১২ নভেম্বর ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

আন্ডারডগ হলেও জিততে চান কোচ রোডস

  • নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ক্রিকেটারদের কাছ থেকে ভাল খেলা প্রত্যাশা করছেন টাইগারদের কোচ

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ নিউজিল্যান্ডের মাটিতে স্বাগতিকদের বিপক্ষে এর আগে কখনই জিততে পারেনি বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। তাই এবারের সিরিজেও খুব বড় কিছু আশা করা যাচ্ছে না। আজ ৩ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচ নেপিয়ারে। সিরিজ শুরুর আগেই সফরে ‘আন্ডারডগ’ তকমা খুব ভালভাবে বাংলাদেশ দলের ওপর জেঁকে বসেছে। কিন্তু এতে বরং খুশিই বাংলাদেশের কোচ স্টিভ রোডস। কারণ অতীতে এই তকমা নিয়েই ক্রিকেট পরাশক্তিদের পরাস্ত করে চমকে দিয়েছে বাংলাদেশ দল। এবার বিশ্বকাপ সামনে রেখে নিউজিল্যান্ডে তাই আন্ডারডগ তকমা নিয়েই সিরিজ জেতার আপ্রাণ চেষ্টা করবে টাইগাররা এমন দাবিই করলেন রোডস। এছাড়া তার মূল উদ্দেশ্য বিশ্বকাপ দল গঠনের জন্য এ সিরিজেই সেরা পারফর্মারদের খুঁজে বের করা। তিনি আশা প্রকাশ করেছেন নির্বাচকরাও বিশ্বকাপ দলে ঠাঁই করে নেয়ার জন্য নিজেদের প্রতি লক্ষ্য রাখবে। আর খেলোয়াড়রা প্রমাণ দেবে ভাল ক্রিকেট খেলতে তারাও জানে।

আজই শুরু বাংলাদেশ দলের নিউজিল্যান্ড চ্যালেঞ্জ। এর আগে তিন ফরমেট মিলিয়ে নিউজিল্যান্ডের মাটিতে কিউইদের বিপক্ষে ২১ ম্যাচ খেলেও জিততে পারেনি বাংলাদেশ। ভাল স্মৃতির মধ্যে আছে শুধু ২০১৫ ওয়ানডে বিশ্বকাপে হ্যামিল্টনে হওয়া ম্যাচে শ্বাসরুদ্ধকর লড়াইয়ের পর মাত্র ৩ উইকেটে হেরে যাওয়া। তবু জয়টা আসেনি, তাই এই পুরো সফরেই সফরকারী বাংলাদেশ দলকে ‘আন্ডারডগ’ তকমা দেয়া হয়ে গেছে। এ বিষয়ে কোচ রোডস বললেন, ‘আমরা জানি নিউজিল্যান্ডের মাটিতে প্রথম জয় তুলে নেয়া অনেক কঠিন, তাই বাস্তবতাটা আমরা স্বীকার করি। আন্ডারডগ তকমাটা আমার পছন্দ হয়েছে। আন্ডারডগ হিসেবে আমরা অনেক সময় অনেক বড় দলকে অবাক করে দিয়েছি। আমি মনে করি নিউজিল্যান্ডও জানে বাংলাদেশকে হারাতে হলে তাদের খুব ভাল ক্রিকেটই খেলতে হবে।’ এবারও তেমন কোন চমকই দিতে চান রোডস। বিশেষ করে নিউজিল্যান্ড সফরকে আসন্ন বিশ্বকাপের প্রস্তুতি হিসেবে নিয়েছে বাংলাদেশ দল। সে কারণে রোডসের আশা দলের প্রতিটি খেলোয়াড় নিজেদের উজাড় করে দিয়ে খেলে বিশ্বকাপ দলে নিজেদের নাম রাখার আস্থা অর্জন করবেন। সে জন্য সিরিজ জিততেও প্রাণপণ চেষ্টা থাকবে দলের। এ বিষয়ে রোডস বলেন, ‘এখন যে কোন আন্তর্জাতিক সিরিজ খেলাটাই হবে মূলত বিশ্বকাপের বিষয়টি মাথায় রেখে। বিশ্বকাপের জন্য এখান থেকে আমরা খেলোয়াড়দের সামর্থ্য সম্পর্কে জানতে পারব। আমার মনে হয় এটি খুব ভাল ব্যাপার। সে কারণে আমরা সবাই চেষ্টা করব সিরিজ জেতার। কিন্তু আমি এটাও চাইব যে আমাদের কিছু ব্যাটসম্যান ও বোলার খুঁজে বের করতে। আমি নিশ্চিত নির্বাচকরাও কিছু খেলোয়াড়ের দিকে কড়া নজর রাখবেন বিশ্বকাপ দলে তাদের নেয়ার ব্যাপারে।’

নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে দেয়ার যে স্বপ্ন এবার দেখছে বাংলাদেশ দল সেটি একেবারে অমূলক নয়। কারণ সর্বশেষ দুইবার বিদেশে দু’দলের মুখোমুখি লড়াইয়ে জিতেছিল টাইগাররা। ২০১৭ সালের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে এবং এর আগে আয়ারল্যান্ডে অনুষ্ঠিত ত্রিদেশীয় সিরিজে কিউইদের হারিয়েছিল মাশরাফির দল। এবার কিউই মাটিতেও সেটা অসম্ভব হতে পারে না। এ বিষয়ে রোডস বলেন, ‘অনেকেই (বাংলাদেশ দলের) সেই স্মৃতিটা এখানে বয়ে এনেছেন। আমি নিশ্চিত নিউজিল্যান্ডেরও অনেকের সেটা মনে আছে। এটা হয়তো একটা অনুপ্রেরণা হতে পারে। কিন্তু এখন যে স্কোয়াড নিয়ে আমরা এসেছি তারা অনেক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন এবং বিশ্বকাপ মাথায় রেখে খেলবে। এটাই সামনে এগিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে ভাল ব্যাপার।’ নিউজিল্যান্ডের মাটিতে এবং সর্বোপরি বিদেশের মাটিতে বোলিং নৈপুণ্যে সেরা সাকিব আল হাসান না থাকায় একটা ঘাটতি তৈরি হয়েছে। এছাড়া দারুণ ফর্মে থাকা পেসার তাসকিন আহমেদও দলে ফিরে আসলেও ইনজুরিতে ছিটকে গেছেন। তবে সেসব নিয়ে আর ভাবছেন না রোডস। কারণ এখনও যে কোন পর্যায়ে বল হাতে ভয়ঙ্কর মুস্তাফিজুর রহমানসহ অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা, অভিজ্ঞ শফিউল ইসলাম ও তরুণ উদীয়মান মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন আছেন দলে। এ বিষয়ে রোডস বলেন, ‘আমার মনে হয় যে কোন সাদাবলের ক্রিকেটে এই ধরনের একটি ছেলেকে (মুস্তাফিজ) সবাই দলে চাইবে। আমার মনে হয় এই মুহূর্তে ওয়ানডে র‌্যাঙ্কিংয়ে সে সেরা পাঁচে আছে। অবশ্যই ফিজ খুব ভাল পারফর্মার এবং যখন চাপ অনেক বেশি হয় সে আরও ভাল করে। তাসকিন-সাকিব না থাকায় ওয়ানডে সিরিজটি আমাদের জন্য কঠিন হয়ে গেছে। বিপিএল খুব কঠিন একটা টুর্নামেন্ট। অনেক ইতিবাচক ব্যাপার আছে এই টুর্নামেন্ট থেকে। তবে টুর্নামেন্টটা খেলোয়াড়দের শরীরের ওপর যথেষ্ট প্রভাব রেখে গেছে। এটির কারণে নিউজিল্যান্ড সফরের প্রস্তুতিটাও খুব আদর্শ প্রস্তুতি হয়নি। আমি এখন কেবল এটাই বিশ্বাস করি নির্দিষ্ট দিনে আমার খেলোয়াড়রা প্রমাণ দেবে যে ভাল ক্রিকেট তারাও খেলতে জানে।’