১৮ এপ্রিল ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

টেনিস কোর্টের সেরা গ্ল্যামারগার্ল

  • শেখ শাহ্রিন আক্তার চাঁদনী

* মারিয়া শারাপোভা ॥ তালিকার ১০ নম্বরে আছেন ৩১ বছর বয়সী রাশিয়ান তারকা মারিয়া শারাপোভা। শুধু রূপেই নয়, কোর্টেও দারুণ সাফল্য পেয়েছেন এই রুশ সুন্দরী। বর্তমানে র‌্যাঙ্কিংয়ে ২৯ নম্বরে থাকলেও ২০০৫ সালে প্রথমবার ওয়ার্ল্ড নাম্বার ওয়ান হন তিনি। ক্যারিয়ারে ৬৪৩ জয় ও ১৬৪ পরাজয়ের ট্যালিতে ৩৬টি ওয়ার্ল্ড ট্যুর ও চারটি আইটিএফ (৫টি গ্র্যান্ডস্ল্যামসহ) জিতেছেন ডানহাতি ছয় ফুট দুই ইঞ্চি উচ্চতার ডানহাতি এই তারকা।

* ক্যারোলিন ওজনিয়াকি ॥ নয় নম্বরে আছেন ২৮ বছর বয়সী ডেনমার্কের ড্যানিশ টেনিস তারকা ক্যারোলিন ওজনিয়াকি। বর্তমানে র‌্যাঙ্কিংয়ে ৯ নম্বরে থাকা এই সুন্দরী ২০১১ সাল থেকে টানা ৬৭ সপ্তাহ ছিলেন ওয়ার্ল্ড নম্বর ওয়ান। ৩০টি ওয়ার্ল্ড ট্যুর ও চারটি আইটিএফ (১টি গ্র্যান্ডস্ল্যামসহ) টাইটেল জিতেছেন তিনি।

* আনা কুর্নিকোভা ॥ তালিকার ‘সারপ্রাইজ প্যাকেজ’ বলা যায় ৩৭ বছর বয়সী রুশ গ্ল্যামার কুইন আনা কুর্নিকোভাকে। তবে টেনিস কোর্টে ততটা সফল ছিলেন না তিনি। বর্তমানে অবসরে থাকা এই বিশ্ব কাঁপানো সুন্দরীর সর্বোচ্চ ক্যারিয়ার র‌্যাঙ্কিং ছিল ১৬। মাত্র দুটি আইটিএফ টাইটেল জিততে পেরেছিলেন তিনি। তবে এককে ব্যর্থ হলেও দ্বৈতে ছিলেন মোটামুটি সফল। ১৬টি ডব্লিউটিএ টাইটেল জিতেছিলেন। এর মধ্যে ২টি ছিল গ্র্যান্ডস্ল্যাম।

* এ্যাশলে হার্কলারোড ॥ তালিকার সাত নম্বরে থাকা ৩৩ বছর বয়সী মার্কিনকন্যা এ্যাশলে হার্কলারোড কোর্টে যতটা আলোচিত, বাইরের ঘটনাবলীতে তারচেয়ে কম আলোচিত নন। টেনিস ইতিহাসের প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে ‘প্লেবয়’ ম্যাগাজিনের জন্য একবার সম্পূর্ণ নগ্ন হয়েছিলেন তিনি! তার সর্বোচ্চ ক্যারিয়ার র‌্যাঙ্কিং ৩৯। জিতেছেন আটটি আইটিএফ টাইটেল।

* আনা ইভানোভিচ ॥ ৩১ বছর বয়সী এই সার্বিয়ান সুন্দরী আছেন তালিকার ছয় নম্বরে। টেনিস কোর্টে ১৫টি ওয়ার্ল্ড ট্যুর ও ৫টি আইটিএফ শিরোপা জেতা আনা ইভানোভিচ নিয়মিত বিভিন্ন ম্যাগাজিনের জন্য মডেলিংও করেন। উষ্ণ ভঙ্গিমায় তার বিভিন্ন ছবি দেখেছে সারা বিশ্বের ভক্তরা। ২০১৬ সালে টেনিস থেকে অবসর নিয়েছেন। ২০০৮ সালে র‌্যাংকিংসেরা হওয়া এই টেনিস সুন্দরী মাত্র একটিই গ্র্যান্ডস্ল্যাম জিতেছেন।

