২৪ এপ্রিল ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বাংলা একাডেমির বইয়ে পাঠকের বিশেষ আগ্রহ

বাংলা একাডেমির বইয়ে পাঠকের বিশেষ আগ্রহ

মনোয়ার হোসেন ॥ শৈশব-কৈশোর পেরিয়ে এখন তারুণ্যের পথরেখায় অমর একুশে গ্রন্থমেলা। সব জড়তা কাটিয়ে সাবলীয় গতিতে এগিয়ে চলছে বইমেলা। জমাটবাঁধা মেলায় প্রতিদিনই প্রকাশিত হচ্ছে অজস্র গ্রন্থ। বিভিন্ন প্রকাশনীর নানা বহুমাত্রিক বিষয়ের নতুন বই এবং না পড়া পুরনো বইগুলো পাঠকরা আগ্রহ নিয়ে কিনছেন। তবে মেলার আয়োজক বাংলা একাডেমি প্রকাশিত বইয়ের প্রতি রয়েছে পাঠকের বিশেষ আকর্ষণ। সোমবার মেলার একাদশ দিনে নজরে এলো সেই চিত্রটি। বেলা ৩টায় খুলে যায় মেলার প্রবেশদ্বার। এরপর উদ্যান অংশের বাংলা একাডেমির প্যাভিলিয়নটিতে চোখে পড়ে পাঠকের সমাগম। শর্মিলা সাহা নামের এক বইপ্রেমী কিনছিলেন একাডেমি থেকে এ বছর প্রকাশিত ধ্রুপদী সাহিত্যের বইগুলো। একে একে সংগ্রহ করলেন হুমায়ুন কবির রচিত উপন্যাস ‘নদী ও নারী’, অদ্বৈত মল্লবর্মণের ‘তিতাস একটি নদীর নাম’ ও কাজী ইমদাদুল হকের উপন্যাস ‘আবদুল্লাহ’। প্রতিদিনই এমন নিমগ্ন পাঠকেরা ভিড় করছেন একাডেমির স্টলে। সেই সূত্রে তুমুল গতিতে বিপুল পরিমাণে বিক্রি হচ্ছে একাডেমির বই। পয়লা ফেব্রুয়ারি থেকে ১০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ৫৬ লাখ ৭৮৭ টাকার বই বিক্রি করেছে একাডেমি।

বাংলা একাডেমির বইয়ের প্রতি পাঠকের বিশেষ আগ্রহ প্রসঙ্গে কথা হয় মেলার সদস্য সচিব এবং বিক্রয় ও বিপণন বিভাগের পরিচালক ড. জালাল আহমেদের সঙ্গে। তিনি জনকণ্ঠকে বলেন, প্রথম কথা বাংলা একাডেমি মানসম্মত বই প্রকাশ করে। প্রখ্যাত লেখক, গবেষক ও প-িতদের লেখা নিয়ে একাডেমির বই হয়। তার ওপর একাডেমির রয়েছে একটি দক্ষ সম্পাদনা পরিষদ। সুলেখকের সুসম্পাদিত বইগুলো সহজেই আকৃষ্ট কেের পাঠককে। তার ওপর অন্য প্রকাশনীগুলোর তুলনায় একাডেমির বইয়ের মূল্য অনেক কম। এটাও পাঠককে টানার অন্যতম কারণ। উপরন্তু মেলার আয়োজক হওয়ার একাডেমির প্রচারটাও বেশি থাকে। এছাড়া সবাই বাংলা একাডেমিকে জাতিসত্তার নিজস্ব প্রতিষ্ঠান মনে করে। এসব কারণে পাঠকরা একাডেমির বইয়ের ব্যাপারে সব সময়ই আগ্রহী থাকে। আর যারা সিরিয়াস পাঠক তাদের কাছে একাডেমির বইয়ের মান ও উৎকর্ষ বিশেষভাবে প্রাধান্য পায়। এসব পাঠক প্রস্তুতি নিয়েই বাংলা একাডেমির বই কিনতে আসে। একাডেমির বইয়ের মধ্যে বেশি চলে বিভিন্ন ধরনের অভিধানসহ বঙ্গবন্ধু রচিত কারাগারের রোজনামচা, পার্লামেন্টারি শব্দকোষ, তিতাস একটি নদীর নাম, শকুন্তলাসহ মুক্তিযুদ্ধ ও ভাষা আন্দোলনের ওপর গবেষণাধর্মী বই। এর বাইরে ভাষাবিজ্ঞান, লোকসাহিত্য, জীবন ও সাহিত্যকর্ম, রবীন্দ্র ও নজরুলবিষয়ক, ইতিহাস, সংস্কৃতি ও সঙ্গীত, শিশুতোষ, নাটক ও নাটক প্রসঙ্গ, কবিতা ও কবিতা প্রসঙ্গ, রচনাবলী, জীবনী গ্রন্থমালাসহ আছে নানা ধরনের গ্রন্থ। এমন বৈচিত্র্যময় ও মানসম্পন্ন বইয়ের প্রতি স্বাভাবিকভাবেই রয়েছে পাঠকের আলাদা চাহিদা। তাই সারা বছরের পাশাপাশি মেলাকে ঘিরে একাডেমি প্রকাশিত বইয়ের বিক্রি বেড়ে যায় অনেক গুণ।

পাঠকের চাহিদা বিবেচনায় রেখে মেলার দুই ক্যানভাস বাংলা একাডেমি আঙিনা ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যান মিলিয়ে রয়েছে সাতটি বিক্রয়কেন্দ্র। এর মধ্যে দুই প্রাঙ্গণে দুটি প্যাভিলিয়ন, চার ইউনিটের দুটি, একাডেমির শিশু-কিশোর উপযোগী বইয়ের জন্য একটি স্টল। একাডেমির সাহিত্য মাসিক ‘উত্তরাধিকার’র জন্যও রয়েছে আলাদা একটি স্টল। সেই সঙ্গে একাডেমির অভ্যন্তরে ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ ভবনে স্থায়ী বিক্রয়কেন্দ্র তো রয়েছেই।

একাদশতম দিনের নতুন বই : বাংলা একাডেমির জনসংযোগ বিভাগের তথ্যানুযায়ী, মেলার একাদশতম দিনে এসেছে নতুন ১২৮টি নতুন বই। এর মধ্যে গল্পগ্রন্থ ২১টি, উপন্যাস ১৬, প্রবন্ধ ১০, কবিতা ৪৯, ছড়া ২, শিশুসাহিত্য ১, জীবনী ৪, রচনাবলী ১, মুক্তিযুদ্ধ ২, নাটক ১, ভ্রমণ ৩, ইতিহাস ৫, রাজনীতি ১, চিকিৎসাশাস্ত্র ১ বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী ২ এবং অন্যান্য বিষয়ের ৫টি নতুন বই এসেছে।