২০ জুলাই ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

সুন্দরবনের নদীগুলোয় জেগে উঠছে চর, আটকা পড়ছে নৌযান

সুন্দরবনের নদীগুলোয় জেগে উঠছে চর, আটকা পড়ছে নৌযান
  • পর্যটন মার খাচ্ছে ॥ বঙ্গবন্ধু আইল্যান্ড হবে ইকোপার্ক

মিজানুর রহমান, সুন্দরবন থেকে ফিরে ॥ মাঝ নদীতে হঠাৎ জাহাজ বন্ধ। খুলনা থেকে প্রায় ১০ ঘণ্টা নদী ও সমুদ্র পথ পাড়ি দিয়ে সুন্দরবনের মধ্যে অবস্থিত পর্যটন কেন্দ্র হিরণ পয়েন্ট দেখতে আসা পর্যটকদের মুখ বিষণ্ণ । পলি ভরাটের কারণে বড় লঞ্চ আর জাহাজ থেকে নেমে মহিলা ও শিশুদের নিয়ে এখন যাত্রীদের প্রায় ১ থেকে ২ কিলোমিটার যেতে হবে ছোট নৌকা বা ট্রলারে করে পর্যটন কেন্দ্রে। এ অবস্থা গোটা সুন্দরবনের বিভিন্ন পয়েন্টে গড়ে উঠা পর্যটন কেন্দ্র সংলগ্ন নদীগুলোর ।

সুন্দরবনের গভীর সমুদ্র পেরিয়ে হিরণ পয়েন্টের কাছে নীলকমল আর হংসরাজ নদীর মোহনায় পলি ভরাটের পরিমাণ বেশি। জোয়ারের সময় কিছুটা ছোট ট্রলার চললেও ভাটিতে এই ট্রলারগুলো আটকে যায় পলিতে। পাশেই জেগে উঠেছে বড় বড় চর। মংলা বন্দরের নিয়ন্ত্রাণাধীন এই মোহনায় নৌ-চলাচল স্বাভাবিক রাখতে ড্রেজিংয়ের কাজ চললেও ছোট ছোট ট্রলারে পর্যটন কেন্দ্রে যাওয়ার ঝুঁকিতে সুন্দরবনের বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্রে পর্যটকদের সংখ্যা আগের তুলনায় কমছে বলে জানান এই রুটে চলাচলকারী বিভিন্ন নৌ-যানের মালিক ও সংশ্লিষ্ট গাইডরা। অন্যদিকে পর্যটকদের আকর্ষণ বাড়াতে হিরণ পয়েন্ট থেকে ৬ কিলোমিটার উত্তরে জেগে ওঠা বঙ্গবন্ধু আইল্যান্ড কে নতুন ইকোপার্ক হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে সরকারের পক্ষ থেকে।

সুন্দরবনে পর্যটন শিল্প থেকে বনবিভাগ ও মংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ টাকা রাজস্ব পেয়ে থাকে। আর প্রতি শীত মৌসুমে নবেম্বর থেকে শুরু করে মধ্য ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলে এই পর্যটন ব্যবসা। নদী পথে সুন্দরবন ভ্রমনের জন্য এখন সরকারকে মাথা প্রতি ৫ শ’ ৭৬ টাকা রাজস্ব দিয়ে অনুমতি নিতে হয়। এত টাকা রাজস্ব দিয়ে সুন্দরবন দেখতে যেয়ে নানা সমস্যার কারণে পর্যটকরা উৎসাহ হারিয়ে ফেলছেন বলে অভিযোগ ভুক্তভোগী বিভিন্ন পর্যটকদের।

সুন্দরবনের সবচেয়ে বড় পর্যটন কেন্দ্র হিরণ পয়েন্টে পর্যটকরা আসেন হরিণ আর সুন্দরবনের সবুজের সমারোহ দেখতে। এখানে রয়েছে ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইডের লোগো সম্বলিত ফলক। মাঝে মধ্যে বাঘ দেখার আশাও করেন পর্যটকরা। তবে বেশিরভাগ সময় বাঘের পরিবর্তে বাঘের পায়ের ছাপ দেখতে হয় পর্যটকদের। মংলা বন্দরের নিয়ন্ত্রাণাধীন এই পর্যটন কেন্দ্রে নামার জন্য ব্যবহৃত জেটিগুলোর ভগ্ন দশা। ঝুঁকি নিয়ে ওঠা নামা করতে হয়। এখানে বিদেশী পর্যটকদের থাকার জন্য কোন ভাল ব্যবস্থা নেই। কোস্টগার্ড, নৌবাহিনী আর বন্দর কর্র্র্তৃপক্ষের সদস্যদের আবাসন ব্যবস্থা রয়েছে এখানে। হিরণ পয়েন্টের এই বনে গাইড আর অস্ত্রধারী বনরক্ষীদের প্রহরায় নির্দিষ্ট ট্রেইল ধরে ঢুকতে হয় সুন্দরবনে।

সুন্দরবনের নদী ভরাট বিষয়ে মংলা বন্দরের হারবার মাস্টার কমান্ডার দুরুল হুদা জনকণ্ঠকে বলেন, হিরণপয়েন্ট গামী জাহাজ , লঞ্চসহ বিভিন্ন নৌ-যানের চলাচল স্বাভাবিক রাখতে নীলকমল নদীর মুখ থেকে হংসরাজ নদীর মোহনায় বন্দর কর্র্তৃপক্ষ ড্রেজিং চালু করেছে। এই নৌরুট স্বাভাবিক চলাচল উপযোগী রাখতে যতদিন প্রয়োজন ততদিন চলবে এই ড্রেজিং এমটি জানিয়ে হারবার মাস্টার বলেন, হিরণ পয়েন্ট থেকে প্রায় ৬ কিলোমিটার উত্তরে জেগে ওঠা বিশাল আকৃতির বঙ্গবন্ধু আইল্যান্ডকে আকর্ষণীয় ইকোপার্ক হিসেবে নির্মাণ করার একটি পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে দেয়া হয়েছে।

হিরণ পয়েন্টের মতো কটকা পর্যটন কেন্দ্রের জেটিটাও নড়বড়ে ও দুর্বল। ভেঙ্গে যাওয়া এই জেটি মেরামত হয়েছে নামমাত্র। জেটিতে বেশি পর্যটক উঠলে বেইলি ব্রিজের মতো এটি দুলতে থাকে। হিরণ পয়েন্টের পরে কটকা পর্যটনকেন্দ্রে সকাল সন্ধ্যা হরিণ দেখা যায়। শরণখোলা রেঞ্জের আওতায় এই পর্যটন কেন্দ্রে ও হাড়বাড়িয়া পর্যটন কেন্দ্রে শীত মৌসুমে প্রতিদিন প্রায় ৩ থেকে ৫ হাজার পর্যটকরা এসে থাকেন। বিশ্ব ঐতিহ্যের এই ম্যানগ্রোভ সুন্দবনের সৌর্ন্দয্য উপভোগ করার জন্য নদী পথ ছাড়া বিকল্প কোন পথ নেই। আর এ কারণে নৌ পথে যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে ভরাট নদীগুলো সচল রাখা জরুরী বলে মনে করেন সৌন্দর্য্য পিপাসুরা ।

নির্বাচিত সংবাদ