* সানিয়া মির্জা ॥ ভারত কাঁপানো সুন্দরী ৩২ বছর বয়সী সানিয়া মির্জা টেনিসের সেরা সুন্দরীর তালিকার পাঁচ নম্বর জায়গাটি দখল করেছেন। ভারতের সর্বোচ্চ আয় করা ক্রীড়াবিদদের একজন তিনি। আলোচিত এক বিয়ে করে জীবনসঙ্গী করেছেন পাকিস্তানের ক্রিকেট তারকা শোয়েব মালিককে। ক্যারিয়ারে সর্বোচ্চ ২৭ নম্বর র‌্যাঙ্কিংয়ে ছিলেন এই সুন্দরী। একক ক্যারিয়ার খুব একটা সমৃদ্ধ না হলেও (১টি ডব্লিউটিএ এবং ১৪টি আইটিএফ টাইটেল, কোন গ্র্যান্ডস্ল্যাম ট্রফি নেই) দ্বৈত ও মিশ্র দ্বৈত ক্যারিয়ারে দারুণ সফল হয়েছেন কদিন আগেই সন্তানের জননী হওয়া সানিয়া। ৪১টি ডব্লিউটিএ এবং ৪টি আইটিএফ টাইটেল জিতেছেন। এর মধ্যে আছে ৩টি গ্র্যান্ডস্ল্যাম ট্রফি। ২০১৫ সালে ক্যারিয়ারসেরা র‌্যাঙ্কিং ১-এ ছিলেন। যদিও বর্তমানে সেটা গিয়ে দাঁড়িয়েছে ১৬-তে। এছাড়া মিশ্র দ্বৈতে সানিয়া জিতেছেন ৩টি শিরোপা, ৩টিই গ্র্যান্ডস্ল্যাম ট্রফি।

* ডমিনিকা সিবুলকোভা ॥ সুন্দরী-তালিকার চার নম্বরে আছেন ২৯ বছর বয়সী এই সেøাভাকিয়ান। বর্তমানে র‌্যাঙ্কিংয়ের ২৬ নম্বরে থাকলেও একসময় ক্যারিয়ারে সবচেয়ে ভাল ৪ নম্বর অবস্থানেও উঠেছিলেন (২০১৭ সালের মার্চে) সোনালি চুলের অধিকারিণী এই তারকা। কোন গ্র্যান্ডস্ল্যাম ট্রফি না জিতলেও করায়ত্ত করেছেন ৮টি ডব্লিউটিএ এবং ২টি আইটিএফ টাইটেল।

* মারিয়া কিরিলেঙ্কো ॥ তালিকার তিন নম্বর অবস্থানে আছেন ৩২ বছর বয়সী এই রুশ সুপার মডেল ও টেনিস তারকা। কোর্টে পড়তি ফর্ম ও চোটের কারণে ২০১৪ সালের পর থেকে আর খেলেননি। তখন তার র‌্যাঙ্কিংয়ের চরম অবনতি হয়েছিল। তখন র‌্যাঙ্কিং গিয়ে ঠেকেছিল ১৫৫ নম্বরে। যদিও ২০১৩ সালের জুনে উঠে এসেছিলেন দশ নম্বরে। অত্যন্ত আকর্ষণীয় সুন্দরী এই টেনিস তারকাকে প্রথম দেখায় হলিউডের অভিনেত্রী ভবে ভুল হতে পারে অনেকেরই! ক্যারিয়ারে কোন গ্র্যান্ডস্ল্যাম না জিতলেও জিতেছেন ৬টি ডব্লিউটিএ এবং ৩টি আইটিএফ টাইটেল। এছাড়া ২০১২ লন্ডন অলিম্পিকে জিতেছেন দ্বৈতে তা¤্রপদক।

