২৩ এপ্রিল ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ইডেনের সাবেক অধ্যক্ষপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের শিকার

ইডেনের সাবেক অধ্যক্ষপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের শিকার
  • তিন গৃহকর্মী ও এক যুবককে খুঁজছে পুলিশ

নিয়াজ আহমেদ লাবু ॥ পূর্ব শত্রুতার জের ধরে ইডেন কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ মাহফুজা চৌধুরী পারভীনকে (৬০) পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। পুলিশ এই ঘটনায় নিহতের বাড়ির তিন গৃহপরিচারিকা স্বপ্না (৩৬) ও রেশমা (৩০) ও রুনু (২৫) ও এক যুবককে খুঁজছে। ঘটনার পর থেকে তারা পলাতক রয়েছে। তাদের গ্রেফতারের জন্য আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর একাধিক টিম মাঠে নেমেছে। পুলিশ জানায়, একাধিক ব্যক্তি হাত-পা চেপে ধরে গলা টিপে তাকে হত্যা করে থাকতে পারে। কারণ তার ঠোঁট, মুখ ও আঙ্গুলে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। হাতের একটি আঙ্গুল ভাঙ্গা ছিল। হাতের কয়েকটি আঙ্গুলে কালো দাগের ছাপ পাওয়া গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, হত্যাকারীরা তার বাড়ির স্বর্ণালঙ্কার ও মূল্যবান মালামাল লুট করার জন্য তাকে পরিকল্পিতভাবে খুন করেছে। ঘটনার পর তার বাড়ির স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ টাকা খোয়া গেছে। এদিকে ঘটনার পর সোমবার সকালে নিহতের স্বামী ছাত্রলীগের সাবেক নেতা ইসমত কাদের গামা বাদী হয়ে রাজধানীর নিউমার্কেট থানায় একটি হত্যা মামলা করেছেন। মামলায় গৃহকর্মীসহ চারজনকে আসামি করা হয়েছে। রাতে নিউমার্কেট থানার ওসি মোঃ আতিকুর রহমান জনকণ্ঠকে জানান, খুনের ঘটনায় নিহতের গৃহপরিচারিকাসহ তিন আসামিকে গ্রেফতারের জন্য অভিযান চলছে। অচিরেই আপনারা ভাল কিছু জানতে পারবেন।

মামলা তদন্ত সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, ঘটনার পর যে ব্যক্তি ওই ফ্ল্যাটে গৃহকর্মী সরবরাহ করেছিলেন তাকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। ঘটনাস্থল বহুতল এপার্টমেন্ট সুকন্যা টাওয়ারের প্রবেশদ্বারে সিসিটিভি সংগ্রহ করা হয়েছে। তার পর্যালোচনা শেষে হত্যাকারীদের চিহ্নিত করা হয়েছে। ঘটনার সময় সিসিটিভি সচল ছিল বলে এ্যাপার্টমেন্ট দারোয়ান নুরু জানিয়েছেন। এদিকে সোমবার দুপুরে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ মর্গে সাবেক অধ্যক্ষ মাহফুজা চৌধুরী পারভীনের লাশের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন শেষে বনানী কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের রমনা বিভাগের উপ-কমিশনার মারুফ হোসেন সরদার জানান, এ হত্যাকা-ে চারজন জড়িত থাকতে পারে। আমাদের সন্দেহের তীর ওই দুই গৃহকর্মী স্বপ্না, রেশমার দিকেই। ঘটনার দিন রবিবার অধ্যক্ষ মাহফুজা খুুনের পর বিকেল পাঁচটার দিকে তারা পালিয়ে যায়। ওই খুনের ঘটনায় আরও এক ব্যক্তিকে গ্রেফতারের জন্য সোমবার ভোর পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালানো হয়েছে। তাদের গ্রেফতার সম্ভব হয়নি। তবে আশা করছি দ্রুত তারা পুলিশের জালে ধরা পড়বে। পুলিশ ছাড়াও র‌্যাব ঘটনার ছায়া তদন্ত করছে বলে জানান তিনি। গৃহপরিচারিকা স্বপ্নার গ্রামের বাড়ি ফরিদপুরের বোয়ালমারী ও রেশমার বাড়ি কিশোরগঞ্জ জেলায়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, মাহফুজা চৌধুরীর স্বামী ইসমত কাদির গামা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান। তিনি সত্তরের দশকের প্রথম দিকে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। মাহফুজা চৌধুরী ২০০৯ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত ইডেন মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ ছিলেন। এ্যালিফেন্ট রোড এলাকার সুকন্যা টাওয়ারের ১৫ ও ১৬ তলায় দুটি ফ্ল্যাটে (ডুপ্লেক্স) এই দম্পতির বহুদিনের সংসার। ওপরের অংশটিতে তারা থাকেন। নিচতলায় রান্নাঘর, গৃহকর্মীদের আবাস। নিহতের স্বজনরা জানান, তাদের দুই ছেলের একজন সেনাবাহিনীর চিকিৎসক, আরেকজন ব্যাংকে চাকরি করেন। তারা এখানে থাকেন না। বাড়িতে তিনজন গৃহকর্মী ছিলেন।

সোমবার এ্যালিফেন্ট এলাকার সুকন্যা টাওয়ারে গিয়ে দেখা গেছে, সুকন্যা টাওয়ারের মাহফুজা চৌধুরীর এ্যাপার্টে শোকার্ত স্বজনরা আহাজারি। স্বজনের কষ্ট ও বেদনায় সেখানকার পরিবেশ ভারি হয়ে ওঠে। পুরো ভবনেই বিরাজ করছে গুমোট আবহাওয়া। প্রতিবেশীরাও মেনে নিতে পারছেন না মাহফুজার এমন মৃত্যু। সুকন্যা টওয়ারের পাশের ভবনে থাকা মাহফুজ-গামা দম্পতির প্রতিবেশী জিয়াউদ্দীন ভুইয়া জানান, এটি কোনোভাবেই মেনে নেয়া যায় না। উনি খুব ভালো। একজন অমায়িক মানুষ ছিলেন। তাদের কোন শত্রু ছিল না। কাজের মেয়ের মাধ্যমে এমন কিছু হবে তারা কেন, আমরাও ভাবতে পারছি না। মাহফুজা মেডামকে হারিয়ে মনের ভেতরে কষ্ট লুকিয়ে রাখতে পারছি না। নিহতের ভাগ্নে ওয়ালিদ হোসেন রুবেল জানান, দুই গৃহকর্মী রেশমা, স্বপ্না ছাড়াও আরেকজন রয়েছেন। আমাদের ধারণা তারাই মামি মাহফুজাকে হত্যা করেছে। আলমারি থেকে স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ টাকা মূল্যবান জিনিসপত্র ও ব্যবহৃত মোবাইল নিয়ে গেছে। এদিকে ঘটনাস্থলে উপস্থিত পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা বলেন, যা দেখছি তাতে তাৎক্ষণিক মন্তব্য করা ঠিক হবে না। তবে সব আলামত মাথায় রেখেই তদন্ত চলছে। নিহতের পলাতক গৃহকর্মীদের আটক হলে পুরোটা জানা যাবে। প্রতিবেশী এবং ওই ভবনে বসবাসকারীদের সঙ্গে কথা বলে কিছু তথ্য পেয়েছি। তদন্তের স্বার্থে এখনই সেগুলো বলতে পারবো না।