২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

কর্ণফুলীর ক্যাপিটাল ড্রেজিং এগিয়ে চলছে ॥ ২২ শতাংশ কাজ সম্পন্ন

  • ব্যয় হবে ২৪২ কোটি টাকা

হাসান নাসির, চট্টগ্রাম অফিস ॥ আইনী জটিলতা কাটিয়ে ওঠার পর চট্টগ্রাম বন্দরের প্রাণ কর্ণফুলী নদীর ক্যাপিটাল ড্রেজিং পুরোদমে এগিয়ে চলছে। এর মধ্যেই শেষ হয়েছে প্রকল্পের ২২ শতাংশ কাজ। ২৪২ কোটি টাকার এই প্রকল্পের মধ্যে নদী খননে মূল কাজটি চলতি বছরের জুন মাস নাগাদ শেষ হবে বলে আশা করছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। গুরুত্বপূর্ণ এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে বৃদ্ধি পাবে নদীর নাব্য, নিরাপদ হবে জাহাজ চলাচল।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের হাইড্রোগ্রাফি বিভাগ সূত্রে জানানো হয়, প্রকল্প অনুযায়ী সদরঘাট থেকে বাকলিয়ার চর পর্যন্ত ক্যাপিটাল ড্রেজিংয়ের কাজ চলছে। উত্তোলন করা হবে ৪২ লাখ ঘনফুট মাটি। প্রকল্পের আওতায় নদী খননের পাশাপাশি রয়েছে তীর সংরক্ষণ ও নতুন জেটি নির্মাণ। গত অক্টোবর থেকে বাংলাদেশ নৌবাহিনী কর্ণফুলীতে ক্যাপিটাল ড্রেজিং শুরু করেছে। কাজের গতি বৃদ্ধির লক্ষ্যে এ মাসেই চীন থেকে আসছে বড় ড্রেজার।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ চীফ হাইড্রোগ্রাফার ও ক্যাপিটাল ড্রেজিং প্রকল্পের পরিচালক কমান্ডার আরিফুর রহমান সোমবার জনকণ্ঠকে জানান, ড্রেজিং কাজ পুরোদমে এগিয়ে চলছে। এর গতি আরও বেড়ে যাবে চীন থেকে নতুন একটি বড় ড্রেজার এলে। অনেক এক্সেসরিজ ইতোমধ্যেই পৌঁছেছে। গত ৩ ফেব্রুয়ারি ৩১ ইঞ্চি সাইজের ড্রেজারটি চীন হতে রওনা হয়েছে, যা ফেব্রুয়ারির ২৫ থেকে ২৭ তারিখের মধ্যে এসে পৌঁছবে। খনন কাজে বৃহৎ এই ড্রেজার যুক্ত হলে কাজের গতি আরও বেড়ে যাবে। চলতি বছর জুনের মধ্যেই মূল খনন কাজ অর্থাৎ ৪২ লাখ ঘনমিটার মাটি উত্তোলন করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা ব্যক্ত করেন।

ক্যাপিটাল ড্রেজিং প্রকল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এই সময়ের মধ্যে ৪০ শতাংশ কাজ শেষ করার আশা করা হয়েছিল। কিন্তু বিদেশ থেকে অত্যাধুনিক ড্রেজার আনার বিষয়টি পিছিয়ে যাওয়ায় তা হয়নি। যেহেতু এ খননযন্ত্র যুক্ত হওয়ার ক্ষেত্রে এখন আর কোন অনিশ্চয়তা নেই সেহেতু কাজও শেষ হবে দ্রুতগতিতে। ড্রেজিং শেষ হওয়ার পর প্রকল্পের আওতায় আর তিন বছর চলবে নদীর রক্ষণাবেক্ষণ কাজ। এই সময়ের মধ্যে নতুন করে পলি এসে যেন ভরাট না হয়, তা দেখার দায়িত্বটিও প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীর গুরুত্ব দেশের অর্থনীতিতে সর্বাধিক। কেননা, এই নদীতেই রয়েছে দেশের প্রধান বন্দর, যার মধ্যে দিয়ে মোট আমদানি-রফতানি বাণিজ্যের অন্তত ৯০ শতাংশ পরিচালিত হয়ে থাকে। দেশের আমদানি-রফতানি বৃদ্ধির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বন্দরের সক্ষমতা বাড়াতে নতুন নতুন টার্মিনাল নির্মাণের মাধ্যমে এর সম্প্রসারণের পাশাপাশি বিদ্যমান সুযোগ-সুবিধার উন্নয়নে জোর দিয়েছে সরকার। কেননা, দেশের শিল্প, ব্যবসা-বাণিজ্য ও নতুন শিল্পায়নের বিষয়টি বিশেষভাবে বিবেচনায় রাখতে হচ্ছে।

চট্টগ্রাম বন্দর সূত্রে জানা যায়, সর্বপ্রথম ক্যাপিটাল ড্রেজিং হয়েছিল ৮০’র দশকে। নেদারল্যান্ডসের একটি কোম্পানি সে কাজ সম্পন্ন করে। এর প্রায় ১০ বছর পর ১৯৯০ সালে দ্বিতীয়বার ড্রেজিং হয়। এ প্রকল্পের কাজ করেছিল চায়না হারবাল কোম্পানি। তারপর দীর্ঘ সময় কর্ণফুলীতে ক্যাপিটাল ড্রেজিং হয়নি। পাহাড় থেকে আসা পলিতে সদরঘাট থেকে বাকলিয়ায় ছোট ছোট চরের মতো সৃষ্টি হয়। জাহাজ চলাচলে প্রয়োজনীয় নাব্য রক্ষায় বন্দর কর্তৃপক্ষ কয়েক দফায় ক্যাপিটাল ড্রেজিংয়ের উদ্যোগ নিলেও তা থমকে যায় নানা সমস্যায়।