২৩ ফেব্রুয়ারী ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

কৃষকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত সেচ মূল্য আদায়ের অভিযোগ

কৃষকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত সেচ মূল্য আদায়ের অভিযোগ

নিজস্ব সংবাদদাতা, গাইবান্ধা ॥ চলতি মওসুমে বোরো চাষে গাইবান্ধায় কৃষকদের কাছ থেকে পানি সরবরাহের অতিরিক্ত মূল্য আদায় করার অভিযোগ উঠেছে। ফলে মওসুমের শুরু থেকেই আর্থিক ক্ষতির সম্মুখিন হচ্ছেন কৃষকরা।

কৃষকদের অভিযোগ, বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ তাদের আওতাধীন গভীর নলকূপের সেচের মূল্য নির্ধারণ করেছে প্রতি ঘণ্টায় ১১০ টাকা। এছাড়া পুরো মওসুমে প্রতি বিঘা জমির সেচ মূল্য নির্ধারণ করা হয় ১ হাজার ২৫০ টাকা। কিন্তু বরেন্দ্র প্রকল্পের আওতাধীন গভীর নলকূপের মালিকরা তা মানছে না। তারা ঘন্টা ভিত্তিক সেচ দিতে রাজি নন। তারা বরেন্দ্র কর্তৃপক্ষের নির্ধারিত মূল্য সম্পর্কে কৃষকদের জানায় না। ওই তথ্য গোপন করে কৃষকদের কাছ থেকে প্রতিবিঘায় তারা ২ হাজার ৫শ টাকা পর্যন্ত আদায় করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে প্রতি বিঘায় বোরো চাষে কৃষকদেরকে সেচের জন্য অতিরিক্ত টাকা দিতে হচ্ছে। ফলে বিঘা প্রতি উৎপাদন খরচ বেড়ে যাচ্ছে।

বর্তমানে গাইবান্ধার সাত উপজেলায় বোরো ধান রোপনের কাজ প্রায় শেষ হয়ে আসছে। অথচ নানা কারণে উপজেলা সেচ কমিটির পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত পানির সেচ মূল্য নির্ধারণ করা হয়নি। এই সুযোগ বুঝে কৃষকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন গভীর ও অগভীর নলকূপের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা। সুযোগ বুঝে নলকূপের মালিকদের দেখাদেখি ডিজেল চালিত ব্যক্তি মালিকানাধীন নলকূপের পানির মূল্যও বাড়িয়ে দেয়া হয়েছে।

কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, গাইবান্ধা জেলায় চলতি মওসুমে ১ লাখ, ২৭ হাজার, ৭শ’ ৪০ হেক্টর জমিতে বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ইতিমধ্যে ১ লাখ ১২ হাজার ৯শ’ ৭৫ হেক্টর জমিতে বোরো চাষ অব্যাহত রয়েছে। সেখানেও প্রতি বিঘা জমির সেচের জন্য মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১ হাজার ৮শ টাকা থেকে ২ হাজার ৫শ টাকা পর্যন্ত।

এব্যাপারে বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের গাইবান্ধার নির্বাহী প্রকৌশলী এজাদুল ইসলাম জানান, এধরণের অভিযোগ আমি শুনেছি। বিষয়টি আমলে নিয়ে আমরা তদন্ত কাজ শুরু করেছি। তাদের আওতাধীন নলকুপ মালিকদের বেশি মূল্য নেয়ার অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।