* ড্যানিয়েলা হান্তুচোভা ॥ ৩৫ বছর বয়সী আরেক সেøাভাকিয়ান বিউটি কুইন ড্যানিয়েলা হান্তুচোভা আছেন সেরা সুন্দরী তালিকার দুই নম্বর অবস্থানে। মাঠে দারুণ পরিশ্রম করে খেলা এই তারকা রূপের জালে আকৃষ্ট করেছেন কোটি কোটি ভক্তকে। ১৯৯৯ সালে ক্যারিয়ার শুরু করে থেমেছেন ২০১৭ সালে। ২০০৩ সালে ক্যারিয়ারসেরা র‌্যাঙ্কিংয়ে পাঁচ নম্বরে ছিলেন তিনি। ক্যারিয়ারে কখনও গ্র্যান্ডস্ল্যাম না জিতেলেও জিতেছেন ৭টি ডব্লিউটিএ এবং ৩টি আইটিএফ টাইটেল।

* এলেনা দেমেন্তিয়েভা ॥ তালিকার শীর্ষস্থানটি অধিকার করেছেন ৩৭ বছর বয়সী রুশ সুন্দরী এলেনা দেমেন্তিয়েভা। তার ক্যারিয়ার কাল ছিল ১৯৯৮-২০১০ সাল পর্যন্ত। যতদিন খেলেছেন, ছিপছিপে আকর্ষণীয় শরীরের অধিকারিণী ছিলেন এই স্বর্ণকেশী। ২০০০ সালের সিডনি অলিম্পিকে রৌপ্যপদক ও ২০০৮ সালের বেজিং অলিম্পিকে জিতেছিলেন স্বর্ণপদক। ক্যারিয়ারে সর্বোচ্চ তিন নম্বর র‌্যাঙ্কিংয়ে ছিলেন মাত্র ১৩ বছর বয়সে নিজের প্রথম টেনিস শিরোপা জেতা এই তারকা। কোন গ্র্যান্ডস্ল্যাম না জিতলেও জিতেছেন ১৬টি ডব্লিউটিএ এবং ৩টি আইটিএফ টাইটেল।

