২০ ফেব্রুয়ারী ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

পুরনো সার্কিট হাউস মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি জাদুঘর করার দাবি

  • চট্টগ্রামে মানববন্ধনে বক্তারা

স্টাফ রিপোর্টার, চট্টগ্রাম অফিস ॥ সেই ব্রিটিশ আমলে নান্দনিক শৈলীতে নির্মিত চট্টগ্রামের পুরনো সার্কিট হাউস। চট্টগ্রামে কালের সাক্ষী হয়ে থাকা অন্যতম একটি স্থাপনা। মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত দৃষ্টিনন্দন পুরাতন এই স্থাপনা। ১৯৮১ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এই ভবনে নিহত হন। ’৯১ সালে বিএনপি সরকার গঠন করার পর ’৯৩ সালে এ ভবনের নামকরণ করা হয় জিয়া স্মৃতি জাদুঘর। চট্টগ্রামের মানুষ এ সিদ্ধান্তকে ওই সময় থেকে সহজভাবে মেনে নিতে পারেনি। এরপরও ওই নামেই এটি রয়ে গেছে। নামে জাদুঘর হলেও বাস্তবিক অর্থে এটি নিয়ে দর্শনার্থীদের তেমন কোন আকর্ষণও নেই। মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিকে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধারণ করতে এখানে ‘মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি জাদুঘর’ নির্মাণের প্রস্তাব উঠেছে মন্ত্রিসভার সদস্যদের পক্ষ থেকে। এই প্রস্তাবে নীতিগত সমর্থন এসেছে প্রধানমন্ত্রীসহ মন্ত্রিসভার প্রায় সকল সদস্যের। জিয়া স্মৃতি জাদুঘরের নাম পরিবর্তন করে সেখানে মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি জাদুঘর প্রতিষ্ঠার পক্ষে গঠিত হচ্ছে জনমত। শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী গত সোমবার অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে জিয়া স্মৃতি জাদুঘরের নাম পরিবর্তনের প্রস্তাব করেন। এ প্রস্তাবের পক্ষে নীতিগতভাবে সমর্থন দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদসহ মন্ত্রী পরিষদের সকল সদস্য। বিষয়টি সর্বমহলে আলোচিত হওয়ার পর চট্টগ্রামে জনমত গড়ে উঠছে। মঙ্গলবার সার্কিট হাউসের সামনে একটি মানববন্ধনও অনুষ্ঠিত হয়। কর্মসূচী শেষে জিয়া স্মৃতি জাদুঘরের নামফলক কালি দিয়ে মুছে দেয়া হয়। এ প্রসঙ্গে যোগাযোগ করা হলে ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ মঙ্গলবার বিকেলে জানান, সোমবারের মন্ত্রিসভায় বিষয়টি আলোচিত হয়েছে। মন্ত্রিসভার অনেক সদস্য এ বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেছেন। তিনি জানান, অতীতের এ সার্কিট হাউস ও এর সম্মুখে চট্টগ্রাম শিশু পার্কটি নিয়ে বৃহৎ আকৃতির মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি বিজড়িত একটি জাদুঘর প্রতিষ্ঠার চিন্তা ভাবনা চলছে। শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী গণমাধ্যমকে জানান, ১৯৭১ সালে এ পুরাতন সার্কিট হাউস ছিল পাকিস্তানী বাহিনী ও তাদের দোসরদের টর্চার সেল। সেখানে মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের মানুষদের ধরে নিয়ে নির্যাতন করা হতো। ভবনটি মুক্তিযুদ্ধের অনেক স্মৃতি বহন করছে। সেখানে মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি জাদুঘর হওয়া উচিত।

নাম পরিবর্তন দাবিতে মানববন্ধন ॥ এদিকে, পুরাতন এ সার্কিট হাউসের বর্তমান নাম পাল্টিয়ে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি জাদুঘর করার দাবিতে মঙ্গলবার ভবনের সামনে মানববন্ধন করেছে ‘মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের ছাত্র ফোরাম’ নামের একটি সংগঠন। মানববন্ধন শেষে অংশগ্রহণকারীদের পক্ষে কালি দিয়ে বর্তমান নামফলক মুছে দেয়া হয়। মানববন্ধনে অংশ নেন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের ছাত্র ফোরাম সভাপতি ও ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সদস্য আবদুর রহিম শামীমের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক ও নগর ছাত্রলীগের সহ সাধারণ সম্পাদক রাহুল দাশের পরিচালনায় এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

এই মাত্রা পাওয়া