২০ এপ্রিল ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

আমস্টারডামে আয়াক্স পরীক্ষায় রিয়াল মাদ্রিদ

  • উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লীগ, আজ রাতে শেষ ষোলোর হাইভোল্টেজ ম্যাচে লন্ডনে মুখোমুখি টটেনহ্যাম হটস্পার-বরুশিয়া ডর্টমুন্ড

জাহিদুল আলম জয় ॥ গত বছর ইতিহাস গড়ার পর চলতি মৌসুমে নিজেদের হারিয়ে খুঁজছে রিয়াল মাদ্রিদ। চ্যাম্পিয়ন্স লীগের ঐতিহাসিক হ্যাটট্রিক চ্যাম্পিয়নদের সময়টা মোটেও ভাল যাচ্ছে না। সান্টিয়াগো বার্নাব্যু ছেড়ে গেছেন কোচ জিনেদিন জিদান। শুধু তাই নয় দলছুট হয়েছেন সুপারস্টার ক্রিস্টিয়ানো রোনাল্ডো।

যে কারণে চলমান মৌসুমে সংগ্রাম করতে হচ্ছে ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নদের। তবে সাম্প্রতিক সময়ে ভালভাবেই ঘুরে দাঁড়িয়েছে সান্টিয়াগো সোলারির দল। স্প্যানিশ লা লিগায় উঠে এসেছে দ্বিতীয় স্থানে। এবার উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লীগে নকআউট রাউন্ডের মিশন শুরুর অপেক্ষায় বেল, বেনজেমা, রামোসরা। গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে দ্বিতীয় রাউন্ডে উঠে আসা রিয়াল মাদ্রিদ আজ রাতে শেষ ষোলোর প্রথম লেগের ম্যাচে মাঠে নামছে। গ্যালাক্টিকোদের আতিথ্য দিচ্ছে হল্যান্ডের ক্লাব আয়াক্স। আমস্টারডামের জোহান ক্রুইফ স্টেডিয়ামে ফেবারিট হিসেবেই মাঠে নামতে যাচ্ছে স্প্যানিশ পরাশক্তিরা। তবে স্বাগতিক আয়াক্সও মুখিয়ে আছে ভাল কিছু করার জন্য।

একই সময়ে প্রি-কোয়ার্টার ফাইনালের আরেক ম্যাচে মুখোমুখি হচ্ছে ইংল্যান্ডের টটেনহ্যাম হটস্পার ও জার্মানির বরুশিয়া ডর্টমুন্ড। লন্ডনের বিখ্যাত ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামে হবে হাইভোল্টেজ ম্যাচটি। যা কোনদিন হয়নি গত মৌসুমে সেটাই করে দেখিয়েছে রিয়াল। চ্যাম্পিয়ন্স লীগের ইতিহাসে প্রথম ক্লাব হিসেবে টানা তৃতীয় অর্থাৎ ঐতিহাসিক হ্যাটট্রিক শিরোপা জয়ের বিশ্বরেকর্ড গড়ে স্প্যানিশ পরাশক্তিরা। গত বছরের মে মাসে ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে ২০১৭-১৮ মৌসুমের ফাইনালে ইংলিশ জায়ান্ট লিভারপুলকে ৩-১ গোলে হারিয়ে এ কৃতিত্ব দেখায় গ্যালাক্টিকোরা। চ্যাম্পিয়ন্স লীগ নামকরণ হওয়ার পর এমন ঘটনা আর দ্বিতীয়টি নেই। এর আগে ১৯৭৬ সালে জার্মান ক্লাব বেয়ার্ন মিউনিখ প্রথম দল হিসেবে হ্যাটট্রিক শিরোপা জিতেছিল। কিন্তু তখন এই আসরের নাম ছিল ইউরোপিয়ান কাপ। আধুনিক যুগে তাই রিয়াল প্রথম দল হিসেবে বিরল এই রেকর্ড গড়েছে।

