২০ এপ্রিল ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

শ্রীপুরে সন্তান হত্যার অভিযোগে বাবা গ্রেফতার

  • স্ত্রীর পরকীয়ার জের

স্টাফ রিপোর্টার, গাজীপুর ॥ শ্রীপুরে স্ত্রীর পরকীয়ার জেরে ৫ বছরের শিশুকন্যাকে গলাটিপে হত্যার পর লাশ খাটের নিচে পাতিলে লুকিয়ে রাখার ঘটনায় নিহতের বাবাকে সোমবার গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এদিকে সন্তান হত্যার অভিযোগে স্বামীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে নিহতের মা নাসরিন আক্তার। গ্রেফতারকৃতের নাম রফিকুল ইসলাম। সে গাজীপুরের কাপাসিয়া থানার চাপাত এলাকার মাঈন উদ্দিনের ছেলে।

শ্রীপুর থানার ওসি জাবেদুল ইসলাম জানান, ঘাতক বাবাকে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের জয়দেবপুর রেলগেট এলাকা হতে গ্রেফতার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত রফিকুল পারিবারিক কলহের জেরে রবিবার বিকেলে রুমাল দিয়ে ঘুমন্ত কন্যার মুখ চেপে ধরে শ্বাসরোধে হত্যা করে লাশ পাতিলে লুকিয়ে রাখার কথা স্বীকার করেছে। একাধিক পরকীয়ায় আসক্ত স্ত্রীর কাছ থেকে আলাদা হতে প্রতিবন্ধকতা দূর করতে সে এ ঘটনা ঘটিয়েছে বলে জানিয়েছে। রফিকুল ও নাসরিন নিহত মনিরাকে নিয়ে শ্রীপুরের কেওয়া পশ্চিমখ- (মাস্টারবাড়ী) এলাকার ইয়াছিন হাজীর বাড়ির ভাড়া বাসায় থাকত। ডেনিমেক পোশাক কারখানার কর্মী নাসরিন আক্তার ও রফিকুল ইসলামের একমাত্র সন্তান মনিরা স্থানীয় হাজী মোহাম্মদ আলী প্রি-ক্যাডেট স্কুলের প্লে শ্রেণীর ছাত্রী ছিল। পুলিশের ওই কর্মকর্তা জানান, স্ত্রীর একাধিক পরকীয়ায় ক্ষুব্ধ হলেও সন্তানের টানে সংসার ছেড়ে যেতে না পেরে পথের কাটা দূর করতে রফিকুল তার সন্তানকে শ্বাসরোধে হত্যা করেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

এ ব্যাপারে শ্রীপুর থানার এসআই মাহমুদুল হাসান ও স্থানীয়রা জানান, ২০১২ সালে গাজীপুরের শ্রীপুর থানার গোসিঙ্গার গোলাপ হোসেনের মেয়ে নাসরিন আক্তারের সঙ্গে পারিবারিকভাবে কাপাসিয়া থানার চাপাত এলাকার মাঈন উদ্দিনের ছেলে রফিকুল ইসলামের বিয়ে হয়। এটি নাসরিনের তৃতীয় বিয়ে। বিয়ের পর এ দম্পতি গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের সালনা এলাকায় ভাড়া বাসায় থেকে স্থানীয় পোশাক কারখানায় চাকরি নেয়। তাদের সংসারে এক কন্যাসন্তানের (মনিরা খাতুন) জন্ম হয়। পরবর্তীতে নাসরিন পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়লে স্বামী-স্ত্রীর মাঝে বিরোধ দেখা দেয়। বিরোধের এক পর্যায়ে ২০১৭ সালের জানুয়ারিতে নাসরিন তার স্বামীকে ডিভোর্স দিয়ে প্রেমিকের হাত ধরে বাড়ি ছাড়ে। এদিকে স্ত্রী-সন্তানের টানে রফিকুল প্রায় ৬মাস আগে স্ত্রীর কাছে ফিরে এসে পুনঃরায় একসঙ্গে সংসার শুরু করে। তারা দুই মাস আগে (গত ১ ডিসেম্বর) শ্রীপুরের ডেনিমেক পোশাক কারখানায় চাকরি নিয়ে স্থানীয় কেওয়া পশ্চিমখ-ের (মাস্টারবাড়ী) ইয়াছিন হাজির বাড়িতে ভাড়ায় বসবাস করতে থাকে। কিন্তু বাসা বদলের পর তার স্ত্রী আবারও পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়ে। স্ত্রীকে বাধা দিয়েও ফেরাতে পারেনি রফিকুল। এ নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর ঝগড়াবিবাদ চলে আসছিল। এরই মাঝে নাসরিন তার মায়ের জমি বিক্রির ৯৩ হাজার টাকা পায়। এ টাকা নিয়ে শনিবার রাতে তাদের মাঝে ঝগড়া ও হাতাহাতি হয়। পরদিন রবিবার সকালে স্ত্রী কারখানায় চলে গেলেও অসুস্থতার কথা বলে রফিকুল কারখানার কাজে যায়নি। মধ্যাহ্ন বিরতিতে দুপুরে বাসায় নাসরিন তার শিশুকন্যা ও স্বামীর সঙ্গে একত্রে খাওয়াদাওয়া করে আবার কারখানায় চলে যায়। দুপুরে রফিকুল তার মেয়েকে নিয়ে ঘরে ঘুমিয়ে পড়ে। বিকেলে ঘুম থেকে উঠে রফিকুল রুমাল দিয়ে তার ঘুমন্ত মেয়ের মুখ চেপে ধরে শ্বাসরোধে হত্যা করে লাশ খাটের নিচে পাতিলে লুকিয়ে রেখে পালিয়ে যায়।

এদিকে বিকেল ৫টায় কারখানা ছুটির পর নাসরিন বাসায় ফিরে মেয়েকে না দেখে বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করতে থাকে। কোথাও না পেয়ে নাসরিন আক্তার বিষয়টি পুলিশকে জানায়। খবর পেয়ে শ্রীপুর পুলিশ ওই বাড়িতে গিয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করে। একপর্যায়ে রাত ৯টার দিকে নাসরিনের ঘরের ভেতর খাটের নিচে লুকিয়ে রাখা এ্যালুমিনিয়ামের পাতিলের ভেতর থেকে শিশুর লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে পুলিশ।