‘স্পার্টাক টেনিস ক্লাবে’ তিন বছর প্রশিক্ষণ নেন এলেনা। তাকে কোচিং করান রাওজা ইসলানোভা, তিনি দুই রাশান বিখ্যাত টেনিস খেলোয়াড় মারাত সাফিন ও দিনারা সাফিনের মা। মজার ব্যাপার হল, এলেনার বয়স যখন ১১, তিনি গিয়ে ভর্তি হলেন সেন্ট্রাল রেড আর্মি টেনিস ক্লাবে। এই সেই ক্লাব, চার বছর আগে যেখানে তার ঠাঁই হয়নি! ক্লাবটি এক পর্যায়ে স্বীকার করতে বাধ্য হয়, তারা সেবার এলেনাকে না নিয়ে ভুলই করেছিল। ১৯৯৭। ১৩ বছর বয়সে আন্তর্জাতিক টেনিসে অভিষেক হয় এলেনার। তার প্রথম টুর্নামেন্ট ‘লেস পেতিত এস ওপেন।’ এর ফলে ডাব্লিউটিএ র‌্যাঙ্কিংয়ে তিনি ৫০০তম খেলোয়াড় হিসেবে যাত্রা শুরু করেন। ১৯৯৮ সালে প্রবেশ করেন পেশাদারী সার্র্কিটে। এক বছর পরেই র‌্যাঙ্কিংয়ের ১০০ জনের মধ্যে চলে আসেন। ১৯৯৯ সালে দেশের হয়ে অংশ নেন ‘ফেড কাপে।’ প্রতিপক্ষ যুক্তরাষ্ট্র। রাশিয়া হেরে গেলেও একমাত্র পয়েন্টটি লাভ করে এলেনার কল্যাণে। পাওয়ার টেনিসের অন্যতম প্রবক্তা হিসেবে যাকে চেনে সবাইÑসেই ভেনাস উইলিয়ামসকে হারিয়ে টেনিসবিশ্বে তোলপাড় সৃষ্টি করেন। ২০০০ সালে ইউএস ওপেনের তৃতীয় রাউন্ডে ওঠার মাধ্যমে র‌্যাঙ্কিংয়ের সেরা ২০ জনের তালিকায় চলে আসেন। তবে সেমিতে হেরে যান যুক্তরাষ্ট্রের লিন্ডসে ডেভেনপোর্টের কাছে। একই বছরে প্রথমবারের মতো অলিম্পিকের আসরে অংশ নেন। জেতেন রূপা। সোনা ছিনিয়ে নেন ভেনাস উইলিয়ামস। এলেনার এই উদ্ভাসিত সাফল্যে ২০০০ সালের ডাব্লিউটিএ ট্যুরের ‘মোস্ট ইমপ্রুভড প্লেয়ারের’ খেতাব পান। ২০০২ সালে মস্কো ওপেনে হারিয়ে দেন সুইজারল্যান্ডের মার্টিনা হিঙ্গিসকে। তাকে পরাভূত করে ক্যারিয়ারে প্রথমবারের মতো ১নং র‌্যাঙ্কধারীকে হারানোর কৃতিত্ব দেখান। ওই আসরেই ফাইনালে ওঠেন। তবে হেরে যান অস্ট্রেলিয়ার জেলেনা ডকিচের কাছে। ২০০৩ সালে অফুরন্ত প্রাণশক্তির খেলোয়াড় হিসেবে সবচেয়ে বেশি টুর্নামেন্টে (২৭টি) অংশ নেয়ার রেকর্ড গড়েন। যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার এমেলিয়া আইল্যান্ডে ‘বাউশ্চ এন্ড লম্ব চ্যাম্পিয়নশীপে’ অংশ নিয়ে তাতে শিরোপা জেতেন। এটা তার ডাব্লিউটিএ ট্যুরের প্রথম টাইটেল। ২৪ বছরের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি বাছাই র‌্যাঙ্ক (১০ম) নিয়ে ডব্লিউটিএ ট্যুরের শিরোপা করায়ত্তের কৃতিত্ব দেখান। ক্যারিয়ারে প্রথম শীর্ষ দশে উন্নীত হন। ২০০৪ সালের ৫ এপ্রিল তিনি সিক্সথ পজিশনে চলে আসেন। সে বছরই ফ্রেঞ্চ ওপেনে ডেভেনপোর্ট, সুয়ারেজ ও মরেসমোকে হারিয়ে ক্যারিয়ারে প্রথমবারের মতো কোন গ্র্যান্ডসø্যাম টুর্নামেন্টের ফাইনালে ওঠেন। মুখোমুখি হন মিসকিনার। এটা ছিল কোন গ্র্যান্ডসø্যামের ‘অল রাশান ফাইনালের’ মাত্র দ্বিতীয় নজির। দুর্ভাগ্য এলেনার। শিরোপা জিততে ব্যর্থ হন। ২০০৯। জেতেন সিডনি ওপেন। এককে টানা ১৫টি ম্যাচ জেতার পর এলেনার বিজয়রথ থামিয়ে দেন সেরেনা। জানুয়ারিতে ‘ম্যারি ক্যারি রাশিয়া’ ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে খোলামেলা ভঙ্গিমায় ছবি তুলে পুরুষদের স্বপ্নদেবীতে পরিণত হন। সে বছরেই ইউএস ওপেন শেষ হবার পর রাশান প্রেসিডেন্ট দিমিত্রির কাছ থেকে ‘অর্ডার অব অনার’ পুরস্কার গ্রহণ করেন।

মারিয়া শারাপোভা ও তাকে নিয়ে অরোরা, কলারোডার গানের দল ‘ব্লু ডগ এন্ড স্পঞ্জি কেক’ একটি গান রচনা করে। নাম ‘দেমেন্তাপোভা।’

নির্বাচিত সংবাদ