গত পাঁচ বছরে রিয়ালের এটি চতুর্থ শিরোপা। সবমিলিয়ে টুর্নামেন্টের ইতিহাসে রেকর্ড সর্বোচ্চ ১৩তম শিরোপা। চ্যাম্পিয়ন্স লীগ মানেই এখন যেন রিয়ালের শিরোপা জয়। এটা যেন অবধারিতই হয়ে গেছে। অন্য আসরে খুব একটা ভাল না করলেও ইউরোপ শ্রেষ্ঠত্বের আসরে নিজেদের চেনা রূপে হাজির হয় দলটি। যেন এই ট্রফিটি তাদের পৈত্রিক সম্পত্তি। ফরাসী কিংবদন্তি জিনেদিন জিদানের হাত ধরে অসম্ভবকে সম্ভব করে রিয়াল। অথচ খেলোয়াড়ী জীবনে খুব একটা ভাগ্যবান ছিলেন না তিনি। ২০০৬ বিশ্বকাপে একক প্রচেষ্টায় ফ্রান্সকে ফাইনালে তুললেও একটা মুহূর্তের কাছে হেরে গিয়ে সব জলাঞ্জলি দিতে হয়। ওই বিশ্বকাপটা তিনি পেয়ে গেলে হয়তো তাকেই সবাই সর্বকালের সেরা খেলোয়াড় হিসেবে মেনে নিতো।

১৯৯৮ চ্যাম্পিয়ন্স লীগের ফাইনালেও জুভেন্টাসের অন্যতম সেরা দল নিয়ে হেরেছিলেন ধুঁকতে থাকা রিয়াল মাদ্রিদের কাছে। এরপর রিয়াল মাদ্রিদে আসলে এতসব তারকা খেলোয়াড় নিয়েও কেবল একটি লা-লিগা আর একটি চ্যাম্পিয়ন্স লীগ জিতেছেন। খেলোয়াড়ী জীবনে ভাগ্যদেবী তার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিলেও কোচিং ক্যারিয়ারে যেন ভাগ্যদেবী দু’হাত ভরে দিচ্ছেন জিদানকে। ২০১৬ সালে মৌসুমের মাঝপথে রিয়ালের দুঃসময়ে দলের দায়িত্ব নেন ফরাসী কিংবদন্তি। তখনই যেন পণ করেছিলেন খেলোয়াড়ী জীবনের সকল অপূর্ণতা তিনি ঘুচিয়ে দেবেন কোচিং ক্যারিয়ারে। সেই থেকে তার সাফল্যের জয়যাত্রা চলছেই। কোচিং ক্যারিয়ারে মাত্র আড়াই বছরেই নয় নয়টি শিরোপা উপহার দিয়েছেন রিয়াল মাদ্রিদকে। যার মাঝে রয়েছে তিনটি চ্যাম্পিয়ন্স লীগ এবং একটি লা লিগা শিরোপা।

ইতোমধ্যেই স্যার এ্যালেক্স ফার্গুসন, পেপ গার্ডিওলা ও জোশে মরিনহোর মতো কিংবদন্তি কোচদের পেছনে ফেলেছেন জিদান। তাদের প্রত্যেকেই এতো বছর ধরে কোচিং করিয়েও দুইটির বেশি চ্যাম্পিয়ন্স লীগ শিরোপা জিততে পারেননি। এখানেই অনন্য জিদান। নিজের প্রথম তিন সিজনেই জিতে নিয়েছেন তিনটি চ্যাম্পিয়ন্স লীগ শিরোপা। সেই সঙ্গে চ্যাম্পিয়ন্স লীগ নামকরণের পর টানা তিনটি চ্যাম্পিয়ন্স লীগ জেতা দলের কোচও তিনি। কিন্তু অসাধ্য সাধন করার পরই রিয়ালকে বিদায় জানিয়েছেন তিনি। বর্তমানে বিশ্রামে আছেন। জিজু ডাগআউট ছেড়ে যাওয়ার পর থেকেই ধুঁকতে হচ্ছে রিয়ালকে। এবার তাদের সামনে টানা চতুর্থ শিরোপার সুযোগ। এ লক্ষ্যে প্রথম রাউন্ড পার হলেও এবার শুরু হচ্ছে নকআউট পর্বের কঠিন চ্যালেঞ্জ।