১২ ফেব্রুয়ারী ২০১৯

বরিশালে ধর্ষণের মামলা প্রত্যাহার না করায় অপহরণের পর হত্যা

বরিশালে ধর্ষণের মামলা প্রত্যাহার না করায় অপহরণের পর হত্যা

স্টাফ রিপোর্টার, বরিশাল ॥ ধর্ষণের মামলা প্রত্যাহার করতে অস্বীকার করায় ধর্ষিতাকে অপহরণের পর হত্যার অভিযোগে ৩০ জনকে অভিযুক্ত করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। নিহতের পিতা জেলার মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার চরপশ্চিম জাঙ্গালিয়া গ্রামের বাসিন্দা মানিক গাজী বাদি হয়ে বরিশাল নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলাটি দায়ের করেছেন।

আজ মঙ্গলবার দুপুরে মামলার বাদি সাংবাদিকদের জানান, আদালতের বিচারক আবু শামীম আজাদ মামলাটি সংশ্লিষ্ট থানার ওসিকে এজাহার হিসেবে গ্রহনের নির্দেশ দিয়েছেন। মামলায় অন্যতম আসামিরা হচ্ছে-চরপশ্চিম জাঙ্গালিয়া গ্রামের বাসিন্দা ফয়সাল আকন, মকবুল বেপারী, হেলাল গাজী, সোহরাব হাওলাদার, বাহাদুর হাওলাদার, লেঙ্গুটিয়া গ্রামের মাইন উদ্দিন মাঝি, কালাম মাঝি, মিজানুর রহমান, ফয়সাল হাওলাদার, আসাদ হাওলাদার, ইব্রাহীম মাঝি, রিয়াদ হোসেন, রফিক, রাসেদ ও হানিফ মাঝিসহ আরো অজ্ঞাতনামা ১৫ জন।

মামলা সূত্র জানা গেছে, বাদির যুবতী কন্যাকে বিয়ের প্রলোভনে একাধিকবার ধর্ষন করে একই এলাকার বাসিন্দা ফয়সাল আকন। এতে ভিকটিম অন্তঃস্বত্তা হয়ে পরলে বিয়ের জন্য চাঁপ প্রয়োগ করায় ২০১৭ সালের ২০ ডিসেম্বর বরিশালে এনে গর্ভপাত ঘটানো হয়। পরে বিয়েতে অস্বীকার করায় গত বছর ভিকটিম ধর্ষণ মামলা করেন। মামলা তুলে নিতে বিভিন্ন সময় ভিকটিমসহ তার পরিবারকে হত্যার হুমকি দেয় মামলার আসামিরা। ফলে ভিকটিম এক্সিকিউটিভ ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করলে অভিযুক্তরা আরও ক্ষিপ্ত হয়। এরজের ধরে চলতি মাসের গত ৬ ফেব্রুয়ারী ভিকটিম রাতে প্রকৃতির ডাকে সারাদিতে বের হলে অভিযুক্তরা তাকে অপহরণের পর হত্যা করে। পরে মরদেহ গোপন করার উদ্দেশে জাঙ্গালিয়া সুপারী বাগানে ফেলে রাখে। এ ঘটনায় মামলার বাদি সোমবার শেষ কার্যদিবসে আদালতে মামলা দায়ের করার পর বিচারক উল্লেখিত আদেশ প্রদান করেন।