২৩ ফেব্রুয়ারী ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বঙ্গমাতা গোল্ডকাপ আন্তর্জাতিক মহিলা ফুটবল

  • কে-স্পোর্টস মিডিয়া প্রচারস্বত্ব দিল আরটিভিকে

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) পরিকল্পনায় নিয়মিত আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট হয় একটি। সেটি ‘বঙ্গবন্ধু গোল্ড কাপ।’ ১৯৯৬ সাল থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত এই ২২ বছরে অনিয়মিতভাবে টুর্নামেন্টটি আয়োজিত হয়েছে মাত্র পাঁচবার। অথচ মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে বাফুফে সভাপতি কাজী মোঃ সালাউদ্দিন জোর গলায় দাবি করলেন তারা নাকি এই টুর্নামেন্টটি নিয়মিতই আয়োজন করে আসছেন। অথচ বাস্তবতা হলোÑ সালাউদ্দিনের কমিটি এই আসরটি আয়োজন করেছে চার বছরে তিনবার। ২০১৭ সালে টুর্নামেন্টটি হয়নি। তাছাড়া তিনি তো ২০০৮ সাল থেকেই বাফুফের সভাপতি পদে আছেন। তার মানে ১১ বছরে মাত্র তিনবার টুর্নামেন্ট হয়েছে। সেক্ষেত্রে স্বভাবতই প্রশ্ন ওঠেÑ তাহলে এটা নিয়মিত টুর্নামেন্ট কিভাবে হলো?

এবার তাদের ক্যালেন্ডারে যুক্ত হচ্ছে আরেকটি আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে। তার নাম ‘বঙ্গমাতা অনুর্ধ-১৯ মহিলা আন্তর্জাতিক গোল্ড কাপ’। প্রথমবারের মতো আয়োজিত মেয়েদের এই আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টটি হবে ঢাকায়। যার ভেন্যু হবে বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়াম এবং কমলাপুরের বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহী মোঃ মোস্তফা কামাল স্টেডিয়াম। আগামী ২৩ এপ্রিল থেকে ৩ মে পর্যন্ত এই টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত হবে। বাংলাদেশসহ ছয় দেশ খেলবে মেয়েদের এ টুর্নামেন্টে। ইতোমধ্যেই প্রথম বিদেশী দল হিসেবে এই আসরে খেলার জন্য সম্মতি দিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত।

বঙ্গমাতা ফুটবলের সম্প্রচার স্বত্ব কিনেছে কে. স্পোর্টস। এ মার্কেটিং এজেন্ট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বাফুফে আগেই চুক্তি করেছিল। মঙ্গলবার চুক্তি হয়েছে বেসরকারী টিভি চ্যানেল আরটিভির সঙ্গে। টুর্নামেন্টের সব ম্যাচ সরাসরি সম্প্রচার করবে এই চ্যানেলটি। বাফুফে ভবনে অনুষ্ঠিত টুর্নামেন্টের স্বত্বাধিকারী কে. স্পোর্টস ও ব্রডকাস্ট পার্টনার আরটিভির মধ্যে চুক্তি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। কে. স্পোর্টসের পক্ষে প্রতিষ্ঠানের সিইও ফাহাদ এমএ করিম এবং আরটিভির পক্ষে চ্যানেলটির সিইও সৈয়দ আশিক রহমান চুক্তিপত্রে স্বাক্ষর করেছেন। এ সময় বাফুফের সিনিয়র সহ-সভাপতি আবদুস সালাম মুর্শেদী, সহসভাপতি মহিউদ্দিন মহি, কে. স্পোর্টসের পরিচালক আশফাক আহমেদ, ফিফা কাউন্সিল মেম্বার ও বাফুফে সদস্য মাহফুজা আক্তার কিরণ, সাধারণ সম্পাদক আবু নাইম সোহাগ উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন মিডিয়া ব্যক্তিত্ব শান্তা ইসলাম, আতাউর রহমান, আজিজুল হাকিম ও চয়নিকা চৌধুরীসহ আরও অনেকে।

পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, ‘বঙ্গমাতা অনুর্ধ-১৯ নারী আন্তর্জাতিক গোল্ড কাপে সরকার সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে। আমরা বাঙালীরা খেলা নিয়ে গর্ববোধ করি। আমাদের সরকার খেলাধুলায় যতটুকু সম্ভব ব্যয় করতে চায়। বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব ছিলেন এক মহিয়ষী নারী। তার নামে এই ফুটবল টুর্নামেন্ট সুন্দর ও সুষ্ঠু হবে বলেই আমরা বিশ্বাস করি। আগামীতে এ টুর্নামেন্টে আরও দল বাড়বে এবং পুরো বিশ্বে সম্প্রচার হবে। আমাদের সরকার খেলাধুলার উন্নয়নে আন্তরিক। বাফুফে থেকে ফুটবল উন্নয়নে বাস্তবসম্মত প্রস্তাবনা পাঠালে তা আমরা অবশ্যই বিবেচনা করে দেখব।’

আরটিভির সিইও সৈয়দ আশিক রহমান বলেন, ‘আমরা শুধু টিভিতেই খেলা দেখাব না, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও টুর্নামেন্টের ক্যাম্পিং করব। ম্যাচ সম্প্রচারে কোন বিরতি থাকবে না। প্রতি রাতে টুর্নামেন্টের হাইলাইটস প্রচার করা হবে। ‘এগিয়ে যাওয়ায় নেই মানা’ শিরোনামে আমরা ৯টির মতো ওয়েব সিরিজ তৈরি করব। টুর্নামেন্টকে উচ্চতর জায়গায় নিয়ে যেতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’

এর আগে গত জানুয়ারিতে বঙ্গমাতা গোল্ড কাপের বিপণন স্বত্ব পাওয়া কে. স্পোর্টসের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর করে বাফুফে। চুক্তি অনুযায়ী টুর্নামেন্টের পুরো খরচ বহন করা ছাড়াও বাফুফেকে ২৫ লাখ টাকা দেয়ার কথা জানায় প্রতিষ্ঠানটি।

কে. স্পোর্টসের সিইও ফাহাদ করিম বলেছেন, ‘মেয়েদের ফুটবলে দীর্ঘদিন ধরেই সাফল্য আসছে। সেই কৃতিত্ব বাফুফের। তাদের সাফল্য দেখে বিভিন্ন স্পন্সর এগিয়ে এসেছে। এই টুর্নামেন্ট দিয়ে ব্রডকাস্টিংয়ে নতুন যাত্রা শুরু করতে যাচ্ছি। অনুর্ধ-১৯ এ টুর্নামেন্টের অনেক মহিলা দর্শক হবে। যাদের অনেকের পক্ষে হয়তো মাঠে এসে ম্যাচ দেখা সম্ভব হবে না। আরটিভি যে উদ্যোগটি নিয়েছে তারজন্য তাদের ধন্যবাদ জানাই।’