২৩ ফেব্রুয়ারী ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

রোহিঙ্গাদের পূর্ণ নাগরিক অধিকার দিয়ে ফিরিয়ে নিতে হবে ॥ পরিকল্পনামন্ত্রী

স্টাফ রিপোর্টার ॥ রাখাইনে ভিটেমাটি ফেলে আসা রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে অবশ্যই মিয়ানমারকে পূর্ণাঙ্গ নাগরিক অধিকার দিয়ে ফিরিয়ে নিতে হবে বলে জানিয়েয়েছেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ অত্যন্ত ধৈর্য ও সহিষ্ণুতার সঙ্গে রোহিঙ্গা সমস্যা মোকাবেলা করে আসছে। শেখ হাসিনার সফল ক‚টনৈতিক প্রচেষ্টায় বিষয়টি আজ বিশ্ব বিবেককে ব্যাপকভাবে নাড়া দিয়েছে।

মঙ্গলবার বিকেলে কাকরাইলে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশ (আইডিইবি) আয়োজিত রোহিঙ্গা সমস্যা- বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

রোহিঙ্গা সমস্যার ন্যায় জটিল বিষয়টি বাংলাদেশের পক্ষে একা সমাধান দেয়া সম্ভব নয়। মন্ত্রী এ সমস্যা সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে বাংলাদেশের পাশে এগিয়ে আসার আহŸান জানান। শুধু ক্ষতিপূরণ দিয়ে এ সমস্যার সমাধান সম্ভব নয় বলে মন্ত্রী অভিমত ব্যক্ত করেন।

পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, একটি ঘরে আগুন লাগলে প্রথম কাজ হলো আগুন নেভানো। লোকগুলো দেশ ছেড়ে আমাদের এখানে এসেছে আমাদের প্রধানমন্ত্রী মানবিক দিক হিসেবে এদের আশ্রয় দিয়েছেন। বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক নানা প্রতিক‚লতা সত্তে¡ও মানবতাবোধ থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়েছেন। কিন্তু তাদের ফিরে যেতেই হবে। তাদের (রোহিঙ্গা) ভিটেমাটি আছে। ’৭১ এ যুদ্ধের সময় আমাদের এক কোটি মানুষ বিভিন্ন কারণে প্রতিবেশী রাষ্ট্রে আশ্রয় নিয়েছিল। নিজের ভূমি ছেড়ে যাওয়া কি যে ব্যথা তা অন্য কেউ বুঝে না বলেও জানান মন্ত্রী।

পররাষ্ট্র নীতির কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, আমাদের নীতি হলো সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব কারও সঙ্গে শত্রæতা নয়। বিষয়টি কূটনৈতিকভাবে সমাধান হবে আশা করছি। ভারতের মতো মিয়ানমারও আমাদের প্রতিবেশী। আমাদের বিশ্বাস এটির সামধান করতে পারব। মূল প্রবন্ধে ক্ষয়ক্ষতি হিসাব আর্থিক দিক দিয়ে ফুটিয়ে তোলা প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, এদের উপর যে লাঞ্ছনা, ধর্ষণ, বাড়িঘর থেকে বিতাড়ন এসবের মূল্য দেয়া সম্ভব হয় না। তবে ক্ষতিপূরণের হিসেবে যদিও অর্থের বিষয়টি আসে। মূল কথা হলো তারা ফিরে যাক নিজের ঘরে। সরকার দৃঢ়ভাবে অন্য সমস্যার ন্যায় এটির সমাধান করবে বলে জানান পরিকল্পনামন্ত্রী।

আইডিইবির সভাপতি এ কে এম এ হামিদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যদের মাঝে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনের সভাপতি ড. কাজী খলীকুজ্জামান আহম্মদ, সংসদ সদস্য মোয়াজ্জেম হোসেন রতন, আইএমও’র প্রতিনিধি জজ জিগারি, ইউএনডিপির আবাসিক প্রতিনিধি মিসেস হাইকা, পুলিশের এআইজি নাসরিন প্রমুখ। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন আইডিইবির সাধারণ সম্পাদক মোঃ শামসুর রহমান। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সুইনবার্ন ইউনিভার্সিটি, অস্ট্রেলিয়ার বিজনেস এ্যান্ড ল ফ্যাকাল্টির প্রফেসর ক্রিস্টিন জব ও আন্তর্জাতিক বিজনেস প্রোগ্রামের পরিচালক ড. মহসীন হাবিব।

বিশেষ অতিথি হিসেবে পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ড. কাজী খলীকুজ্জামান আহম্মদ বলেন, রোহিঙ্গা ইস্যু বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক ও পরিবেশগত সমস্যা সৃষ্টি করেছে। এ সমস্যা মোকাবেলায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় থেকে যে পরিমাণ সাহায্য সহযোগিতা প্রয়োজন ছিল, তা পাওয়া যায়নি। বাংলাদেশের একার পক্ষে এদের দেখাশোনা করা সম্ভব নয়। বিশ্ব সম্প্রদায়ের দায়িত্ব নিতে হবে। নয়তো প্রয়োজনীয় সুবিধার অভাবে এখান থেকেই সন্ত্রাসী তৈরি হতে পারে। এখান থেকে ফিরে গিয়ে নিজের ঘরে গিয়ে যেন আবার এই সম্প্রদায় মার না খায় সেটিও নিশ্চিত করতে হবে। আমাদের টেকসই উন্নয়নের ক্ষেত্রেও বিষয়টি বাধার সৃষ্টি করছে তাই এর সুন্দর সমাধান প্রয়োজন বলেন এই অর্থনীতিবিদ।

আইএমও প্রতিনিধি বলেন, রোহিঙ্গাদের স্বদেশে প্রত্যাবাসন ও পুনর্বাসন নয়, তাদের মানসিক ও সামাজিকভাবে যে ক্ষত সৃষ্টি হয়েছে, তা দূর করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে মিয়ানমার সরকারের ওপর চাপ প্রয়োগ করতে হবে।

পুলিশের এআইজি নাসরিন বলেন, রোহিঙ্গা ইস্যুতে কক্সবাজার জেলায় সাধারণ মামলার চেয়ে বর্তমানে মামলার সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। নিজ জায়গায় ফিরিয়ে দিতে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক সবার ভূমিকা প্রয়োজন বলে জানান।

মূল প্রবন্ধে মিয়ানমার সেনাবাহিনী রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর যে অমানুষিক নির্যাতন, নিপীড়ন ও ক্ষয়ক্ষতি করেছে তার একটি ধারণা চিত্র উপস্থাপন করে প্রায় ৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ক্ষয়ক্ষতির হিসাব তুলে ধরা হয়। এছাড়া মানসিক নিপীড়নের ক্ষতি অপূরণীয় বলে উল্লেখ করা হয়। রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে পূর্ণাঙ্গ নাগরিক অধিকার ফিরিয়ে দিয়ে স্বদেশে প্রত্যাবাসন ও পুনর্বাসনসহ ক্ষয়ক্ষতি অর্থ আদায়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে অধিকতর সোচ্চার হওয়ার আহŸান জানানো হয়।

সভাপতির বক্তব্যে এ কে এম এ হামিদ বলেন, সেমিনারে উপস্থাপিত তথ্য উপাত্তসমূহ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তুলে ধরার জন্য বাংলাদেশ সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, ইউএনডিপি ও ক‚টনৈতিক মিশনকে বলিষ্ঠ ভ‚মিকা রাখার আহ্নান জানান।