২৩ ফেব্রুয়ারী ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

মৌলবাদ দূর করতে প্রজন্মের পর প্রজন্ম লড়তে হবে

  • কবীর চৌধুরী স্মারক বক্তৃতায় শাহরিয়ার কবির

স্টাফ রিপোর্টার ॥ সাম্প্রদায়িকতা, দুর্নীতি ও মৌলবাদমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে হলে প্রয়োজন সঠিক শিক্ষা। শুধু অবকাঠামোকে প্রাধান্য দিয়ে আর পাশ্চাত্যের উদাহরণ হিসেবে নয় আদব কায়দা নৈতিকতা শেখাতে ও দুর্নীতিমুক্ত থাকার জন্য আমাদের হাজার বছরের সনাতনী পদ্ধতির শিক্ষা ব্যবস্থাকেও ঠিক রাখতে হবে। মাদ্রাসা ছাত্র বা বিশেষ কোন সম্প্রদায়কে বাদ দিয়ে কখনও অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষা ব্যবস্থা চালু করা যাবে না। তাহলে অসাম্প্রদায়িক ও মৌলবাদমুক্ত বাংলাদেশ গড়া সম্ভব হবে না। আধুনিকতার পাশাপাশি গুরু থেকেও শিক্ষাগ্রহণের নৈতিকতা শিখতে হবে। সোমবার রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি কর্তৃক অধ্যাপক কবীর চৌধুরীর জন্মবার্ষিকী পালন উপলক্ষে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী ডাঃ দীপু মনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে কবীর চৌধুরীর জীবন নিয়ে স্মারক বক্তব্য ও চলচ্চিত্র প্রদর্শিত অনুষ্ঠিত হয়।

সংগঠনটির পক্ষ থেকে বাংলা একাডেমিকে কবীর চৌধুরীর রচনা সমগ্র প্রকাশের জন্য ও রাজধানীর যে কোন একটি রাস্তাকে কবীর চৌধুরীর নামে নামকরণের জন্য সরকারের কাছে জোর দাবি জানানো হয়। শহীদজায়া শ্যামলী নাসরিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে ও মহীদকন্যা ডাঃ নুজহাতের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে কবীর চৌধুরীর মেয়ে শাহীন কবির চৌধুরী, ইতিহাসবিদ মুনতাসীর মামুন, নাট্যব্যক্তিত্ব রামেন্দু মজুমদার বক্তব্য রাখেন।

মন্ত্রী বলেন, আমরা স্বাধীনতার মাধ্যমে যে রকম দেশ চেয়েছিলাম এরকম দেশ গড়ার জন্য আমৃত্যু কাজ করেছেন অধ্যাপক কবীর চৌধুরী। তিনি ছিলেন জ্ঞানের বাতিঘর। অসাম্প্রদায়িক ও মৌলবাদমুক্ত বাংলাদেশ গড়াই ছিল তার প্রধান কাজ। যার জন্য দিনরাত নিজে ও অন্যদেরও উৎসাহিত করেছেন। শিক্ষা ব্যবস্থা সম্পর্কে তিনি বলেন, দেশে ১৫ লাখ মাদ্রাসা শিক্ষার্থীকে শিক্ষার মূলধারায় যুক্ত করতেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কওমি শিক্ষার্থীদের সনদের মান দিয়েছেন। মূলত মওদুদীবাদের মাধ্যমে ধর্মের অপব্যাখ্যা প্রদান করেই যুবকদের মাথা নষ্ট করে দিয়েছে। তাই সঠিক শিক্ষা প্রদান করতে ধর্মের সঠিক ব্যাখ্যাও যুবকদের জানাতে কাজ করতে হবে। পাকিস্তানকে যুদ্ধাপরাধের জন্য ক্ষমা চাইতে হবে শুধু তাই নয় একইসঙ্গে যুদ্ধের ক্ষতিপূরণও আদায় করতে হবে। এছাড়া ২৫ মার্চের রাতটিকে বিংশ শতাব্দীর অন্যতম গণহত্যার রাত হিসেবে বিশ্ববাসীর কাছে স্বীকৃতি আদায় করতে হবে।

অনুষ্ঠানে কবীর চৌধুরীর স্মারক বক্তব্যে লেখক ও সাংবাদিক শাহরিয়ার কবির বলেন, মৌলবাদ দূর করতে প্রজন্মের পর প্রজন্ম লড়তে হবে। যা করে গেছেন কবীর চৌধুরী। তিনি মৌলবাদ ও সাম্প্রদায়িকতা দূর করার লড়াই চালিয়ে যাওয়ার কারণেই আজ যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করা হয়েছে। এ লড়াইয়ের মাধ্যমে তিনি পরবর্তী প্রজন্মকেও উৎসাহিত করে গেছেন। আমরা শুধু বাংলাদেশের যুদ্ধাপরাধীদের বিচার নয় পাকিস্তানী গণহত্যাকারীদের বিচারও দেখে যেতে চাই। তিনি মাদ্রাসা শিক্ষাকে মূল ধারায় এনে ও সরকারের হস্তক্ষেপ থাকার আহ্বান জানান।