথম ধাপে বিএনপির মেজরিটি পার্সেন্ট এগিয়ে ছিল। দ্বিতীয় ধাপেও তারা ব্যালেন্স ছিল। তারা এখন নির্বাচনে অংশ নেবে না, কারণ তারা জানে জাতীয় নির্বাচনে যে ভরাডুবি হয়েছে, তাতে উপজেলা নির্বাচনে আরও শোচনীয় অবস্থা হবে। এই ভয়ে তারা নির্বাচনে অংশ নেবে না।