২১ এপ্রিল ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

জীবনের গোলে জয় পেল ঢাকা আবাহনী

রুমেল খান ॥ পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষস্থান নিয়ে ভালই লড়াই জমেছে ঢাকা আবাহনী লিমিটেড এবং বসুন্ধরা কিংসের মধ্যে। একবার বসুন্ধরা এগিয়ে যায় তো আরেকবার আবাহনী। এই যেমন মঙ্গলবার আবারও পয়েন্ট টেবিলের অবস্থান বদলে দিল ‘দ্য স্কাই ব্লু ব্রিগেড’ খ্যাত আবাহনী। ময়মনসিংহের রফিকউদ্দিন ভুঁইয়া স্টেডিয়ামে এ্যাওয়ে ম্যাচে ১৭ বারের ও বর্তমান লীগ শিরোপাধারী আবাহনী কুড়িয়ে নিয়েছে ঘাম ঝরানো জয়। ২-১ গোলে তারা হারিয়েছে ‘রাইজিং স্ট্রেংথ’ খ্যাত আরামবাগ ক্রীড়া সংঘকে। আবাহনীর কৃতিত্ব হচ্ছেÑ ম্যাচে তারা আগে গোল হজম করেও জয়ী হয়েছে।

আবাহনীর জয়ের নায়ক ছিলেন তাদের ফরোয়ার্ড নাবিব নেওয়াজ জীবন। তিনি করেন জোড়া গোল। মূলত জীবনের জোড়া গোলের সুবাদেই যেন ‘জীবন’ ... অর্থাৎ পূর্ণ তিন পয়েন্ট নিজেদের একাউন্টে জমা করে ১৯৭২ সালে প্রতিষ্ঠিত ধানম-ির দলটি। শুধু তাই নয়, এই দুই গোলের সুবাদে জীবন ধরে ফেললেন বাল্লো ফামৌসাকে। মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আইভরি কোস্টের এই ফরোয়ার্ডের মতো তারও গোলসংখ্যা ৫টি যা চলতি লীগে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ। ফামৌসার মতো জীবনও এই লীগে একটি হ্যাটট্রিক করেছেন (আরেকটি হ্যাটট্রিক করেছেন আরামবাগের রাইট উইঙ্গার জাহিদ হোসেন)।

নিজেদের ষষ্ঠ ম্যাচে এটা আবাহনীর পঞ্চম জয়। ১৫ পয়েন্ট তাদের। দ্বিতীয় থেকে প্রথম স্থানে উঠে আসলো তারা। দুই নম্বরে থাকা বসুন্ধরার পয়েন্ট ১২। তারা অবশ্য খেলেছে ৪ ম্যাচ। পক্ষান্তরে ৬ খেলায় এটা আরামবাগের তৃতীয় হার। পয়েন্ট ৯। পয়েন্ট টেবিলে অবস্থান ষষ্ঠ।

উভয়দলই খেলা শুরু করে ৪-৩-৩ ফর্মেশনে। যদিও ম্যাচের ১৪ মিনিটে লিড নেয় আরামবাগই। চিনেদু ম্যাথিউয়র পাসে বল জালে পাঠিয়ে আরামবাগকে এগিয়ে দেন আরিফুর রহমান (১-০)। কিন্তু ৩২ মিনিটে জীবনের গোলে ম্যাচে সমতায় ফেরে আবাহনী (১-১)। এর মাত্র ৬ মিনিট পরই আবারও আরামবাগের জাল কাঁপান এই ফরোয়ার্ড (২-১)। বাকি সময়টায় আপ্রাণ চেষ্টাতেও আর সমতায় ফিরতে পারেনি মারুফুল হকের শিষ্যরা।

* ব্রাদার্সকে হারালো শেখ জামাল ধানম-ি ॥ অন্যদিকে ঢাকার বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে লীগের রানার্সআপ এবং তিনবারের লীগ চ্যাম্পিয়ন ‘বেঙ্গল ইয়োলোস’ খ্যাত শেখ জামাল ধানম-ি ক্লাব লিমিটেডের মুখোমুখি হয় গোপীবাগের দল এবং ‘দ্য অরেঞ্জ ব্রিগেড’ খ্যাত ব্রাদার্স ইউনিয়ন লিমিটেড। ১-০ গোলে জয় পায় জামাল।

ম্যাচ শুরুর ২ মিনিটেই লিড নেয় শেখ জামাল। আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড লুসিয়ানো ইমানুয়েলথের পাসে বল পেয়ে জালে প্লেস করেন ফরোয়ার্ড সাখাওয়াত হোসেন রনি (১-০)। চলতি লীগে এটাই রনির প্রথম গোল। অনেকদিন ধরেই অফফর্মে ছিলেন জাতীয় দলে খেলা এই ফরোয়ার্ড। মঙ্গলবার গোল করে সেই বাজে ফর্ম কাটিয়ে অবশেষে গোলের খাতা খুললেন তিনি। মঙ্গলবারটা তারজন্য যেন ছিল ‘মঙ্গলময়’।

৩৪ মিনিটে জামালের অধিনায়ক ও গাম্বিয়ান ফরোয়ার্ড সলোমন কিং কানফর্মের কর্নার বক্সে জটলায় পেয়ে কোনাকুনি জোরালো হেড নেন কিরগিজ ফরোয়ার্ড ডেভিড ব্রুস। তার সেই হেডের বল ব্রাদার্স গোলরক্ষক বিপ্লব ভট্টাচার্য ঝাঁপিয়ে পড়ে পাঞ্চ করে কর্নারের বিনিময়ে রক্ষা করেন।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই ব্যবধানটা আরও বাড়াতে চেষ্টা করতে থাকে জোসেফ আফুসির শিষ্যরা। ৬৭ মিনিটে বাঁ প্রান্ত দিয়ে বল নিয়ে ঢুকে কোনাকুনি শট করেন জামাল অধিনায়ক সলোমন। কিন্তু বল ফিরিয়ে দেন ব্রাদার্সের এক ডিফেন্ডার। ম্যাচের শেষদিকে এসে জামাল শিবিরে বেশ চাপ সৃষ্টি করে সৈয়দ নাঈমউদ্দিনের শিষ্যরা। ৮২ মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে বাইসাইকেল কিক করেন ব্রাদার্সের ব্রাজিলিয়ান মিডফিল্ডার এভারটন সান্তোস। কিন্তু বল লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। ৮৫ মিনিটে ব্রাদার্স ডিফেন্ডার খান মোঃ তারার ইনডাইরেক্ট ফ্রি কিক ফিরিয়ে দেন জামালের ডিফেন্ডাররা।

ইনজুরি টাইমে বক্সের সামান্য দূরে বাঁ প্রান্তে ফ্রি কিক করেন মান্নাফ রাব্বি। কিন্তু ভাঙ্গতে পারেননি জামালের রক্ষণ দেয়াল। শেষ পর্যন্ত ১-০ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে শেখ জামাল। এই জয়ে ১০ পয়েন্ট নিয়ে দু’ধাপ উন্নতিতে পঞ্চম স্থানে উঠে আসলো শেখ জামাল। পক্ষান্তরে ৫ ম্যাচে এটা দু’বারের লীগ চ্যাম্পিয়ন ব্রাদার্সের চতুর্থ হার। এক জয়ে ৩ পয়েন্ট নিয়ে তারা আছে আগের মতোই নবম স্থানে।